Sanctions if there is no peace agreement with Ukraine: বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম বড়ো অস্থিরতার নাম ইউক্রেন সংকট। রাশিয়ার সামরিক হস্তক্ষেপ ও ইউক্রেনের স্বাধীনতা প্রশ্নে উত্তেজনা বছরের পর বছর ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে। পশ্চিমা দেশগুলো একদিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে চাপ তৈরি করতে চাইছে, অন্যদিকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু এই দীর্ঘ টানাপোড়েনের মাঝে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কবে হবে স্থায়ী শান্তিচুক্তি? যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এই বিষয়েই কঠোর বার্তা দিয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে যদি ইউক্রেন সংকটের সমাধানে কোনো অগ্রগতি না হয়, তবে রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা বা শুল্ক আরোপ করা হবে। তাঁর বক্তব্যে ছিল দ্ব্যর্থহীন সতর্কবার্তা—“আমরা কী করব, সে বিষয়ে আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি। এটি হতে পারে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা, ব্যাপক শুল্ক, কিংবা কিছুই নয়।”
ট্রাম্পের এই সতর্কতা এমন সময় এল যখন ইউক্রেনে একটি মার্কিন কারখানায় রাশিয়ার হামলার খবর পাওয়া গেছে। ভয়াবহ আগুনে ওই কারখানার কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন। এই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষোভ ও হতাশা বহুগুণে বেড়েছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, তাঁর সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠক ঠেকাতে রাশিয়া সম্ভাব্য সব রকম চেষ্টা করছে। এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—“এমন বৈঠকের এজেন্ডা এখনো প্রস্তুত হয়নি।”

সরকারি প্রতিক্রিয়া
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যে বোঝা গেছে, তাঁর প্রশাসন পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের আগে নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবা হয়নি। বরং আলোচনার দরজা খোলা রাখতে তিনি তখন রাশিয়ার ওপর কোনো নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত ছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলা এবং শান্তি প্রক্রিয়ায় স্থবিরতার কারণে আবারও নতুনভাবে নিষেধাজ্ঞার হুমকি উঠে এসেছে।
ট্রাম্প এমনকি বৈঠকের একটি ছবি দেখিয়ে ইঙ্গিত দেন যে পুতিন ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র সফর করতে পারেন। তিনি বলেন, “পুতিন ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে উপস্থিত হতে যুক্তরাষ্ট্র আসতে পারেন।” এই মন্তব্য যেন একদিকে কূটনৈতিক সম্ভাবনার আভাস দেয়, অন্যদিকে বর্তমান অচলাবস্থার তীব্র বৈপরীত্যও তুলে ধরে।
স্থানীয় মতামত
ইউক্রেনের সাধারণ মানুষ যুদ্ধ ও সংঘাতের দীর্ঘ ক্ষয়ক্ষতি থেকে ক্লান্ত। তারা চায় স্থায়ী শান্তি, যাতে দেশ পুনর্গঠনের পথে এগোতে পারে। জেলেনস্কির বক্তব্যে ইউক্রেনবাসীর সেই হতাশা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাদের মতে, রাশিয়ার রাজনৈতিক টানাপোড়েন কেবল ইউক্রেন নয়, সমগ্র ইউরোপের স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়া-নীতি নিয়ে মতভেদ থাকলেও সাম্প্রতিক হামলার পর অনেকেই ট্রাম্পের কড়া অবস্থানকে সমর্থন করছেন। তাঁদের মতে, শান্তি আলোচনায় বিলম্ব শুধু রাশিয়ার রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, যা প্রতিহত না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
বিশ্লেষণ
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই বার্তা এক প্রকার চাপ সৃষ্টির কৌশল। নিষেধাজ্ঞা বা শুল্ক আরোপের মতো পদক্ষেপ রাশিয়ার অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিতে পারে। তবে এর ফলাফল একেবারে নিশ্চিত নয়, কারণ রাশিয়া আগেও বহু নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে এগিয়েছে।
একই সঙ্গে এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্ককে আরও জটিল করতে পারে। কারণ একদিকে ট্রাম্প আলাস্কা বৈঠক ও ভবিষ্যতের ক্রীড়া কূটনীতির আভাস দিচ্ছেন, অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিচ্ছেন। এই দ্বৈত বার্তা কূটনীতির মঞ্চে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
ইউক্রেনের দৃষ্টিকোণ থেকে, যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে দ্রুত শান্তি আলোচনার অগ্রগতি অপরিহার্য। কিন্তু রাশিয়ার দেরি কৌশল বা অনাগ্রহ ইউক্রেনকে অস্থিরতার দোলাচলে ফেলে রেখেছে।
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি
আগামী দুই সপ্তাহ ইউক্রেন সংকটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যদি সত্যিই রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র যে নিষেধাজ্ঞার পথে হাঁটবে, তা প্রায় নিশ্চিত। এর প্রভাব কেবল রাশিয়া নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ন্যাটো এবং সমগ্র বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর পড়বে।
অন্যদিকে, যদি আলোচনার টেবিলে কিছু অগ্রগতি হয়, তবে সেটাই হবে বিশ্ববাসীর জন্য স্বস্তির খবর। প্রশ্ন একটাই—রাশিয়া কি আলোচনায় সৎভাবে বসতে চায়, নাকি আবারও সময়ক্ষেপণ করবে?
উপসংহার
ইউক্রেন সংকট দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক রাজনীতির এক অমীমাংসিত অধ্যায় হয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবার সরাসরি রাশিয়াকে কড়া বার্তা দিয়েছেন—শান্তিচুক্তি না হলে আসবে নিষেধাজ্ঞা। তবে এই হুঁশিয়ারি বাস্তবায়ন হবে কি না, কিংবা রাশিয়া কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। বিশ্ব তাকিয়ে আছে পরবর্তী দুই সপ্তাহের দিকে।