US fighter jet breaks down near runway:-আহমেদাবাদ থেকে বাংলাদেশ, ইটালি হয়ে এবার মার্কিন মুলুক—একটার পর একটা বিমান দুর্ঘটনার খবরে যেন গোটা বিশ্বজুড়ে ছড়াচ্ছে আতঙ্ক, আর সেই আতঙ্কে ঘি ঢালল আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় মার্কিন বায়ুসেনার সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ এর ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা, যেখানে রানওয়ের কাছেই হঠাৎ ভেঙে পড়ে এই বহুল আলোচিত ফাইটার জেট, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, মুহূর্তের মধ্যে আগুনের ফুলকি আর কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ, মানুষের মনে তৈরি হয় তীব্র শঙ্কা, তবে সৌভাগ্যবশত পাইলট শেষ মুহূর্তে প্রাণ বাঁচাতে প্যারাশুট নিয়ে বিমান থেকে ঝাঁপ দেন আর সেই কারণেই এক মর্মান্তিক মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচা সম্ভব হয়, কিন্তু এই দুর্ঘটনা যে শুধু একটি বিমান দুর্ঘটনা নয়, বরং মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পের গুণমান ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল, সেটাই এখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে, কারণ জানা গিয়েছে—

দুর্ঘটনার আগে প্রায় পঞ্চাশ মিনিট ধরে পাইলট পাঁচজন ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কনফারেন্স কলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন, কিন্তু ব্যর্থ হন, শেষ পর্যন্ত পাইলটের ঝাঁপ দেওয়াই ছিল একমাত্র উপায়, মার্কিন বায়ুসেনা সূত্রে খবর, ল্যান্ডিং গিয়ার সঠিকভাবে না খোলার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে, যা যান্ত্রিক ত্রুটির সরাসরি ফল, এরও বড় চাঞ্চল্যকর দিক হলো—মাত্র নয় দিন পর একই ঘাঁটিতে আরেকটি এফ-৩৫ বিমানে একই সমস্যা ধরা পড়ে, যদিও সেটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়, কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—এই সমস্যার মূলে কী? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৪ সালে প্রতিরক্ষা দপ্তরের সঙ্গে চুক্তির পর বিমানের দাম কমিয়ে ৮১ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছিল, আর অভিযোগ উঠছে দাম কমানোর চাপ সামলাতে গিয়ে এফ-৩৫ এর গুণমানেই কাটছাঁট হয়েছে, ফলেই পরপর দেখা দিচ্ছে এ ধরনের ত্রুটি, সাধারণ মানুষ থেকে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ—সবাই এই ঘটনার পর ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত, এক প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন—
“আমরা হঠাৎ একটা প্রচণ্ড শব্দ শুনি, তারপর দেখি আগুন জ্বলছে, সবাই ভয়ে আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করে, মনে হচ্ছিল বিস্ফোরণ হবে,” স্থানীয় প্রশাসন জানাচ্ছে, বিমানটি রানওয়ের কাছে ভেঙে পড়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেনি, তবে পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মানসিক আঘাত এতটাই গভীর যে তারা এখনও আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারছেন না, অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন—যদি সর্বাধুনিক ফাইটার জেট এমনভাবে ভেঙে পড়ে তবে যুদ্ধক্ষেত্রে এর ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়, বিশেষ করে ভারত, জাপান, ইজরায়েলের মতো দেশ যারা এই এফ-৩৫ বিমানের উপর নির্ভর করছে, তারা এখন দ্বিধায় পড়েছে, মার্কিন কংগ্রেসের এক সদস্য বলেছেন—“আমরা যদি কোটি কোটি ডলার খরচ করে যুদ্ধবিমান কিনি, আর তা যদি উড়ানের মাঝপথেই বিকল হয়ে যায় তবে সেটি কেবল অর্থের অপচয় নয়, আমাদের সেনাদের জীবনকেও বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে,” ভারতের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ গত কয়েক মাসে ভারতীয় বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বিমানযাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, আহমেদাবাদে বিমান বিপত্তি, বাংলাদেশে বিমান বিধ্বস্ত, ইটালিতে বিমান দুর্ঘটনা—সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক বিমান দুর্ঘটনার তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে, আর তার সঙ্গে যুক্ত হলো আমেরিকার মতো প্রযুক্তিতে শীর্ষ দেশের যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনা, এতে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন আরও বেড়েছে—“আজ যদি যুদ্ধবিমান এভাবে ভেঙে পড়ে, তাহলে যাত্রীবাহী বিমানের ভবিষ্যৎই বা কী?”, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে তারা এফ-৩৫ এর যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে গভীর তদন্ত করছে এবং সমস্যার সমাধানে বিশেষজ্ঞ টিম গঠন করা হয়েছে, তবে সমালোচকরা বলছেন—

শুধু তদন্তে কিছু হবে না, যুদ্ধবিমানের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যেসব খামতি রয়ে গিয়েছে সেগুলো দ্রুত চিহ্নিত না করলে আরও বড় বিপদ হতে পারে, স্থানীয় কমিউনিটির মানুষ এখনো শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন, এক বাসিন্দা সংবাদমাধ্যমকে বলেন—“আমাদের মনে হচ্ছে রানওয়ের কাছে বসবাসই ঝুঁকিপূর্ণ, যখন তখন প্রাণহানি ঘটতে পারে,” পরিস্থিতি সামলাতে স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই এলাকাবাসীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রুখতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা নিয়ে পরিকল্পনা করছে, তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—কেবল স্থানীয় নয়, গোটা বিশ্বের বিমান নিরাপত্তা নিয়েই যে প্রশ্ন উঠছে তার উত্তর কবে মিলবে? আজকের দিনে বিমানযাত্রা সাধারণ মানুষের কাছে স্বপ্নের মতো হলেও নিরাপত্তাহীনতার আতঙ্কে তা দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠছে, একদিকে প্রতিদিনের যাতায়াত, অন্যদিকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র—সব জায়গাতেই আস্থা তৈরি হচ্ছে না, যা আগামী দিনে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা বাণিজ্যকেও প্রভাবিত করতে পারে, ফলে বলা যায়—ক্যালিফোর্নিয়ার এই দুর্ঘটনা কেবল একটি বিমান দুর্ঘটনা নয়, বরং গোটা বিশ্বের বিমান শিল্পের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা, যা সকলকে ভাবাচ্ছে—আকাশে কি তবে আর ভরসা নেই?