Two AC ambulances launched in Amdanga from MLA funds : উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙ্গা ব্লক বহুদিন ধরেই মানসম্মত জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবার ঘাটতিতে ভুগছিল। বিশেষত গ্রামীণ এলাকার রোগীরা গুরুতর অসুস্থ হলে বা দুর্ঘটনায় আহত হলে নিকটবর্তী বড় হাসপাতাল বা শহরের চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছতে প্রায়ই সমস্যায় পড়তেন। সময়মতো অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়া কিংবা জরুরি পরিবহনের অভাবে বহুবার রোগীর অবস্থা সংকটজনক হয়ে উঠত। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি সুলভ, নির্ভরযোগ্য এবং আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা।
অবশেষে সেই দাবি পূরণ করলেন আমডাঙ্গার বিধায়ক রফিকুর রহমান। তাঁর বিধায়ক তহবিল থেকে মোট ১৪ লক্ষ ৩২ হাজার ৬৪৫ টাকা ব্যয়ে কেনা হয়েছে দুটি অত্যাধুনিক এসি অ্যাম্বুলেন্স। সোমবার আমডাঙ্গা বিডিও অফিস প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিষেবার উদ্বোধন হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক স্বয়ং, আমডাঙ্গার বিডিও নবকুমার দাস এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। দুই অ্যাম্বুলেন্সের একটি বরাদ্দ হয়েছে সাধনপুর পঞ্চায়েতের জন্য, অপরটি তাড়াবেরিয়া পঞ্চায়েতের জন্য। অ্যাম্বুলেন্সগুলির রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচালনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত প্রধানদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।এই অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা মূলত রেফার রোগীদের জন্য— অর্থাৎ যাঁদের অবস্থা গুরুতর এবং যাঁদের দ্রুত বড় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন, তাঁদের জন্য। পরিষেবাটি দেওয়া হবে ‘নো লস, নো প্রফিট’ ভিত্তিতে। অর্থাৎ কেবলমাত্র তেল, চালক ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বহন করলেই মিলবে অ্যাম্বুলেন্সের সুবিধা।

বিধায়ক রফিকুর রহমান উদ্বোধনী মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, “আমডাঙ্গার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা চেয়ে আসছিলেন। আজ আমরা সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পেরেছি। এই অ্যাম্বুলেন্সগুলি শুধু দ্রুত রোগী পরিবহনেই নয়, বরং চিকিৎসা অবকাঠামোর উন্নতিতেও বড় ভূমিকা রাখবে।”আমডাঙ্গার বিডিও নবকুমার দাস জানান, এই উদ্যোগের ফলে সাধনপুর ও তাড়াবেরিয়ার বাসিন্দারা জরুরি সময়ে অনেকটা সুরক্ষিত বোধ করবেন। তাঁর মতে, “এই ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা এই পরিষেবা শুরু হওয়ায় অত্যন্ত খুশি। সাধনপুর গ্রামের এক বাসিন্দা জানান, “আগে অ্যাম্বুলেন্স পেতে অনেক দেরি হয়ে যেত। এখন পঞ্চায়েতের মাধ্যমেই দ্রুত ব্যবস্থা হবে। এতে প্রাণ বাঁচবে।”তাড়াবেরিয়ার এক মহিলা বলেন, “আমাদের গ্রামে বেশ কয়েকজন বয়স্ক মানুষ আছেন, যাঁদের প্রায়ই হাসপাতালে যেতে হয়। এই অ্যাম্বুলেন্স থাকায় এখন আমরা অনেকটাই নিশ্চিন্ত।”

গ্রামীণ এলাকায় জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া এখনো ভারতের বহু অংশে বড় চ্যালেঞ্জ। অ্যাম্বুলেন্সের ঘাটতি, দীর্ঘ দূরত্ব এবং আর্থিক সমস্যার কারণে অনেক রোগী সময়মতো চিকিৎসা পান না। আমডাঙ্গায় এই দুটি এসি অ্যাম্বুলেন্স চালু হওয়ায় একদিকে যেমন রোগীরা দ্রুত বড় হাসপাতালে পৌঁছতে পারবেন, তেমনি পরিবারগুলির আর্থিক চাপও কিছুটা কমবে।তাছাড়া, ‘নো লস, নো প্রফিট’ ভিত্তিতে পরিষেবা দেওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ সুলভ মূল্যে এই সুবিধা পাবেন। বিশেষত যেসব পরিবার অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল, তাঁদের জন্য এটি একটি বড় সহায়তা।

যদি এই পরিষেবা সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা করা যায়, তবে ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব। অন্যান্য পঞ্চায়েতেও একই ধরনের অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত হলে গোটা আমডাঙ্গা ব্লকই একটি শক্তিশালী জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা নেটওয়ার্ক পাবে। একইসঙ্গে প্রশিক্ষিত কর্মী ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম যুক্ত করা গেলে এই অ্যাম্বুলেন্সগুলি শুধু রোগী পরিবহনেই নয়, প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে।আমডাঙ্গায় দুটি আধুনিক এসি অ্যাম্বুলেন্স চালু হওয়া নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি শুধু একটি যানবাহন নয়, বরং গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবায় আশা ও নিরাপত্তার প্রতীক। সঠিক ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় সহযোগিতায় এই উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য লাভ করুক—এই প্রত্যাশা সকলের।