Will Bengal be flooded with rain this weekend? : বর্ষার সময় মানেই বাংলার জীবনে এক বিশেষ ছন্দ। চাষির চোখে ভরসা, শহরের মানুষের মনে খানিক বিরক্তি, আবার প্রকৃতির বুকে নতুন সবুজের উৎসব। কিন্তু সেই বর্ষা যখন লাগাতার ভারী বৃষ্টিতে নেমে আসে, তখন আনন্দের সঙ্গে সঙ্গে ভেসে ওঠে আতঙ্কও। এবারের মৌসুমেও তেমনই এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দফতর ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের উপর ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়ে নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। তার জেরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে, আর নতুন করে আরও প্রবল বৃষ্টির ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।ইতিমধ্যেই বাঁকুড়ায় প্লাবনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
পাত্রসায়ের ব্লকের ধগড়িয়া থেকে হদলনারায়ণপুর পর্যন্ত যাতায়াতের রাস্তায় বেগে বইছে শালী নদীর জল। ফলে ওই এলাকার মানুষের জীবন কার্যত বিপর্যস্ত। কেউ স্কুলে যেতে পারছেন না, কেউ অফিসের রাস্তা ধরতে পারছেন না। নদীর পানিতে তলিয়ে গেছে বহু রাস্তা। একদিকে প্রকৃতির কাছে অসহায় গ্রামবাসীরা, অন্যদিকে প্রশাসনের টহল ও সতর্কবার্তা—এই দুইয়ের মাঝে কেটে যাচ্ছে মানুষের দিন।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার রাজ্যের ১০ জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রবিবার সেই সংখ্যা বেড়ে হবে ১১। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত পরিস্থিতি একই রকম থাকবে বলে জানানো হয়েছে। শুধু বাঁকুড়া নয়, কলকাতা সহ রাজ্যের একাধিক জায়গায় টানা বৃষ্টিতে জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। দক্ষিণবঙ্গের উপর তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্ত ক্রমেই শক্তি বাড়িয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এর জেরে শনিবার সকাল থেকে নতুন করে প্রবল বৃষ্টি নামতে শুরু করেছে।
আবহাওয়া দফতর ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করেছে। একাধিক জেলায় প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। নীচু জায়গার মানুষদের সরানোর জন্য স্থানীয় দফতরগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে। এদিকে, ডিভিসি (দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন) থেকে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩৩,৫০০ কিউসেক হারে জল ছাড়ার ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। রাজ্যের দুর্যোগ মোকাবিলা দফতর জানিয়েছে, জল ছাড়ার কারণে বাঁকুড়া ছাড়াও হুগলি, হাওড়া, বর্ধমানসহ একাধিক জেলায় নতুন করে প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।