Myanmar devastated by powerful earthquake : শুক্রবার সকালে মায়ানমারের মধ্যাঞ্চলে ঘটে গেল এক শক্তিশালী ভূমিকম্প, যার তীব্রতা ছিল ৭.৭। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সাগাইং শহর থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে। প্রায় আধা মিনিট ধরে এই কম্পন চলেছিল, যা পুরো এলাকায় ভয়াবহ আতঙ্কের সৃষ্টি করে। রাজধানী নেপিডোসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সড়কে ফাটল দেখা দেয় এবং বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যেই কিছুক্ষণ পর ৬.৪ তীব্রতার আফটারশকও অনুভূত হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে।
মায়ানমারের নেপিডো শহরে ভূমিকম্পের ফলে জাতীয় জাদুঘরের ছাদ থেকে অংশবিশেষ ভেঙে পড়ে এবং ভবনের দেয়ালে বড় ফাটল দেখা যায়। আতঙ্কে কর্মীরা দ্রুত দৌড়ে বাইরে চলে আসেন। শহরের বিভিন্ন সড়কে এবং সেতুতে বড় বড় ফাটল তৈরি হয়েছে, যার কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। মায়ানমারের ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয় স্থাপত্যগুলোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কিছু প্রাচীন প্যাগোডা ও মন্দির ভেঙে পড়েছে, যা দেশটির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উপর বড় আঘাত হেনেছে।
এছাড়া, ভূমিকম্পের কারণে কিছু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নদীর পাড় ভেঙে পানি গ্রামে ঢুকে পড়েছে, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হতে হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ছয়টি অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে এবং উদ্ধারকাজ জোরকদমে চলছে।
ভূমিকম্পের কম্পন শুধু মায়ানমারেই সীমাবদ্ধ ছিল না; থাইল্যান্ডের বিভিন্ন শহরেও এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। ব্যাংককে এক নির্মাণাধীন ভবনের ছাদের উপরে থাকা সুইমিং পুলের জল রাস্তার ওপর ছিটকে পড়ে, যা দেখে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা এই ভূমিকম্পের পর তাঁর নির্ধারিত সরকারি সফর বাতিল করে জরুরি বৈঠক ডাকেন।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে জানান, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন তাঁর প্রথম কাজ।মায়ানমারে এখন জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত খাবার, পানীয় জল এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে। তবে বহু এলাকায় সড়ক এবং সেতু ভেঙে পড়ার কারণে উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটছে। আহত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসার জন্য অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্র খোলা হয়েছে।