Wednesday, August 27, 2025
Google search engine
Homeপশ্চিমবঙ্গআসানসোলশিয়াকুলবেড়িয়া ও এথোড়ায় ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ কর্মসূচি

শিয়াকুলবেড়িয়া ও এথোড়ায় ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ কর্মসূচি

”Our Neighborhood, Our Solution’ program in Shiakulberia and Ethora:-শিয়াকুলবেড়িয়া কমিউনিটি হল এবং এথোড়া বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সম্প্রতি আয়োজন করা হল ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ কর্মসূচির শিবির, যা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশমতো রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে, এবং সালানপুর ব্লকের অন্তর্ভুক্ত কল্যা পঞ্চায়েত ও এথোড়া পঞ্চায়েতে পৌঁছে দিচ্ছে প্রতিশ্রুতির আলো, সাধারণ মানুষের নিত্যকষ্টগুলো মেটে দ্রুততার সঙ্গে। কর্মসূচি-প্রতিনিধিরা — সালানপুর বিধায়ক ও আসানসোল পুরনিগমের মেয়র বিধান উপাধ্যায়, বিডিও দেবাঞ্জন বিশ্বাস, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ মহম্মদ আরমান, পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি বিদ্যুৎ মিশ্র, তৃণমূল ব্লক সহ-সভাপতি ভোলা সিং, সহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা—সকলেই একসঙ্গে বসে উপভোগ্য — স্থানীয় মানুষের যন্ত্রণার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন, তারপরেই প্রতিশ্রুতি আসে—রাস্তা খুরানো, পানীয় জলের কল বসানো, হাইমাস্ট লাইট স্থাপন, স্কুল বা ICDS সেন্টারের ছাদ মেরামত সহ তাদের দৈনন্দিন জীবনের অমর্মান্তিক যন্ত্রণাগুলো পরিষ্কারভাবে তাদের অন্তর থেকে উঠে আসে। এই শিবিরই বাস্তবের মঞ্চ, যেখানে রাজ্যের মোট ৮০ হাজার বুথের তিন–তিনটি মিলিয়ে প্রায় ২৭ হাজার ক্যাম্প বসছে, এবং প্রতিটি বুথে বরাদ্দ ১০ লক্ষ টাকা করে। প্রথম দিনেই রাজ্যের ৬৩২টি শিবির উদ্বোধন করা হয়েছিল, সেটা এখানেও ছিল — সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শুনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তা সমাধানে সরকারি অঙ্গীকার প্রমাণিত হয়েছিল ।

IMG 20250812 WA0018

নবান্ন থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ জেলাশাসকদের ভার্চুয়াল বৈঠকে নির্দেশ দেন—বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে মানুষের সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে, জমা হওয়া সমস্যার রিপোর্ট রাজ্য সদর দফতরে পাঠিয়ে তদারকি করতে হবে এবং ১৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রকল্প গ্রহণ ও ১৫ জানুয়ারির মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে হবে।এই কর্মসূচির গুরুত্ব সাধারণ মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে — “আমাদের আলো, পানি, রাস্তা—যে ছোট ছোট কাজগুলো নিয়ে আজ এত বড়—” এক গ্রামবাসী হেসে বলছেন, “এটাই তো আসল উন্নয়ন”, অন্য কেউ বলেছেন, “স্কুলের ছাদ মেরামত হলেই বৃষ্টির দিনগুলো আর মুঠোয় দুর্ভোগ জমবে না।” এলাকার চেয়ারম্যান বা বিধায়কদের উপস্থিতি ও মাইলেজ политики থাকলেও, বেশিরভাগ সাধারণ মানুষ মন্তব্য করছেন—“এবার সত্যিই আমাদের কথা শোনা হচ্ছে, উঁচু অফিসে ভুলেও পৌঁছে যেতনা এই সমস্যাগুলো।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা অবশ্য বলছেন, নির্বাচন ঘিরে এটি প্রশাসনিক কর্মদক্ষতা দেখানোর একটি কৌশল, কিন্তু রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড থাকুক বা না থাকুক, এই প্রকল্পে বাস্তব সুবিধা পাচ্ছে সাধারণ মানুষ—যেখানে রাস্তা, স্কুল, পানি-বিদ্যুতের সমস্যা ছাড়াও, ‘দূয়ারে সরকার’ এর মতো দু’-ইন-ওয়ান পরিষেবাও একই ছাদের নিচে পাচ্ছেন সাধারণ পাড়া—স্কলারশিপ, ভাতা, স্বাস্থ্যসাথী এর আবেদন করা যাচ্ছে ক্যাম্পে।

IMG 20250812 WA0017

এখানে রয়েছে বিশ্বাসের পুনঃস্থাপন – ‘সরকার দোরগোড়ায় আসছে’—এই অনুভূতি, এবং বাস্তব পরিবর্তনের আশ্বাস। তবে ব্যাপক বাজেট থাকা (প্রায় ৮০০০ কোটি টাকা) ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো থাকলেও এই দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতারণা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, এবং সময়সীমার চাপ—এসব চ্যালেঞ্জও কম নয় ।শিয়াকুলবেড়িয়া ও এথোড়ার এই শিবিরে সাধারণ মানুষ যেমন স্বস্তি পাচ্ছে, তেমনি প্রশাসনকেও জনসেবায় বিশ্বাসের স্ফুরণ স্পষ্টতই দেখতে মিলছে। পরিবর্তন শুরু হলো একটা কমিউনিটি হল থেকে, যেখানে লোকে নিজের দরকার নিজের মুখে বলছে, আর অনুকরণের চাক চুরির আচরণ নাই—গুরুগম্ভীর আশা, সহজ ভাষায়, একবার ‘আমরা বলছি’, ‘আমরা দিচ্ছি’—এই উদ্যোগ যেন রাজ্যের প্রতিটি পাড়াকে একটি মঞ্চে পরিণত করে, যেখানে সমস্যা নয় সমাধানই প্রধান।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments