Purification of the puja mandap with Ganga water by Subhendur : তমলুকের গণপতি নগরে জনকল্যাণ সংঘের দোল উৎসব মণ্ডপ পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিল রাজ্যের রাজনীতিতে। পুড়ে যাওয়া মণ্ডপে এসে গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধিকরণ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়েই তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন এবং দাবি করেন, “কোনও সনাতনী মানুষ এভাবে পূজো মণ্ডপ পুড়িয়ে দিতে পারে না। এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। যদি পুলিশ সঠিক তদন্ত না করে, তাহলে ২০২৬ সালে বিজেপি ক্ষমতায় এলে আমরা এই ঘটনার বিচার করব।”
শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্য এবং পুড়ে যাওয়া মণ্ডপে গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধিকরণ করার পদক্ষেপ ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূল এবং বিজেপি একে অপরের দিকে অভিযোগের তির ছুঁড়ছে। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের মধ্যেও এই ঘটনাকে ঘিরে ক্ষোভ এবং উদ্বেগ বাড়ছে।
তমলুক ব্লকের গণপতি নগরে ৪৩ বছর ধরে দোল উৎসবের আয়োজন করে আসছে জনকল্যাণ সংঘ। এই উৎসব এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয়। শুধু দোলের দিনে পূজো নয়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গ্রামীণ মেলা, এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের জন্যও এই মণ্ডপটি পরিচিত। কিন্তু এবছর দোল উৎসবের ঠিক আগের দিন, শুক্রবার গভীর রাতে আচমকা মণ্ডপে আগুন লেগে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগুন এতটাই তীব্র ছিল যে মণ্ডপের কাঠামো সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।শনিবার শুভেন্দু অধিকারীর আসার কথা ছিল, কিন্তু তিনি সেদিন না আসায় রবিবার সন্ধ্যায় তিনি ঘটনাস্থলে আসেন। মণ্ডপে পৌঁছে তিনি গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধিকরণ করেন এবং আরতি জ্বালিয়ে পূজো করেন। তাঁর কথায়, “সনাতনী হিন্দুদের একত্রিত হতে হবে। এই ধরনের ঘটনা কখনওই মেনে নেওয়া যায় না। যারা দোল উৎসবের মতো শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠানে অশান্তি সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের একজোট হয়ে লড়াই করতে হবে।”
শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপের পরই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকরাই এই অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ী। শুভেন্দু বলেন, “তৃণমূল যেভাবে সনাতনী ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানের উপর আঘাত হানছে, তা স্পষ্ট। তবে মানুষ সব মনে রাখছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এর জবাব দেবে বাংলার মানুষ।”
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। তৃণমূল নেতা এবং স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য বলেন, “এটি নিছকই একটি দুর্ঘটনা। কিন্তু বিজেপি এই ঘটনাকে নিয়ে ধর্মীয় মেরুকরণের চেষ্টা করছে। এই ধরনের রাজনীতি অত্যন্ত নিন্দনীয়।”এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই পুড়ে যাওয়া মণ্ডপের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তবে কেউ কেউ শুভেন্দু অধিকারীর শুদ্ধিকরণ প্রসঙ্গে সমর্থন জানিয়েছেন।
একজন প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “এমন দোল উৎসবে আমরা আগে কখনও অশান্তি দেখিনি। মণ্ডপ পুড়ে যাওয়ার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। কে বা কারা এর জন্য দায়ী, তা তদন্ত করেই বের করা উচিত।” অন্যদিকে এক যুবকের কথায়, “আমরা সনাতনী হিন্দু। মণ্ডপ শুদ্ধিকরণ হওয়ায় আমাদের মন শান্ত হয়েছে।”তবে শুভেন্দু অধিকারীর গঙ্গাজল দিয়ে মণ্ডপ শুদ্ধিকরণের পদক্ষেপ ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এই শুদ্ধিকরণের মাধ্যমে শুভেন্দু আসলে রাজনীতিতে ধর্মীয় মেরুকরণের বার্তা দিচ্ছেন কিনা। বিশেষত, মণ্ডপের অগ্নিকাণ্ডের পেছনে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব তুলে ধরে তিনি যে মন্তব্য করেছেন, তাতে রাজনৈতিক পারদ আরও চড়েছে।
পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই আগুন লেগেছে। তবে শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির দাবি, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়। শুভেন্দু সরাসরি বলেন, “পুলিশ যদি সঠিকভাবে তদন্ত না করে, তাহলে ২০২৬ সালে বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই ঘটনার বিচার হবে। ততদিন পর্যন্ত আমরা মানুষের পাশে আছি।”ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, “এখন সময় এসেছে হিন্দু সমাজের এক হওয়ার। আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানের উপর যে আঘাত আসছে, তার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। এই ঘটনা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”