Friday, August 22, 2025
Google search engine
Homeটপ 10 নিউসপ্যানিক অ্যাটাক মানেই আতঙ্ক নয়, জানুন কীভাবে সামলাবেন

প্যানিক অ্যাটাক মানেই আতঙ্ক নয়, জানুন কীভাবে সামলাবেন

Panic attacks are not just panic, know how to deal with them : আধুনিক জীবনের দৌড়ঝাঁপ, অনিশ্চয়তা, মানসিক চাপ—সব মিলিয়ে মানুষের মনে জমে থাকে এক অদৃশ্য বোঝা। অনেক সময় এই চাপ হঠাৎ করেই বিস্ফোরণের মতো প্রকাশ পায়, আর তখনই ঘটে প্যানিক অ্যাটাক। নামটা শুনলেই অনেকের মনে ভয় ঢুকে যায়, কেউ কেউ আবার গুরুত্ব না দিয়ে একে বাড়াবাড়ি বলে উড়িয়ে দেন। বাস্তবে, প্যানিক অ্যাটাক কোনও খামখেয়ালি আচরণ নয়, বরং মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

প্যানিক অ্যাটাকের পেছনে থাকতে পারে নানা কারণ—অতীতের কোনও মানসিক আঘাত, ছোটবেলার ট্রমা, ব্রেকআপ, হঠাৎ ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর ঘটনা, কিংবা দীর্ঘদিনের চাপা উদ্বেগ। অনেক সময় আবার নির্দিষ্ট কোনও কারণ ছাড়াই এটি ঘটতে পারে। এই অবস্থায় হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, বুকে চাপ অনুভূত হওয়া, শ্বাসকষ্ট, হাতের তালু ঘেমে যাওয়া, আশেপাশে সবকিছু কালো হয়ে আসা বা যেন চারদিক থেকে চেপে ধরা হচ্ছে—এসবই হতে পারে লক্ষণ। ব্যক্তি বিশেষে উপসর্গ ভিন্ন হতে পারে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্যানিক অ্যাটাক মানে হার্ট অ্যাটাক নয়, এটি শারীরিক দুর্বলতার প্রমাণও নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে জমা হওয়া মানসিক চাপের একটি তীব্র বহিঃপ্রকাশ।

3 Common Triggers of Panic Attacks

যদিও প্যানিক অ্যাটাক সরাসরি স্বাস্থ্য মন্ত্রকের কোনও বিশেষ ঘোষণার বিষয় নয়, তবুও দেশের বিভিন্ন মানসিক স্বাস্থ্য উদ্যোগ এবং ‘ন্যাশনাল মেন্টাল হেলথ প্রোগ্রাম’-এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে এই বিষয়ে সচেতন করার চেষ্টা চলছে। অনেক সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শদাতা সেবা চালু করেছে, যেখানে বিশেষজ্ঞরা প্যানিক অ্যাটাকের মতো সমস্যার মোকাবিলায় গাইডলাইন দিচ্ছেন।

GettyImages 1207994321 header

বিভিন্ন মানুষ প্যানিক অ্যাটাক সম্পর্কে ভিন্ন মত পোষণ করেন। কেউ বলেন, “এ তো সামান্য নার্ভাসনেস।” কেউ আবার মনে করেন, “যে ভুক্তভোগী নয়, সে বোঝেই না এই অভিজ্ঞতার তীব্রতা।” একাধিক তরুণ-তরুণী জানিয়েছেন, তারা জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এই অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন, কিন্তু সামাজিক কলঙ্কের ভয়ে প্রকাশ করেননি। অনেকে আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিজ্ঞতা শেয়ার করে অন্যদের সাহস জোগানোর চেষ্টা করছেন।

panic attack symptoms prevention

প্যানিক অ্যাটাকের সময় মস্তিষ্ক ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ প্রতিক্রিয়ায় চলে যায়। অ্যাড্রেনালিন হরমোন দ্রুত বেড়ে যায়, শরীর চরম সতর্ক অবস্থায় পৌঁছায়। এই সময় শরীরের প্রতিক্রিয়াগুলি ভয়ঙ্কর মনে হতে পারে, কিন্তু বাস্তবে তা শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার ফল।সমস্যা হল, বারবার এই ধরনের অ্যাটাক হলে মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে—উদ্বেগ, অবসাদ, আত্মবিশ্বাস হ্রাস, এমনকি সামাজিক বিচ্ছিন্নতা। তাই চিকিৎসকরা বলছেন, শুধু তাৎক্ষণিক সমাধানে আটকে থাকলে চলবে না, বরং মূল সমস্যাটি শনাক্ত করে তা মোকাবিলার চেষ্টা করতে হবে।

2530312

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ মানুষকে প্রথমে সচেতন হতে হবে যে প্যানিক অ্যাটাক লজ্জার নয় বা দুর্বলতার প্রমাণও নয়। শ্বাস-প্রশ্বাসের নিয়ন্ত্রণ (৪ সেকেন্ড শ্বাস নেওয়া – ৭ সেকেন্ড ধরে রাখা – ৮ সেকেন্ডে ছাড়া), ঠান্ডা জলের ঝাপ্টা, গ্রাউন্ডিং টেকনিক, প্রতিদিন অন্তত কিছুটা হাঁটাচলা—এসব তাৎক্ষণিকভাবে উপসর্গ হ্রাসে সহায়ক। তবে দীর্ঘমেয়াদে কাউন্সেলিং, থেরাপি, জীবনধারায় পরিবর্তন এবং আশেপাশের মানুষের সহানুভূতি অত্যন্ত জরুরি।

symptoms of panic attacks and what to do

প্যানিক অ্যাটাক মানেই আতঙ্ক নয়—এটি একটি সংকেত যে আমাদের শরীর ও মন সাহায্যের প্রয়োজন বোধ করছে। সঠিক পদক্ষেপ, সচেতনতা এবং চিকিৎসার মাধ্যমে এই সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। আমাদের উচিত নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হওয়া, ঠিক যেমন আমরা শারীরিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিই। কারণ সুস্থ মনই সুস্থ জীবনের ভিত্তি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments