Video of ‘flying’ astronaut playing baseball seen in space : মহাকাশ মানেই রহস্য, রোমাঞ্চ আর অসাধারণ সব অভিজ্ঞতা! তবে কখনো কি ভেবেছেন, শূন্য মাধ্যাকর্ষণে একজন নভোশ্চর কীভাবে খেলার আনন্দ উপভোগ করতে পারেন? সম্প্রতি, এমনই এক বিরল দৃশ্য ধরা পড়েছে ক্যামেরায়—জাপানের প্রাক্তন নভোশ্চর কোইচি ওয়াকাতা আন্তর্জাতিক মহাকাশকেন্দ্রে নিজের সঙ্গেই বেসবল খেলছেন! হ্যাঁ, নিজের ছোড়া বল নিজেই ব্যাট দিয়ে মারছেন এবং নিজেই আবার সেটি ক্যাচ করছেন! মহাকাশে এই অভিনব খেলার মুহূর্তটি শেয়ার করেছেন আমেরিকার ধনকুবের এবং স্পেসএক্স-এর কর্ণধার ইলন মাস্ক, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
এই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক মহাকাশকেন্দ্রের জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সি (জাক্সা) মডিউলের ভিতরে ভাসমান অবস্থায় বেসবল খেলছেন কোইচি ওয়াকাতা। প্রথমে তিনি বল ছোড়েন, তারপর শূন্য মাধ্যাকর্ষণের কারণে তিনি নিজেও ধীরে ধীরে এগিয়ে যান বলের দিকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যাট তুলে নিয়ে নিজেরই ছোড়া বলে শট মারেন এবং শেষে সেটি ক্যাচও করেন! পৃথিবীতে যেখানে এই কাজটি এক সেকেন্ডের মধ্যেই ঘটে যায়, সেখানে মহাকাশে শূন্য মাধ্যাকর্ষণের কারণে এটি একটি ধীরগতির কিন্তু অত্যন্ত মজাদার অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।
এমন দৃশ্য দেখে মহাকাশপ্রেমীরা যারপরনাই উচ্ছ্বসিত। এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “এটাই প্রমাণ করে যে মহাকাশে থাকলেও মানুষের মন আনন্দ খোঁজে!” আরেকজন বলেছেন, “বেসবল যদি অলিম্পিক স্পোর্টস হত, তবে কোইচি ওয়াকাতা নিশ্চিতভাবেই সেরা প্রতিযোগী হতেন!”
কিন্তু কেন মহাকাশে এমন খেলার দরকার? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় মহাকাশে কাটালে নভোশ্চরদের শরীরে পরিবর্তন আসে। হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে, পেশির শক্তি কমে যায়, এমনকি মানসিক চাপও বেড়ে যায়। তাই মহাকাশচারীদের মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ রাখতে খেলাধুলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মহাকাশ গবেষণার সঙ্গে জড়িত বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই ধরনের কার্যকলাপ ভবিষ্যতে মঙ্গল ও চাঁদের উপনিবেশ স্থাপনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। দীর্ঘ সময় মহাকাশে থাকতে হলে শুধু গবেষণা করলেই হবে না, সেখানে মানুষ কীভাবে নিজেদের দৈনন্দিন জীবন উপভোগ করবে, সেটাও ভাবতে হবে।
এদিকে, স্পেসএক্স প্রধান ইলন মাস্কও এই ভিডিও শেয়ার করে লিখেছেন, “ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহেও হয়তো এভাবেই মানুষ খেলা করবে!” তার এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে মানুষ কল্পনা করতে শুরু করেছে—একদিন হয়তো মহাকাশে নিয়মিত ফুটবল, ক্রিকেট, কিংবা বাস্কেটবল টুর্নামেন্টও হতে পারে!
তবে কোইচি ওয়াকাতা শুধু বেসবল খেলাতেই বিখ্যাত নন। তিনি জাপানের অত্যন্ত অভিজ্ঞ নভোশ্চরদের একজন, যিনি ১৯৯৬ সাল থেকে মহাকাশ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি চারবার মহাকাশে গিয়েছেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আন্তর্জাতিক মহাকাশকেন্দ্রে থাকাকালীন তিনি শুধু গবেষণা নয়, অন্যান্য নভোশ্চরদের অনুপ্রাণিত করতেও কাজ করেছেন।
এই ঘটনা শুধু বিজ্ঞানপ্রেমীদের নয়, সাধারণ মানুষকেও মহাকাশ সম্পর্কে কৌতূহলী করে তুলেছে। মহাকাশ নিয়ে মানুষের আগ্রহ নতুন কিছু নয়, তবে এমন মজাদার ও ব্যতিক্রমী দৃশ্য মানুষের মধ্যে মহাকাশ ভ্রমণের স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।
সত্যিই, আজ যে খেলা কেবল আন্তর্জাতিক মহাকাশকেন্দ্রে একজন নভোশ্চর খেলছেন, কে জানে, হয়তো ভবিষ্যতে আমরা নিজেরাই মহাকাশে উড়ে গিয়ে ক্রিকেট বা ফুটবল খেলার সুযোগ পাব!