One depression after another in the state!:-আকাশ জুড়ে কালো মেঘ, বাতাসে গুমোট অস্বস্তি আর গ্রামের মাঠ থেকে শহরের রাস্তায় জল জমে তৈরি হচ্ছে দুর্ভোগের ছবি—পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে এখন এটাই স্বাভাবিক দৃশ্য হয়ে উঠেছে, কারণ একের পর এক নিম্নচাপ তৈরি হচ্ছে বঙ্গোপসাগরে, আর তার জেরেই দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ সর্বত্রই মানুষ আজ চিন্তিত; আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে, আবার সোমবার বঙ্গোপসাগরে আরেকটি নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল, পাশাপাশি উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে নতুন ঘূর্ণাবর্তও নিম্নচাপে পরিণত হতে চলেছে, ফলে সমুদ্রের ঢেউ বাড়ছে, উপকূল উত্তাল, আর মৎস্যজীবীদের ইতিমধ্যেই সমুদ্রে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুরের এক জেলে কেঁদে বলছিলেন—“দু’দিন মাছ ধরতে না গেলে আমাদের ঘরে চুলো জ্বলে না, অথচ সমুদ্র উত্তাল, যেতে পারছি না, কীভাবে বাচবো?”

—এমন হাহাকার এখন দিগন্তজোড়া; দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া থেকে শুরু করে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, ঝাড়গ্রাম সর্বত্রই ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে, উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ারেও একই সতর্কতা, এর সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে বইছে দমকা হাওয়া, ফলে বড় গাছ পড়ে যাওয়া, কাঁচা ঘর ভেঙে পড়া, বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, কৃষকদের চোখে সবচেয়ে বেশি চিন্তা ধানক্ষেতের; নদিয়া জেলার এক কৃষক জানালেন—“ধানের চারা মাটিতে পুঁতেছি, কিন্তু এমন জল জমলে নষ্ট হয়ে যাবে, এবার ফসলের কী হবে জানি না”, শহরে অন্য ছবি—কলকাতার রাস্তা এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই হাঁটু জলে ডুবে যাচ্ছে, ট্রাফিক পুলিশ হিমশিম খাচ্ছে যানজট সামলাতে, অফিসযাত্রীরা ভিজে নাজেহাল; আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে আগামী ২৪ ঘন্টায় কলকাতার তাপমাত্রা ২৫ থেকে ২৯ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করবে, কিন্তু বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা ৯২ থেকে ৯৮ শতাংশে পৌঁছে যাচ্ছে, ফলে মানুষ দমবন্ধ গরম আর ভারী বৃষ্টির মধ্যে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে,
আবহবিদরা জানাচ্ছেন মৌসুমি অক্ষরেখা এখন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত, যার কারণে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয়বাষ্প ঢুকে বৃষ্টিকে বাড়িয়ে তুলছে, বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা এভাবে যদি বারবার নিম্নচাপ তৈরি হতে থাকে তবে আগামী কয়েকদিন নদী-নালা উপচে পড়তে পারে, বাঁধ ভেঙে প্লাবনও হতে পারে, যা দক্ষিণবঙ্গের গ্রামীণ জীবনে ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে; মৎস্যজীবীরা সমুদ্রে যেতে না পারায় বাজারে মাছের দাম হু-হু করে বাড়ছে, ফলে সাধারণ মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে উঠছে, কলকাতার এক গৃহবধূ বলছিলেন—“আগে রুই কাতলা ৩০০ টাকায় পেতাম, এখন ৫০০-র নিচে নামছে না, প্রতিদিন সবজি আর ডিমেই দিন কাটছে”, শিক্ষার্থীরাও সমস্যায়, কারণ বৃষ্টির জন্য স্কুলে যাতায়াত মুশকিল হচ্ছে, অনেক জায়গায় ছুটি ঘোষণা করতে হচ্ছে; এদিকে সরকার প্রশাসনিক বৈঠকে পরিস্থিতি সামলানোর রণনীতি করছে, বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর ইতিমধ্যেই উদ্ধার দল মোতায়েন রেখেছে, বিদ্যুৎ দফতরও সতর্ক, তবে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক রয়ে গেছে—যদি টানা বৃষ্টি হয়, তবে ঘরবাড়ি ডুবে যাবে, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হবে, স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেবে, ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার মতো রোগ ছড়াবে; বিশেষজ্ঞরা বলছেন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন আরও স্পষ্ট হচ্ছে, আগে বর্ষাকালে এমনভাবে বারবার নিম্নচাপ তৈরি হতো না, কিন্তু এখন আবহাওয়ার খামখেয়ালি বেড়েছে, আর তার ধাক্কা সরাসরি লাগছে কৃষক, শ্রমিক, জেলে আর সাধারণ মানুষের জীবনে; জলবায়ুবিদ সুশান্ত মণ্ডল জানিয়েছেন—

“উষ্ণ বঙ্গোপসাগর নিম্নচাপ সৃষ্টির প্রবণতা বাড়াচ্ছে, আগামী কয়েক বছর এভাবে বৃষ্টির ধরণ আরও অনিশ্চিত হবে, প্রস্তুতি না নিলে বিপদ এড়ানো কঠিন হবে”, তাই এখন রাজ্য প্রশাসনের সামনে চ্যালেঞ্জ—একদিকে গ্রামীণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে শহুরে যানজট, জলাবদ্ধতা, বাজারের মূল্যবৃদ্ধি সামলানো; মানুষ এখন তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে, ভরসা করছে সরকারের ত্রাণকাজের দিকে, কারণ বৃষ্টি শুধু ফসলের জন্য আশীর্বাদ নয়, অতি বৃষ্টি হয়ে দাঁড়িয়েছে অভিশাপ, তাই গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র এখন একই সুর—“আবহাওয়া একটু সামলাক, জীবনটা একটু স্বাভাবিক হোক।”