There is no escape from the misery of Gaza, even in hospitals!:দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে রক্তাক্ত সংঘর্ষ, খাদ্য ঘাটতি ও চিকিৎসা সংকটে জর্জরিত গাজা উপত্যকা আজ কার্যত এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধের আঁচে পুড়ে ছারখার হয়ে যাওয়া ঘরবাড়ি, শিশুদের কান্না, বয়স্কদের অসহায় আর্তি—সব মিলিয়ে মানবিক সংকটের চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে এই ভূমি। আন্তর্জাতিক মহল বারবার যুদ্ধবিরতির ডাক দিলেও বাস্তবের মাটিতে তার কোনো প্রতিফলন নেই। বরং প্রতিদিন নতুন করে মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞের খবর শোনা যাচ্ছে। দুর্ভিক্ষের কারণে খাবার ও ওষুধের ঘাটতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মানুষ মরিয়া হয়ে ত্রাণ সংগ্রহ করতে ছুটছে। অথচ সেই ত্রাণও তাদের জীবনে মুক্তি এনে দিচ্ছে না, বরং প্রাণঘাতী ফাঁদে পরিণত হচ্ছে।এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মাঝেই সোমবার নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনা। লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে গাজার নাসের হাসপাতালকে। হাসপাতালের ভেতর আহত মানুষ, শিশু, বৃদ্ধ, নারী—সবাই চিকিৎসার আশায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানেই মৃত্যু নেমে আসে। প্যালেস্টাইনের স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, এই হামলায় অন্তত ২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন পাঁচজন সাংবাদিকও।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বিখ্যাত আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের কর্মী হাতমে খালেদ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গাজার পরিস্থিতি বিশ্বের সামনে তুলে ধরছিলেন, এছাড়া একজন ফটোগ্রাফারের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।
এভাবে যারা সত্য তুলে ধরতে কলম ও ক্যামেরাকে অস্ত্র করে যুদ্ধক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তারাই আজ নৃশংসতার শিকার।ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সম্প্রতি নতুন অভিযানে নেমেছে। তাদের দাবি, গাজার ভেতরে হামাসকে নিকেশ করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। সেনাবাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী, হামাস সাধারণ মানুষকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করছে। ফলে অভিযানের সময় সাধারণ মানুষও প্রাণ হারাচ্ছেন।তবে এই পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইক জমির এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রেখেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়েছেন হামাসের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তি মেনে নিতে। তাঁর মতে, এই চুক্তি হলে প্রায় ৫০ জন পণবন্দিকে ঘরে ফেরানো সম্ভব হবে এবং যুদ্ধের অবসান ঘটানোর পথ খুলে যাবে।গাজার সাধারণ মানুষের জন্য এই পরিস্থিতি যেন দুঃস্বপ্নের থেকেও ভয়ঙ্কর। একদিকে ক্ষুধা, অপরদিকে বোমাবর্ষণ। তাদের কথায়, “আমরা খাবার চাই, ওষুধ চাই, আমাদের সন্তানদের বাঁচাতে চাই। কিন্তু প্রতিবার যখন ত্রাণ সংগ্রহে যাই, তখনই গুলি-বোমার আঘাতে জীবন হারাতে হয়।
”এমনকি হাসপাতাল, যেটি মানুষের কাছে আশ্রয়ের জায়গা, সেটিও এখন আর নিরাপদ নয়। স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, একসময় সংবাদপত্রে ছবি তোলার বা খবর লেখার জন্য যাঁরা এগিয়ে আসতেন, আজ তাঁরা নিজেরাই নিহতদের তালিকায়। এতে ভয়ের পরিবেশ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।এই হামলা শুধু একটি হাসপাতালকে ধ্বংস করেনি, বরং মানবিকতার শেষ ভরসাটুকুকেও ভেঙে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী, হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু গাজায় সেই আইন প্রতিদিন ভঙ্গ হচ্ছে।অন্যদিকে, সাংবাদিকদের মৃত্যু যুদ্ধের ভয়াবহতাকে আরও প্রকট করে তুলেছে। সাংবাদিকরা বিশ্ববাসীর কাছে বাস্তব তথ্য পৌঁছে দেওয়ার সেতুবন্ধন। তাঁদের হত্যা মানে যুদ্ধের সত্যকেও হত্যা করা। এই অবস্থায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, মানবাধিকার সংস্থা ও বিশ্বনেতাদের কাছে প্রশ্ন—কত মৃত্যু হলে যুদ্ধ থামবে?পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে হাজার হাজার নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন গাজায়। এদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। খাদ্য সংকট এতটাই গুরুতর যে, অনেক পরিবার দিনে মাত্র এক বেলার খাবার জোগাড় করতে পারছে। চিকিৎসা সামগ্রীও প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। ফলে আহতদের অনেককেই চিকিৎসাহীন অবস্থায় মারা যেতে হচ্ছে।