Now bullet trains will run in South India too!: ভারতের পরিবহণ ব্যবস্থা গত কয়েক দশকে এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। একসময় যেখানে কয়েকশো কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পুরো একটি দিন কেটে যেত, সেখানে এখন দ্রুতগতির এক্সপ্রেস ট্রেন কিংবা আধুনিক ফ্লাইট সেবা মানুষের জীবনকে সহজ করে তুলেছে। কিন্তু তবুও বিশ্বমানের সঙ্গে পাল্লা দিতে ভারত সরকার দীর্ঘদিন ধরেই বুলেট ট্রেন চালুর পরিকল্পনা করে আসছিল। মুম্বই–আহমেদাবাদ করিডরের কাজ ইতিমধ্যেই জোর কদমে চলছে। এবার দক্ষিণ ভারতের দিকে নজর। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে দক্ষিণ ভারতেও বুলেট ট্রেন চালুর ইঙ্গিত দিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু।
শুক্রবার অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু ঘোষণা করেন, শিগগিরই দক্ষিণ ভারতের চারটি বড় শহর—হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু, অমরাবতী এবং চেন্নাই—বুলেট ট্রেনের মাধ্যমে যুক্ত হবে। তাঁর দাবি, এই চার শহরের মধ্যে যোগাযোগের চাহিদা অভাবনীয়ভাবে বেড়েছে। প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ সরাসরি এই পরিষেবার উপর নির্ভর করবেন, যা দক্ষিণ ভারতের পাশাপাশি গোটা দেশের জন্যই অর্থনৈতিক বৃদ্ধির এক বিশাল সুযোগ তৈরি করবে।নায়ডু জানান, ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য রুট নিয়ে একটি বিশদ সমীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, শুধু বুলেট ট্রেন নয়, রাজ্যের সড়ক পরিষেবাও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিতেও উন্নত মানের রাস্তা নির্মাণ করা হবে, যাতে আধুনিক পরিবহণ ব্যবস্থার সুফল সর্বত্র পৌঁছে দেওয়া যায়।

অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্প কার্যকর হলে রাজ্যের শিল্পোন্নয়ন, পর্যটন এবং ব্যবসার ক্ষেত্রেও ব্যাপক গতি আসবে। অন্যদিকে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারও ইতিমধ্যেই বুলেট ট্রেনকে দেশের “ড্রিম প্রজেক্ট” হিসাবে চিহ্নিত করেছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে বুলেট ট্রেনে যাত্রা করেন টোকিও থেকে সেন্ডাই পর্যন্ত। সেখানে তিনি বুলেট ট্রেনের আধুনিক প্রযুক্তি কাছ থেকে দেখেন এবং জাপানের বুলেট-ট্রেন কোচ উৎপাদন কেন্দ্রও পরিদর্শন করেন।এ বছরের শুরুতে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, মুম্বই-আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেন রুটের ৩০০ কিলোমিটার ভায়াডাক্টের কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। দক্ষিণ ভারতের ক্ষেত্রে লক্ষ্য ধরা হয়েছে ২০২৮ সাল। সব ঠিক থাকলে, সেই সময়েই দক্ষিণ ভারতের মাটিতে দৌড়াতে শুরু করবে প্রথম বুলেট ট্রেন।

হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু, অমরাবতী এবং চেন্নাইয়ের সাধারণ মানুষ ইতিমধ্যেই এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মরত অনেকেই জানিয়েছেন, দুই শহরের মধ্যে দ্রুত যাতায়াত তাঁদের কাজকে আরও সহজ করে তুলবে। ব্যবসায়ী মহলেও এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁদের মতে, পরিবহণের এই দ্রুততা দক্ষিণ ভারতের ব্যবসা ও শিল্পক্ষেত্রকে বিশ্বের সঙ্গে পাল্লা দিতে সাহায্য করবে।অন্যদিকে, অনেক শিক্ষার্থী মনে করছেন, বড় শহরে পড়াশোনার সুযোগ নিতে আর তেমন অসুবিধা হবে না। মাত্র কয়েক ঘণ্টায় গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব হলে পরিবারের সঙ্গে থেকেও উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়া আরও সহজ হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ ভারতের অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য বুলেট ট্রেন এক গেম-চেঞ্জার হতে পারে। আজ যে সময়ের মূল্য দিন দিন বাড়ছে, সেখানে অল্প সময়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সুবিধা শিল্পপতি থেকে সাধারণ মানুষ—সবার জীবনকে বদলে দেবে। পাঁচ কোটি মানুষের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ এই পরিষেবার উপর নির্ভর করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর সঙ্গে সঙ্গে পর্যটন খাতও অভাবনীয় সাফল্য পাবে।তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। বিপুল ব্যয়, জমি অধিগ্রহণ, প্রযুক্তি রপ্তানি এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা—সব মিলিয়ে প্রকল্পটি কার্যকর করতে সময় এবং পরিকল্পনার সঠিক সমন্বয় জরুরি। মুম্বই-আহমেদাবাদ করিডর তৈরির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এই প্রকল্পকে আরও দ্রুত রূপ দেওয়া সম্ভব হতে পারে।

যদি সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়, ২০২৮ সালেই দক্ষিণ ভারত নতুন এক যাতায়াত যুগের সাক্ষী হতে চলেছে। হায়দরাবাদ থেকে চেন্নাই, বেঙ্গালুরু থেকে অমরাবতী—সব মিলিয়ে দক্ষিণের চারটি বড় শহর যখন বুলেট ট্রেনে যুক্ত হবে, তখন শুধু মানুষের যাতায়াত নয়, এক নতুন অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধ্যায় শুরু হবে। ভারতকে বিশ্বমানের পরিবহণের দৌড়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে এই প্রকল্প।আজকের যুগে সময়ই মূল সম্পদ। সেই সময় বাঁচাতেই বুলেট ট্রেনের মতো প্রকল্প মানুষের স্বপ্নকে ছুঁয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ ভারতের মানুষের কাছে এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে আশার আলো। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, ২০২৮ সালে সত্যিই দক্ষিণ ভারতের মাটিতে ছুটবে বুলেট ট্রেন, নাকি আরও পিছিয়ে যাবে সেই প্রতিশ্রুতি—সেদিকেই তাকিয়ে সবাই।