Want to remove the obstacles of enemies? Change your destiny by chanting the Baglamukhi mantra!:মানুষের জীবনে সুখ-দুঃখ, সাফল্য-বিফলতা একসঙ্গে জড়িয়ে আছে। অনেক সময় দেখা যায়, অকারণে জীবনে বারবার বাঁধা আসে। আইনি জটিলতা, কোর্ট-কাছারির ঝঞ্ঝাট, বা শত্রুর ষড়যন্ত্রে মানসিক শান্তি বিঘ্নিত হয়। এই অবস্থায় অনেকেই পরিশ্রম করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পান না। ভারতীয় ধর্মীয় আধ্যাত্মিক পরম্পরায় বিশ্বাস করা হয়—শক্তির উপাসনা মানুষের জীবনে শক্তি সঞ্চার করে, বাধা দূর করে। আর সেই শক্তির অন্যতম রূপ হলেন দেবী বগলামুখী, যাঁকে বলা হয় ‘স্তম্ভন বিদ্যার অধিষ্ঠাত্রী’
দশমহাবিদ্যার অষ্টম রূপ হিসেবে পূজিত হন দেবী বগলামুখী। ভক্তদের বিশ্বাস, তাঁর মন্ত্র জপ করলে শত্রুর বাক্য, কর্ম, এমনকি চিন্তাও স্তব্ধ হয়ে যায়। অর্থাৎ, শত্রুর ষড়যন্ত্র কার্যকর হওয়ার আগেই তা ব্যর্থ হয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, বগলামুখীর মন্ত্রকে বলা হয় ‘ব্রহ্মাস্ত্র’। কারণ এই মন্ত্র শুধু শত্রুদমনেই সীমাবদ্ধ নয়, জীবনে মানসিক স্থিরতা, আত্মবিশ্বাস এবং সাফল্য ফিরিয়ে আনতেও এটি সমান কার্যকর।যে মন্ত্রকে ঘিরে এত ভক্তির জোয়ার, তা হল—
“ওঁ হ্লীং বগলামুখী সর্ব দুষ্টানাং বাচং মুখং পদং স্তম্ভন, জিহ্বাং কীলয় কীলয় বুদ্ধি বিনাশায় হ্লীং ওঁ স্বাহা” বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ভোরে বা সন্ধ্যায় দেবীর সামনে বসে এই মন্ত্র ১০৮ বার জপ করা অত্যন্ত শুভ। ভক্তরা সাধারণত হলুদ আসনে বসে, হলুদের মালা বা রুদ্রাক্ষ দিয়ে জপ করেন। কারণ হলুদ দেবী বগলামুখীর প্রিয় রঙ। এই প্রক্রিয়াই ভক্তকে আধ্যাত্মিকভাবে শক্তিশালী করে তোলে।

যেহেতু এটি একান্তই আধ্যাত্মিক এবং ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয়, তাই সরকারের তরফে কোনও মন্তব্য বা অবস্থান এখানে নেই। তবে ভারতের বিভিন্ন মন্দিরে এবং আধ্যাত্মিক কেন্দ্রগুলোতে দেবী বগলামুখীর পুজো ও মন্ত্রজপের বিশেষ আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনগুলোতে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা থাকে যাতে ভক্তরা নির্বিঘ্নে তাঁদের সাধনা ও উপাসনা করতে পারেন।

ভক্তদের দাবি, বগলামুখীর মন্ত্র তাঁদের জীবনের নানা সমস্যার সমাধান করেছে। কেউ কেউ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা কোর্ট-কাছারির মামলা মন্ত্র জপের পর অপ্রত্যাশিতভাবে মীমাংসা হয়েছে। কেউ আবার জানান, শত্রুর কূটচাল বা অকারণ বাধা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়েছে। ভক্তরা মনে করেন, এই মন্ত্র তাঁদের শুধু বাহ্যিক সমস্যার সমাধানই দেয়নি, বরং ভেতরের ভয়, সংশয় দূর করে এক নতুন আত্মবিশ্বাস জাগিয়েছে।

মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, মন্ত্র জপের প্রক্রিয়ায় মানুষের মন শান্ত হয়। নিয়মিত ধ্যান, জপ বা প্রার্থনা মানসিক ভারসাম্য বাড়ায়। ফলে জীবনের সমস্যাগুলোর মোকাবিলা করার শক্তি স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, ধর্মতত্ত্ববিদরা বলেন, বগলামুখীর মন্ত্র মানুষের মনে এই বিশ্বাস গড়ে তোলে যে দেবীর কৃপা তাঁদের উপর রয়েছে। আর এই বিশ্বাসই তাঁদের সংগ্রামে দৃঢ় করে তোলে।একই সঙ্গে, আধ্যাত্মিক বিশ্লেষকরা জানান, বগলামুখীর মন্ত্রে ‘স্তম্ভন শক্তি’র উল্লেখ রয়েছে। এই শক্তির প্রতীকী অর্থ হল—অশুভ শক্তি, নেতিবাচক চিন্তা এবং শত্রুর কুমন্ত্রণা স্তব্ধ করে দেওয়া। ফলে ভক্তরা বিশ্বাস করেন, এই মন্ত্র জপ তাঁদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।

আজকের দিনে জীবনের চাপ, মানসিক দুশ্চিন্তা এবং প্রতিযোগিতার ভিড়ে মানুষ ক্রমেই আধ্যাত্মিকতার দিকে ঝুঁকছেন। এই প্রেক্ষাপটে দেবী বগলামুখীর মন্ত্র ভবিষ্যতেও আরও জনপ্রিয় হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষত যাঁরা শত্রুর ভয়, কোর্ট-কাছারির জটিলতা বা জীবনের অদৃশ্য বাধায় কাবু হয়ে পড়েন, তাঁদের কাছে এই মন্ত্র ভরসার আলো হয়ে উঠতে পারে।
দেবী বগলামুখীর মন্ত্র ভক্তদের কাছে শুধু এক আধ্যাত্মিক আশ্রয় নয়, বরং জীবনের অজস্র বাঁধা অতিক্রম করার এক মানসিক শক্তি। জীবনে যখনই অকারণ বাধা আসে, শত্রুর ষড়যন্ত্রে মন ভারাক্রান্ত হয়, তখন এই মন্ত্র ভক্তদের আত্মবিশ্বাস জোগায়, শান্তি দেয়। শত্রুর বাঁধা স্তব্ধ করে দিয়ে জীবনে এনে দেয় নতুন দিশা।