Putin’s country is being shaken by one earthquake after another:রাশিয়ার পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে কামচাটকা ও কুরিল দ্বীপপুঞ্জ, ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত। প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অফ ফায়ার’-এর অংশ হওয়ায় এই অঞ্চল প্রায়শই প্রবল ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুত্পাতের মুখোমুখি হয়। এই এলাকার মানুষ বছরের পর বছর ধরে ভূমিকম্প সতর্কতা, সুনামি সতর্কতা ও জরুরি অবস্থা মোকাবিলা করতে শিখে নিয়েছে। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে রাশিয়ার এই প্রান্তে ভূমিকম্পের সংখ্যা ও তীব্রতা যেন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে চলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠের নিচে চাপ ও গতিবিধির ফলে এই অঞ্চল আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।শনিবার ভোরে রাশিয়ার কুরিল দ্বীপের পূর্বপ্রান্তে অনুভূত হয় প্রবল ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৬.৪। ন্যাশনাল সেন্টার অফ সেসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের ৩২ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পের পর মুহূর্তেই সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠে এবং রাশিয়ার উপকূলবর্তী এলাকায় প্রায় ১৩ ফুট উঁচু সুনামির ঢেউ আছড়ে পড়ে। যদিও এ পর্যন্ত কোনও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর মেলেনি, তবুও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে দ্বীপের বাসিন্দাদের মধ্যে।এটি শুধুমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত মাসেই রাশিয়ার কামচাটকায় ঘটে গিয়েছিল এক ভয়াবহ ভূমিকম্প, যার মাত্রা ছিল ৮.৮ রিখটার স্কেলে।
সেই ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়, আর রাশিয়া ও জাপানে সুনামি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। লাগাতার এই কম্পন এবং ভূ-পৃষ্ঠের নিচে অস্থিরতার ফলেই কামচাটকার ক্রাশেনিন্নিকোভ আগ্নেয়গিরি প্রায় ৬০০ বছর পর আবার জেগে উঠেছে, যা স্থানীয়দের আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।ভূমিকম্পের পরপরই রাশিয়ার আবহাওয়া ও জরুরি ব্যবস্থাপনা দফতর থেকে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। উপকূলবর্তী এলাকার মানুষদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। উদ্ধারকারী দল, নৌবাহিনী ও জরুরি সেবাকর্মীরা প্রস্তুত রাখা হয় যেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়। রাশিয়ার ভূকম্পন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের উৎস গভীরে থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম হলেও পরবর্তী কয়েক দিন আফটারশকের আশঙ্কা রয়েছে।কুরিল দ্বীপের অনেক বাসিন্দা জানাচ্ছেন, ভূমিকম্পের সময় মাটি যেন কেঁপে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্রের গর্জনও বেড়ে যাচ্ছিল। দ্বীপের বাসিন্দা ইভান পেত্রভ বলেন, “প্রথমে বুঝতে পারিনি ভূমিকম্প হয়েছে, কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে চারপাশের সবকিছু কেঁপে উঠতে লাগল।
পরে খবর পেলাম সুনামি সতর্কতা জারি হয়েছে। আমরা দ্রুত পরিবার নিয়ে উঁচু জায়গায় চলে যাই।” অনেকেই বলছেন, কামচাটকার ভূমিকম্পের ভয় এখনও কাটেনি, তার মধ্যেই আবার নতুন করে কম্পন মানুষকে মানসিকভাবে চাপে ফেলছে।প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অফ ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ ও কামচাটকা দ্বীপভূমি ভূমিকম্পের প্রবল ঝুঁকিতে থাকে। ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ এখানে প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা, কিন্তু পরপর দুই মাসে এত বড় মাত্রার কম্পন ও আগ্নেয়গিরির জেগে ওঠা বিজ্ঞানীদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ভূ-পৃষ্ঠের নিচে টেকটোনিক প্লেটগুলির চাপ, প্রশান্ত ও উত্তর আমেরিকান প্লেটের সংঘর্ষ—এসবই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে। রাশিয়ার অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে, কারণ মৎস্যশিল্প, বন্দর কার্যক্রম ও সামরিক ঘাঁটির অবস্থান এই অঞ্চলে। লাগাতার ভূমিকম্পে অবকাঠামোগত ক্ষতি হলে অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতিও বিশাল হতে পারে।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অঞ্চলে আগামী কয়েক মাস ভূমিকম্প ও সুনামির ঝুঁকি থেকেই যাবে। রাশিয়া সরকার ইতিমধ্যে নতুন ভূমিকম্প প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ, উপকূলবর্তী এলাকায় সুনামি প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার এবং জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য প্রশিক্ষণমূলক মহড়া ও জরুরি সরঞ্জাম মজুত রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা আরও বলছেন, ক্রাশেনিন্নিকোভ আগ্নেয়গিরির জাগরণকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না, কারণ এর অগ্ন্যুৎপাত সমগ্র অঞ্চলের পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রকে প্রভাবিত করতে পারে।