Friday, August 29, 2025
Google search engine
HomeUncategorisedশুক্রবারের এই নিয়মের মধ্যেই লুকিয়ে আপনার ভাগ্যের চাবিকাঠি

শুক্রবারের এই নিয়মের মধ্যেই লুকিয়ে আপনার ভাগ্যের চাবিকাঠি

The key to your luck is hidden in this Friday rule : মানুষের জীবনে সুখ, শান্তি আর্থিক স্বচ্ছলতা প্রত্যেকেরই অন্যতম লক্ষ্য। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি আমরা কঠোর পরিশ্রম করি—কেউ চাকরি করে, কেউ ব্যবসা করে, আবার কেউবা ছোটখাটো জীবিকা গড়ে তুলতে লড়াই চালিয়ে যায়। কিন্তু তবুও অনেক সময় দেখা যায়, পরিশ্রম সত্ত্বেও অর্থের অভাব যেন পিছু ছাড়ে না। সংসারের চাহিদা, ঋণের বোঝা, কিংবা ভবিষ্যতের নিরাপত্তাহীনতা মানুষকে অস্থির করে তোলে।জ্যোতিষ শাস্ত্রের মতে, এর পেছনে বড় কারণ হতে পারে গ্রহ-নক্ষত্রের প্রভাব। শুধু পরিশ্রম নয়, ভাগ্য সহায়ক হলে তবেই আর্থিক সাফল্য আসে। তাই যুগ যুগ ধরে মানুষ বিশ্বাস করে এসেছে যে, দেব-দেবীর কৃপা অর্জনের মাধ্যমে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দেওয়া সম্ভব। বিশেষ করে মা লক্ষ্মীর আশীর্বাদে জীবনে আসে সমৃদ্ধি ও ধনলাভ।

জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞদের মতে, শুক্রবার দিনটি মা লক্ষ্মীর পূজার জন্য অত্যন্ত শুভ বলে ধরা হয়। এই দিনে দেবীকে সন্তুষ্ট করতে কিছু বিশেষ নিয়ম মানা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই নিয়মগুলি মেনে চললে জীবনে অর্থকষ্ট কাটে, বন্ধ কাজ সম্পূর্ণ হয় এবং ঋণের বোঝা থেকেও মুক্তি মেলে।শাস্ত্র বলছে, শুক্রবারের পূজোতে বিশেষ করে শ্রীসূক্ত বা কনকধারা স্তোত্র পাঠ করলে মা লক্ষ্মী প্রসন্ন হন। পুজোর সময় পদ্ম বা গোলাপ ফুল নিবেদন বিশেষ ফলদায়ক, কারণ এগুলি দেবীর প্রিয় ফুল। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো ক্ষীর নিবেদন—মা লক্ষ্মীর প্রতি মিষ্টি ক্ষীর ভোগ দেওয়া অত্যন্ত শুভ বলে ধরা হয়।ভোগ দেওয়ার পর ছয় বছরের কম বয়সী কন্যাশিশুদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করলে ঋণমুক্তির পথ সহজ হয়। এমনকি জীবনের আটকে থাকা কাজও পূর্ণ হতে শুরু করে বলে বিশ্বাস।অন্যদিকে, বিবাহিত নারীদের জন্যও শুক্রবার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনে তারা দেবীকে সৌভাগ্যের উপকরণ নিবেদন করলে সংসারে অখণ্ড সৌভাগ্য, সুস্বাস্থ্য এবং পারিবারিক শান্তি লাভ হয়।

29 09 2022 maa

এটি কোনো সরকারি উদ্যোগ নয়, তবে দেশজুড়ে মন্দির ও আশ্রমে শুক্রবারকে ঘিরে বিশেষ আয়োজন দেখা যায়। পূজারি ও মন্দির কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, “শুক্রবারে ভক্তরা মায়ের পূজো করতে বিশেষ আগ্রহী হন। সেই কারণে এদিন ভিড় অনেক বেশি থাকে। পূজোর পর ছোট শিশুদের প্রসাদ বিতরণের প্রচলনও লক্ষ্য করা যায়।”কোলকাতার শ্যামবাজারের বাসিন্দা মধুমিতা দত্ত বলেন, “প্রতি শুক্রবার আমি মা লক্ষ্মীর কাছে ধূপ-ফুল নিয়ে বসি। সত্যি বলতে কি, আমি বিশ্বাস করি—এই নিয়ম মানার পর থেকে সংসারে অনেকটা শান্তি এসেছে।”
অন্যদিকে, হাওড়ার বাসিন্দা অনিল মুখোপাধ্যায় জানালেন, “আমি ব্যবসা করি। শুক্রবার মায়ের পূজো করে ক্ষীর নিবেদন করি। মনে হয় এর পর থেকে জীবনে একটা ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।”এই বিশ্বাস শুধু শহরেই নয়, গ্রাম বাংলার ঘরোয়া আচারেও গভীরভাবে প্রোথিত। প্রতি শুক্রবার সন্ধ্যায় গৃহবধূরা আলপনা এঁকে, প্রদীপ জ্বালিয়ে লক্ষ্মী পূজা করেন।

masik august horoscope 1690778533

শাস্ত্রীয় দিক থেকে এই আচারগুলির গুরুত্ব অনেক। শুক্রবারকে শক্রগ্রহের দিন বলা হয়। লক্ষ্মী, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের প্রতীক। তাই এই দিনে তার পূজা করলে গ্রহ-নক্ষত্রের অশুভ প্রভাব কমে যায় বলে মনে করা হয়।মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকেও এ নিয়মগুলি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। নিয়মিত পূজা-অর্চনা মানুষের মনে বিশ্বাস, স্থিরতা এবং ইতিবাচক শক্তি জাগিয়ে তোলে। এতে মন শান্ত হয়, সংসারে আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে।যদিও আধুনিক অর্থনীতির দিক থেকে অর্থসংকট কাটাতে সঠিক পরিকল্পনা, সঞ্চয় এবং কর্মদক্ষতা অপরিহার্য, তবুও মানুষ বিশ্বাসের জোরে অনেক সময় মানসিক শক্তি পায়। ধর্মীয় আচার সেই বিশ্বাসকে দৃঢ় করে।

goddess lakshmi 1647953018.jpeg?w=414&dpr=1

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই আচার-অনুষ্ঠান মানুষকে শুধু দেবীর কৃপা অর্জনের সুযোগই দেয় না, বরং সমাজে সম্প্রীতির বার্তাও ছড়ায়। শুক্রবারের পূজোতে নারীরা, পুরুষরা, ছোট-বড় সকলে মিলেমিশে অংশ নেন। প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক সৌহার্দ্য।ভবিষ্যতেও এই বিশ্বাস ও আচার আরও গভীরভাবে মানুষের জীবনযাত্রার অংশ হয়ে থাকবে বলেই মনে করা হয়।অর্থসঙ্কট জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও বিশ্বাস ও অধ্যবসায় মানুষকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। শুক্রবারের পূজার নিয়ম মেনে চলা অনেকের কাছেই এক মানসিক ভরসা। মা লক্ষ্মীর প্রতি বিশ্বাস ও ভক্তি মানুষের মনে জাগিয়ে তোলে নতুন আশার আলো। তাই হয়তো বলা চলে—শুক্রবারের এই নিয়মগুলির মধ্যেই লুকিয়ে আছে জীবনের ভাগ্যের চাবিকাঠি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments