Tourists will be able to travel from Siliguri to Gangtok in half an hour:শরতের আকাশে শারদোৎসবের গন্ধ পাওয়া যায় সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে। বাঙালির কাছে দুর্গাপুজো মানেই শুধুমাত্র ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এক বিশাল সাংস্কৃতিক ও আবেগের পর্ব। এই সময়টায় বহু মানুষ দীর্ঘ ছুটি পান, পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ খুঁজে পান। তাই পুজোর ছুটি মানেই ভ্রমণের পরিকল্পনা। কেউ সমুদ্রের টানে দীঘা-পুরী, কেউ আবার পাহাড় ডাকছে ভেবে চলে যান দার্জিলিং, গ্যাংটক কিংবা উত্তর সিকিমের লাচুং-লাচেন।কিন্তু পাহাড়ের পথে ঘুরতে যাওয়া সবসময় সহজ ছিল না। বিশেষ করে শিলিগুড়ি থেকে গ্যাংটক যাওয়ার মূল রাস্তা অর্থাৎ ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বারবারই ভূমিধস বা যানজটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ত। ফলে বহু পর্যটককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হত। এই অসুবিধা দূর করার লক্ষ্যেই বহুদিন ধরেই শিলিগুড়ি-গ্যাংটক আকাশপথে পরিষেবা চালু ছিল, কিন্তু তা নানা কারণে বন্ধ হয়ে যায়। এবারে পুজোর মুখে ফের নতুন উদ্যোগে শুরু হল সেই কাঙ্ক্ষিত হেলিকপ্টার পরিষেবা।রবিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে শিলিগুড়ি-সিকিম হেলিকপ্টার পরিষেবা। উদ্যোগ নিয়েছে সিকিম ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন ও স্কাইওয়ান এয়ারওয়েজ লিমিটেড। বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে আকাশপথে মাত্র আধ ঘণ্টার যাত্রাতেই পর্যটকরা পৌঁছে যাবেন গ্যাংটকে।
এই নতুন পরিষেবায় ব্যবহার করা হচ্ছে এমআই-১৭২ হেলিকপ্টার, যেখানে একসঙ্গে ২০ জন যাত্রী ভ্রমণ করতে পারবেন। প্রতিটি যাত্রী সর্বাধিক ১০ কেজি মালপত্র সঙ্গে বহন করতে পারবেন। মাথাপিছু ভাড়ার নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে চার হাজার টাকা। টিকিট বুকিংয়ের জন্য অনলাইনে আবেদন করা যাবে, তবে সরাসরি যোগাযোগ করতে হবে বাগডোগরা বিমানবন্দরে অবস্থিত হেলিকপ্টার পরিষেবা অফিসে।এদিন ট্রায়াল রান সফল হওয়ার পর পর্যটন দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুজোর ভিড় সামলাতে এই পরিষেবাই হতে পারে অন্যতম ভরসা।সিকিমের পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচল দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন—“আমরা চাইছি গ্যাংটক ও উত্তর সিকিম ভ্রমণে আসা পর্যটকরা যাতে আর রাস্তার ঝুঁকি বা দীর্ঘ যানজটে ভুগতে না হয়। এমআই-১৭২ কপ্টার চালুর ফলে পর্যটনের মান আরও উন্নত হবে। বিশেষ করে পুজোর সময় যখন হাজার হাজার পর্যটক পাহাড়ে ছুটে আসেন, তখন এই হেলিকপ্টার পরিষেবা তাঁদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠবে।”শিলিগুড়ির এক ট্রাভেল এজেন্ট বললেন—“আমাদের অনেক ক্লায়েন্টই রাস্তার সমস্যা নিয়ে অভিযোগ করতেন। এবার তাঁদের কাছে হেলিকপ্টার রুটের কথা বলতে পারব। যদিও ভাড়া সবার পক্ষে সম্ভব হবে না, কিন্তু যারা সময় ও আরামের জন্য খরচ করতে রাজি, তাঁদের কাছে এটা দারুণ খবর।

”অন্যদিকে, সিকিমে স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীরাও আশাবাদী। তাঁদের মতে, শিলিগুড়ি থেকে দ্রুত যাতায়াতের ব্যবস্থা হলে অনেক বেশি পর্যটক আসবেন, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে পর্যটন অর্থনীতিতে।শিলিগুড়ি-গ্যাংটক রুটটি শুধু ভ্রমণপিপাসু মানুষের নয়, ব্যবসায়ীদের কাছেও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভূমিধস বা যানজটের কারণে বারবার সেই রুট বিপর্যস্ত হওয়ায় পর্যটন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে হেলিকপ্টার পরিষেবা শুরু হওয়ায় গ্যাংটক ভ্রমণকারীদের কাছে সময় ও ভ্রমণ অভিজ্ঞতা দুই-ই উন্নত হবে।যদিও ভাড়ার দিক থেকে এই পরিষেবা এখনো অনেকের নাগালের বাইরে, তবে পর্যটনের নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ বজায় রাখতে এটি অত্যন্ত কার্যকরী হতে পারে। এছাড়া, জরুরি পরিস্থিতিতেও এই পরিষেবা জীবনদায়ী ভূমিকা পালন করবে।পুজোর সময় থেকে শুরু হলেও, সারা বছর ধরে এই পরিষেবা বজায় থাকবে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়। পর্যটকদের সাড়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই পরিষেবার আর্থিক দিকও ভেবে দেখা হবে। যদি পর্যটকদের সাড়া ইতিবাচক হয়, তবে ভবিষ্যতে আরও বেশি কপ্টার এবং বেশি ফ্রিকোয়েন্সিতে এই রুট চালু হতে পারে।এছাড়া, শুধু গ্যাংটক নয়, উত্তর সিকিমের লাচুং, লাচেন বা গুরুদংমার হ্রদের দিকেও যদি আকাশপথের সংযোগ স্থাপন করা যায়, তবে সিকিম পর্যটন নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যাবে।