New air defense, stronger India : ভারত বহু দশক ধরে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছে। দেশীয় গবেষণা সংস্থা ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (DRDO) সেই প্রয়াসের অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি। আধুনিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম। যুদ্ধক্ষেত্রে বা সীমান্ত অঞ্চলে শুধু স্থল বাহিনী বা নৌবাহিনী নয়, সবচেয়ে বেশি হুমকি তৈরি করে শত্রুপক্ষের বিমান, ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। তাই একবিংশ শতাব্দীতে আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিকে শক্তিশালী করা কোনও দেশের জন্য কৌশলগত নিরাপত্তার ভিত্তি বলেই ধরা হয়।এই প্রেক্ষাপটে ওড়িশা উপকূলে সম্প্রতি যে সফল পরীক্ষা সম্পন্ন হল, তা ভারতের প্রতিরক্ষা ইতিহাসে একটি মাইলফলক। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই অত্যাধুনিক ব্যবস্থা— ইন্টিগ্রেটেড এয়ার ডিফেন্স ওয়েপন্স সিস্টেম (IADWS)—ভারতকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিল।
বৃহস্পতিবার দুপুরে DRDO-র বিজ্ঞানীরা সফলভাবে পরীক্ষা করলেন IADWS, যা ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষায় এক বিপ্লবী সংযোজন। এই সিস্টেমে রয়েছে তিন স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই তিনটি স্তর একসঙ্গে কাজ করে যেকোনও শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন বা বিমানের আক্রমণকে সেকেন্ডেরও কম সময়ে প্রতিহত করতে সক্ষম। প্রতিরক্ষা মহলের মতে, এমন সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য অভূতপূর্ব শক্তি নিয়ে এল।

পরীক্ষার সাফল্যের পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং DRDO-কে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন—
“এই প্রযুক্তি ভারতের আকাশসীমাকে আরও দুর্ভেদ্য করে তুলবে। স্বদেশি প্রযুক্তিতে এমন সাফল্য ভারতের আত্মনির্ভরতার পথে এক বিশাল পদক্ষেপ।”প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই প্রতিক্রিয়া শুধু রাজনৈতিক বার্তা নয়, বরং দেশের প্রতিরক্ষা নীতি ও গবেষণা কাঠামোকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করল।

ওড়িশা উপকূলের যে অঞ্চল থেকে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে, সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গর্বের আবহ। একাধিক বাসিন্দা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন— “আমরা এতদিন ধরে শুনেছি DRDO-র পরীক্ষা হয় সমুদ্র উপকূলে। কিন্তু এবার দেশবাসী জানল, এখান থেকেই দেশের সুরক্ষার ভবিষ্যৎ লেখা হচ্ছে।”দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ নাগরিকরাও সামাজিক মাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। অনেকেই লিখেছেন, এই সাফল্য ভারতের আত্মনির্ভরতার প্রতীক, আবার অনেক তরুণ লিখেছেন—এই ধরনের প্রযুক্তি দেখে তারা ভবিষ্যতে বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, IADWS শুধু একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নয়, বরং এটি ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিজ্ঞানের নতুন যুগের সূচনা। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ কৌশল দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। ড্রোন হামলা থেকে শুরু করে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র—আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে আকাশপথের আক্রমণ সবচেয়ে ভয়ঙ্কর। এই পরিস্থিতিতে QR-SAM, VSHORADS এবং DEW-এর মতো প্রযুক্তি ভারতকে আরও সুরক্ষিত রাখবে।এছাড়াও, এই সিস্টেম সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হওয়ায় বিদেশ থেকে অস্ত্র আমদানির উপর নির্ভরতা কমবে। অর্থনৈতিকভাবে এটি ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেটে বড় সাশ্রয় করবে এবং একই সঙ্গে “মেক ইন ইন্ডিয়া” উদ্যোগকে শক্তিশালী করবে।

ভারত সরকারের লক্ষ্য আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সীমান্ত অঞ্চলে স্থাপন করা। বিশেষ করে পশ্চিম ও উত্তর সীমান্তে, যেখানে পাকিস্তান ও চিনের তরফ থেকে বারবার আকাশপথে হুমকির আশঙ্কা থাকেএকই সঙ্গে DRDO এখন আরও উন্নত প্রযুক্তি যেমন হাইপারসনিক মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করছে। ফলে ভবিষ্যতে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শুধু আঞ্চলিক নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।

ওড়িশার উপকূলে সফল পরীক্ষার মাধ্যমে ভারত আজ প্রমাণ করল—দেশীয় প্রযুক্তিতেই তৈরি হতে পারে বিশ্বের সেরা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। শুধু সামরিক শক্তি নয়, এ সাফল্য ভারতের আত্মবিশ্বাস এবং বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির প্রতীক। এই অর্জন কেবল সীমান্ত রক্ষার নয়, বরং আগামী প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।