Pro-Palestinian organization labeled ‘terrorist’ : বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে প্যালেস্টাইন-ইজরায়েল ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই তর্ক-বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। এই সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যের মাটিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং পশ্চিমা দেশগুলিতেও এর প্রভাব গভীর। বিশেষ করে ব্রিটেনে, যেখানে বিপুল সংখ্যক প্যালেস্টাইনপন্থী মানুষ বসবাস করেন, সেখানে এই ইস্যু প্রতিনিয়ত আলোচনার জন্ম দেয়। সম্প্রতি ব্রিটিশ সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা আরও একবার এই দ্বন্দ্বকে নতুন করে উস্কে দিয়েছে।
ব্রিটিশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে, প্যালেস্টাইনপন্থী সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশান’ এখন থেকে ‘সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ হিসেবে গণ্য হবে। সন্ত্রাস আইন ২০০০-এর অধীনে এই ঘোষণা কার্যকর হওয়ায় সংগঠনের কার্যকলাপ সরাসরি বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে।এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরপরই উত্তাল হয়ে ওঠে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন প্রান্ত। লন্ডন, ম্যাঞ্চেস্টার, এডিনবার্গ, ব্রিস্টল ও ট্রুরোর রাস্তায় নেমে আসেন হাজার হাজার প্রতিবাদী মানুষ। তাদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন প্যালেস্টাইনপন্থী আরেক সংগঠন ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরি’র সমর্থক। তারা হাতে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন—“আমি গণহত্যা বিরোধী, আমি প্যালেস্টিনীয়দের পক্ষে।”গত শনিবার লন্ডনের পার্লামেন্ট স্কোয়ারে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির পাদদেশে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ দেখান অনেকেই। সেদিনই বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে।

সরকারি সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে প্যালেস্টাইনপন্থী বেশ কয়েকটি সংগঠনের সঙ্গে জঙ্গি কার্যকলাপের যোগসূত্র মিলেছে। ইতিমধ্যেই সন্ত্রাস আইন অনুযায়ী ৫৫ জন প্যালেস্টিনীয়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই এমন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে তারা।তবে সমালোচকদের দাবি, এই সিদ্ধান্ত কেবলমাত্র একপেশে অবস্থানকেই তুলে ধরছে। ব্রিটিশ সরকারের কণ্ঠস্বর যেন ইজরায়েলের প্রতি সহানুভূতির প্রতিফলন, আর সেটিই ক্ষোভ বাড়িয়ে তুলছে প্রতিবাদকারীদের মধ্যে।লন্ডনে বসবাসকারী প্যালেস্টাইনপন্থী ব্রিটিশ নাগরিক আলি হামিদ বলেন, “আমাদের কণ্ঠস্বর দমিয়ে রাখা হচ্ছে। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি, অথচ আমাদের অপরাধী বানানো হচ্ছে। এটি আসলে গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর আঘাত।”অন্যদিকে, ব্রিস্টলে এক বিক্ষোভকারী নারী জানান, “গান্ধীর মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে আমরা বলতে চাইছি—হিংসা নয়, ন্যায় চাই। কিন্তু সরকার আমাদের দাবি শুনতে চাইছে না।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটিশ সরকারের এই পদক্ষেপে দেশজুড়ে নতুন করে বিভাজন তৈরি হতে পারে। একদিকে রয়েছে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন, অন্যদিকে রয়েছে নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা।এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও বড় প্রভাব পড়তে পারে। প্যালেস্টাইনপন্থী সংগঠনকে সন্ত্রাসী তকমা দেওয়া মানে পরোক্ষভাবে ইজরায়েলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া। ফলে আরব দেশগুলির সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্কেও টানাপোড়েন দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।মানবাধিকার সংগঠনগুলির বক্তব্য, কেবলমাত্র প্রতিবাদ ও মতপ্রকাশের অধিকার ব্যবহার করার জন্য মানুষকে গ্রেপ্তার করা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল—এই পদক্ষেপের ফলে ইংল্যান্ডে বসবাসকারী প্যালেস্টাইন সমর্থকদের ভবিষ্যৎ কী হবে? যদি প্রতিবাদ আরও জোরদার হয়, তবে পরিস্থিতি আরও অস্থির হতে পারে। আবার সরকার কঠোর অবস্থান বজায় রাখলে গ্রেপ্তার এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।আন্তর্জাতিক মহলও ব্রিটিশ সরকারের এই সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, সেটিই এখন আলোচনার প্রধান বিষয়।

প্যালেস্টাইন-ইজরায়েল ইস্যুর আঁচ এভাবে ব্রিটিশ মাটিতে ছড়িয়ে পড়া নতুন কোনও ঘটনা নয়। তবে এবারের পদক্ষেপ ব্রিটিশ সরকারের অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। একদিকে প্রশাসনের দাবি, এটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। অন্যদিকে প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ, তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।এই সংঘাত কেবল ব্রিটিশ রাজনীতিকেই নয়, আন্তর্জাতিক সম্পর্ককেও নাড়িয়ে দিতে পারে। এখন দেখার বিষয়—আসন্ন সময়ে এই উত্তেজনা কোন পথে গড়ায়।