Trinamool wins ABL Cooperative Society elections : দুর্গাপুরের এবিএল সমবায় সমিতির নির্বাচনে একচেটিয়া জয়লাভ করলো তৃণমূল শ্রমিক সংগঠন। নির্ধারিত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমার মধ্যে বিরোধী পক্ষের কেউই তাদের প্রার্থী মনোনীত করতে পারেননি, যার ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই তৃণমূলের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। গতকাল সিটু কর্মীদের মনোনয়নপত্র তুলতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও, আজ আর কেউ মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসেননি। ফলে এবারের নির্বাচনে ১৫টি আসনের জন্য ভোট হওয়ার কথা থাকলেও, সেটির আর প্রয়োজন পড়ল না। এবিএল সমবায় সমিতির মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৬৫ জন। এবার সিটু এবং আইএনটিইউসি সমঝোতা করে আটটি ও সাতটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করেছিল, তবে তা বাস্তবায়িত হতে পারেনি।
গতবারের মতো এবারও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়ে তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের কর্মী-সমর্থকরা ব্যাপক উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন। দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক রাজনীতির ক্ষেত্রে এবারের এই নির্বাচন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই সমবায় সমিতির ক্ষমতা দখল শ্রমিক সংগঠনগুলোর শক্তি বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে। তৃণমূলের বিজয়ের পর সংগঠনের এক নেতা বলেন, “এই জয় শ্রমিকদের জন্য কাজ করার আমাদের প্রতিশ্রুতি আরও দৃঢ় করলো। আমরা এবিএল সমবায় সমিতির মাধ্যমে শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করবো এবং তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ব্যবস্থা নেবো।”
অন্যদিকে, বিরোধীদের তরফ থেকে অভিযোগ উঠেছে যে, তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। সিটুর এক সদস্য বলেন, “তৃণমূলের পক্ষ থেকে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে, যাতে আমরা মনোনয়ন জমা না দিতে পারি। এটা গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়।” তবে তৃণমূল নেতৃত্ব এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে এবং দাবি করেছে যে বিরোধীরা নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতেই এই অজুহাত দিচ্ছে।
এই ঘটনার ফলে দুর্গাপুরের শ্রমিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাংশ মনে করছে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তৃণমূলের জয় তাদের সংগঠনের শক্তি ও সংগঠনের ওপর শ্রমিকদের আস্থা প্রকাশ করে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর দাবি অনুযায়ী, যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হতো, তাহলে প্রকৃত জনমত উঠে আসতো।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এবিএল সমবায় সমিতির নিয়ন্ত্রণ পেয়ে তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের শক্তি আরও সুসংহত হলো এবং তারা আগামী দিনে শ্রমিক রাজনীতিতে আরও প্রভাব বিস্তার করতে পারবে। তবে বিরোধীদের অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তাহলে এটি আগামী দিনে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে। শ্রমিকদের স্বার্থে সত্যিই যদি কাজ করা হয়, তাহলে স্থানীয় পর্যায়ে তৃণমূলের জনপ্রিয়তা আরও বাড়বে। তবে কোনো অনিয়ম যদি ঘটে থাকে, তাহলে বিরোধীরা পরবর্তীতে সংগঠিত হয়ে আন্দোলনের পথে নামতে পারে।
এই ঘটনার ভবিষ্যৎ প্রভাব কী হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে আপাতত দুর্গাপুরের এবিএল সমবায় সমিতিতে তৃণমূলের নিরঙ্কুশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হলো।