...
Thursday, April 3, 2025
Google search engine
Homeঅন্যান্যখেলাসেম মেটালিক ফুটবল একাডেমির প্রশিক্ষণ শিবির

সেম মেটালিক ফুটবল একাডেমির প্রশিক্ষণ শিবির

Sem Metalik Football Academy Training Camp :শনিবার রানীগঞ্জের রবিন সেন স্টেডিয়ামে এক ঐতিহাসিক দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল। সেম মেটালিক ফুটবল একাডেমির উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নিল প্রায় পাঁচশোরও বেশি খুদে ফুটবলার। সারা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনূর্ধ্ব-১৩, অনূর্ধ্ব-১৪, এবং অনূর্ধ্ব-১৯ দলের উদীয়মান ফুটবলাররা একত্রিত হয়ে নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শন করেন। একাডেমির মূল উদ্দেশ্য হলো শিল্পাঞ্চল এবং জেলার প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের তুলে আনা এবং রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতায় তাদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এই প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নেওয়া প্রতিটি খুদে ফুটবলারের চোখেমুখে ফুটছিল স্বপ্ন এবং একদিন বড় মঞ্চে খেলার তীব্র ইচ্ছে।

খুদে ফুটবলারদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ

প্রশিক্ষণ শিবিরে খুদে খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল এক অদ্ভুত উদ্দীপনা। অনেকেই জীবনে প্রথমবার এত বড় একটি আয়োজনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেল। প্রতিটি খেলোয়াড়ের লক্ষ্য ছিল নিজেকে প্রমাণ করা এবং কোচেদের নজরে আসা। শিবির চলাকালীন দেখা যায়, প্রত্যেকে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছে। সেম মেটালিক ফুটবল একাডেমির হেড কোচ ইন্দ্রনীল চ্যাটার্জী জানালেন, ‘‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র খেলা শেখানো নয়, বরং প্রতিভাবান ফুটবলারদের খুঁজে বার করে তাদের আরও উন্নত ট্রেনিং দেওয়া, যাতে তারা ভবিষ্যতে রাজ্য বা জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের জায়গা করে নিতে পারে।’’

paris 2024 olympics soccer

রানীগঞ্জ রবিন সেন স্টেডিয়ামের প্রাণবন্ত পরিবেশ

শিবিরের দিন স্টেডিয়ামটি যেন উৎসবের চেহারা নিয়েছিল। মাঠের চারদিকে খেলোয়াড়দের অভিভাবকরা বসে ছিলেন। তারা নিজেদের সন্তানদের পারফরম্যান্স মনোযোগ দিয়ে দেখছিলেন। কেউ কেউ মোবাইলে ভিডিও করছিলেন, আবার কেউ কোচেদের সঙ্গে পরামর্শ করছিলেন ভবিষ্যতে সন্তানের ফুটবল ক্যারিয়ার গড়ার ব্যাপারে। অভিভাবকদের মধ্যে একজন, দেবাশিস রায়, বলেন, ‘‘আমার ছেলে মাত্র ১২ বছর বয়স থেকে ফুটবল খেলা শুরু করেছে। আজ এমন একটি বড় প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নিতে পেরে সে ভীষণই খুশি। আমরা চাই ও ভবিষ্যতে বড় মঞ্চে খেলার সুযোগ পাক।’’

সামাজিক দায়বদ্ধতা ও ফুটবল একাডেমির ভূমিকা

সেম মেটালিক ফুটবল একাডেমির এই প্রশিক্ষণ শিবির শুধুমাত্র ফুটবল প্রশিক্ষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি মূলত একটি সামাজিক উদ্যোগও বটে। কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটির (CSR) অংশ হিসেবে সেম মেটালিক পাওয়ার লিমিটেড ফুটবলকে জনপ্রিয় করার এবং নতুন প্রতিভা তুলে আনার জন্য এই একাডেমি চালু করেছে। শিবিরের দিন উপস্থিত ছিলেন সংস্থার কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি বিভাগের প্রধান উর্মিলা চ্যাটার্জী। তিনি বলেন, ‘‘আমরা শুধু ফুটবল খেলোয়াড় তৈরি করতে চাই না, আমরা চাই এই এলাকার যুবসমাজকে খেলাধুলার মাধ্যমে ইতিবাচক পথে পরিচালিত করতে। খেলাধুলার মাধ্যমে শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস, এবং মানসিক শক্তি গড়ে তোলা সম্ভব।’’

খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ সুযোগ এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা

এই প্রশিক্ষণ শিবির থেকে বাছাই করা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের কলকাতা এবং কলকাতার বাইরের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। এছাড়া সেম মেটালিক ফুটবল একাডেমির নিজস্ব দলে যোগদানেরও সুযোগ থাকবে। একাডেমির কোচিং স্টাফরা জানান, ‘‘যে খেলোয়াড়রা আজ নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে নজর কাড়বে, তাদের আমরা আমাদের নিজস্ব ফুটবল টিমে রাখার পরিকল্পনা করছি।’’ এর ফলে শুধু খেলোয়াড়রা ভালো প্রশিক্ষণই পাবে না, তারা নিজেদের ফুটবল কেরিয়ার শুরু করার একটি মঞ্চও পাবে।

রানীগঞ্জের ফুটবলে নতুন অধ্যায়ের সূচনা

রানীগঞ্জ এবং আশেপাশের এলাকায় ফুটবল সবসময়ই জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু এত বড় আকারে ফুটবলের জন্য প্রশিক্ষণ শিবির আগে কখনও হয়নি। রানীগঞ্জ স্টেডিয়াম কমিটির সম্পাদক বিশ্বনাথ ব্যানার্জি বলেন, ‘‘আমরা দীর্ঘদিন ধরেই ভাবছিলাম কিভাবে এলাকার ফুটবল প্রতিভাগুলিকে আরও উন্নত করা যায়। সেম মেটালিক ফুটবল একাডেমির সহযোগিতায় আমরা এই শিবির আয়োজন করেছি, এবং প্রতিক্রিয়া দেখে আমরা অত্যন্ত খুশি।’’

শিশুদের স্বপ্নপূরণের পথচলা শুরু

প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নেওয়া শিশুদের মধ্যে অনেকেই জীবনের প্রথমবার এত বড় মঞ্চে খেলতে পেরে আনন্দিত। একজন ১৪ বছরের ফুটবলার, সৌরভ দাস, জানায়, ‘‘আমি ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখতাম বড় ফুটবলার হওয়ার। আজ আমি এখানে এসে কোচেদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারছি।’’ সৌরভের মতো আরও অনেক শিশুর স্বপ্ন এই শিবিরের মধ্য দিয়ে বাস্তবায়িত হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

উপসংহার: প্রতিভার বিকাশের এক নতুন মঞ্চ

সেম মেটালিক ফুটবল একাডেমির এই প্রশিক্ষণ শিবির শুধু একটি দিনের আয়োজন নয়, এটি ভবিষ্যতের তারকাদের গড়ে তোলার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যারা আজ নিজেদের প্রতিভা দিয়ে নজর কেড়েছে, তারা আগামীদিনে রাজ্য এবং জাতীয় স্তরের ফুটবলে জায়গা করে নেবে, এমনটাই আশা করছে কোচ এবং অভিভাবকরা। রানীগঞ্জ রবিন সেন স্টেডিয়ামের এই আয়োজন শুধু খেলোয়াড়দের নয়, গোটা এলাকার ফুটবল সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments

Seraphinite AcceleratorOptimized by Seraphinite Accelerator
Turns on site high speed to be attractive for people and search engines.