Ukrainian drone attack on Engels airbase, hits Russian air force : রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ক্রমেই এক নতুন দিক পাচ্ছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে এই দুই দেশের সংঘাত শিরোনামে উঠে এসেছে। এবার সেই সংঘাত আরও জটিল ও ভয়ানক আকার ধারণ করল ইউক্রেনের একটি উল্লেখযোগ্য ড্রোন হামলার মাধ্যমে। ইউক্রেনের বাহিনী রাশিয়ার সেরাটোভ অঞ্চলের এঙ্গেলস বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়ে রুশ বায়ুসেনাকে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। এই বিমানঘাঁটি রাশিয়ার জন্য অত্যন্ত কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এখানে রাশিয়ার পারমাণবিক বোমারু বিমান, বিশেষ করে টুপোলেভ টু-১৬০, অবস্থান করে। ইউক্রেনের এই হামলা শুধু সামরিক দিক থেকেই নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ড্রোন হামলার ফলে বিমানঘাঁটির রানওয়ে, পার্কিং এলাকায় রাখা সামরিক বিমান এবং অস্ত্রাগারে বিস্ফোরণ ঘটে। এই বিস্ফোরণের পর ঘাঁটিটির বিভিন্ন অংশে দাউ দাউ করে আগুন ছড়িয়ে পড়ে, যা সামলাতে বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এই হামলায় রাশিয়ার বেশ কয়েকটি বোমারু বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন। যদিও রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্ষতির মাত্রা প্রকাশ করেনি, তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই হামলা রাশিয়ার সামরিক শক্তিতে একটি বড়সড় আঘাত হেনেছে।রাশিয়ার এঙ্গেলস বিমানঘাঁটি তাদের অন্যতম প্রধান কৌশলগত সামরিক ঘাঁটি। এখানে পারমাণবিক বোমা বহনকারী টুপোলেভ টু-১৬০ এবং টু-৯৫ বোমারু বিমান রাখা থাকে, যা রাশিয়া ইউক্রেন এবং অন্যান্য অঞ্চলে হামলার জন্য ব্যবহার করে। এই বিমানগুলি দীর্ঘ পাল্লার মিসাইল এবং পারমাণবিক বোমা বহন করতে সক্ষম। এঙ্গেলস বিমানঘাঁটিতে হামলা মানে রাশিয়ার সামরিক কৌশলের ওপর একটি বড় ধাক্কা।
ইউক্রেন দাবি করেছে, এই হামলা ড্রোনের মাধ্যমে চালানো হয়েছে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী এমন একটি ড্রোন ব্যবহার করেছে, যা দীর্ঘ দূরত্বে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইউক্রেন সম্ভবত রাশিয়ার অভ্যন্তরে বেশ কিছু ড্রোন মোতায়েন করে রেখেছে, যা তাদের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য প্রস্তুত থাকে। এই ড্রোনগুলি কৌশলগতভাবে আকাশপথে উড়ে এসে এঙ্গেলস বিমানঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ অংশে বিস্ফোরণ ঘটায়।বিমানঘাঁটিতে বিস্ফোরণের শব্দ এবং আগুন দেখে সেরাটোভ অঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, “হঠাৎ করে রাতের আকাশে বিকট শব্দ শোনা যায়, এবং তার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিশাল আগুন দেখা যায়। সবাই ভেবেছিল, এটা কোনো বড়সড় সামরিক হামলা।” স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত বাসিন্দাদের শান্ত থাকার আহ্বান জানায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন এবং বলেছেন যে এই হামলার জবাব যথাযথভাবে দেওয়া হবে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ইউক্রেনের সামরিক শক্তিকে লক্ষ্য করে আরও কড়া হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। এই ঘটনার পর থেকে রাশিয়া আরও সতর্ক অবস্থানে চলে গেছে এবং তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।বিশ্ব রাজনীতিতেও এই হামলার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাটো এই হামলার পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তারা উভয় পক্ষকে সংযত থাকার এবং কূটনৈতিক পথে এগিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলা রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলবে এবং ভবিষ্যতে নতুন ধরনের সামরিক হামলা ও পাল্টা হামলা দেখা যেতে পারে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, “আমরা নিজেদের আত্মরক্ষা করছি। আমাদের দেশকে রক্ষা করাই আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য। আমরা রাশিয়ার সামরিক অবকাঠামোকে আঘাত করব, যতক্ষণ না তারা আমাদের আক্রমণ বন্ধ করে।” ইউক্রেনের এই অবস্থান স্পষ্ট করছে যে তারা রাশিয়ার সঙ্গে কোনো আপসের পথে হাঁটতে রাজি নয়।