Pakistani spy caught by CID in Rajasthan ahead of Independence Day : ভারতের ইতিহাসে স্বাধীনতা দিবসের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বদা জোরদার থাকে। সন্ত্রাসবাদ, সীমান্ত বিরোধ এবং আন্তর্জাতিক গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনা এই সময়ে বহুবার সামনে এসেছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী রাজ্য রাজস্থান, যেখান থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি সীমান্ত সংযোগ রয়েছে, সেখানে গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সতর্কতা বহু গুণ বেড়ে যায়। জয়সলমীরের মতো সীমান্তবর্তী শহরগুলোতে সেনা ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বহু স্থাপনা রয়েছে, যা পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের প্রধান নজরে থাকে। এই প্রেক্ষাপটে সিআইডির সাম্প্রতিক অভিযান নতুন করে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
রাজস্থানের জয়সলমীরে সিআইডির জালে ধরা পড়লেন এক পাক গুপ্তচর। ধৃতের নাম মহেন্দ্র প্রসাদ, বয়স ৩২ বছর। তিনি চুক্তিভিত্তিক ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও)-র গেস্ট হাউসে। অভিযোগ, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ ছিল তাঁর। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সংবেদনশীল ও গোপন তথ্য তিনি নিয়মিত শত্রু দেশের হাতে তুলে দিতেন।তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, এমনকি “অপারেশন সিঁদুর”-এর সময়ও তিনি পাক গোয়েন্দাদের তথ্য সরবরাহ করেছিলেন। এই ঘটনা নিরাপত্তা মহলে গভীর উদ্বেগের কারণ হয়েছে। বুধবার সকালে সিআইডি খবর পায় যে, ডিআরডিও গেস্ট হাউসে কর্মরত এক কর্মী সন্দেহজনক কার্যকলাপে যুক্ত। সঙ্গে সঙ্গে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাজস্থানের সিআইডি সূত্রে জানানো হয়েছে, স্বাধীনতা দিবসের আগে গোটা রাজ্যেই নজরদারি ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছিল। সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ টহল, সরকারি দফতর ও সেনা-সংক্রান্ত স্থাপনায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ চলছিল। এই কড়া নজরদারির ফলেই মহেন্দ্র প্রসাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সামনে আসে। বর্তমানে তাঁর মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে।এই ঘটনা কেবল একটি গ্রেপ্তার নয়, বরং দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভেতরে লুকিয়ে থাকা বিপদকে সামনে এনেছে।

ডিআরডিও-এর মতো প্রতিরক্ষা সংস্থা যেখানে ভারতের অত্যাধুনিক অস্ত্র, প্রযুক্তি ও কৌশল নিয়ে কাজ হয়, সেখানে কর্মরত একজনের হাতে সংবেদনশীল তথ্য চলে যাওয়া শত্রুর জন্য বিশাল সুবিধা এনে দিতে পারে।অপারেশন সিঁদুরের সময় তাঁর চরবৃত্তি বিশেষভাবে চিন্তার কারণ, কারণ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযান ছিল। এই ধরনের তথ্য পাচারের ফলে সেনা কৌশল ফাঁস হয়ে যাওয়া বা সৈন্যদের নিরাপত্তা বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, মহেন্দ্র প্রসাদের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত আছে কিনা। এই ধরনের গুপ্তচরচক্র সাধারণত একটি বড় নেটওয়ার্কের অংশ হয়, যেখানে একাধিক ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন দায়িত্বে থাকে। সম্ভবত আসন্ন দিনে আরও কিছু গ্রেপ্তারি হতে পারে। পাশাপাশি, প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত স্থাপনায় কর্মরত চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই আরও কড়া করার দাবি উঠছে।

স্বাধীনতা দিবসের আগে এই গ্রেপ্তারি ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। দেশের মাটি থেকে শত্রুর হয়ে কাজ করা বিশ্বাসঘাতকদের চিহ্নিত ও দমন করা যত জরুরি, ততই জরুরি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা। জয়সলমীরের এই ঘটনা প্রমাণ করে, শত্রু সবসময় সীমান্ত পেরিয়ে আসে না—কখনও কখনও তারা আমাদের ভেতরেই থাকে।