...
Thursday, April 3, 2025
Google search engine
Homeরাজনীতিঅন্যানো রাজনীতিনাগপুরে মামলার প্রধান আসামির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল পৌর কর্তৃপক্ষ

নাগপুরে মামলার প্রধান আসামির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল পৌর কর্তৃপক্ষ

Municipal authorities demolish the house of the main accused in the case in Nagpur: মহারাষ্ট্রের নাগপুর শহরে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এক ঘটনা ঘিরে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। মার্চ মাসের ১৭ তারিখে নাগপুরে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার প্রধান আসামি হিসেবে চিহ্নিত ফাহিম খানের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে নাগপুর পৌর করপোরেশন। পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, ফাহিম খানের বাড়িটি অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছিল এবং তাকে নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও তিনি বাড়িটি সরাননি। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাগপুর শহরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফাহিম খানের পরিবার ও সমর্থকরা অভিযোগ তুলেছেন, এই পদক্ষেপ নেওয়ার আগে তাদের মতামত নেওয়া হয়নি এবং এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করা হচ্ছে।নাগপুরে সম্প্রতি হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে দাঙ্গা হয়, যা শহরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি করে। সংঘর্ষের মূল অভিযুক্ত হিসেবে ফাহিম খানের নাম উঠে আসে। অভিযোগ, দাঙ্গার পেছনে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। দাঙ্গায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়, দোকানপাট ও গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।

নাগপুর পৌর করপোরেশন জানিয়েছে, ফাহিম খানের বাড়ি অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছিল। তারা বাড়িটি ভাঙার আগে ফাহিমকে নোটিশ দিয়েছিল। তবে, নোটিশ দেওয়ার পরও কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় অবশেষে পৌর করপোরেশন বুলডোজার দিয়ে বাড়িটি ভেঙে ফেলে। পৌর কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে বলা হয়েছে, “শহরের সমস্ত অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন সবার জন্য সমান।”ফাহিম খানের পরিবার এবং সমর্থকদের দাবি, এটি একটি পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত। তারা বলেন, “এটি শুধু আমাদের পরিবারকে টার্গেট করার একটি প্রক্রিয়া। বাড়ি ভাঙার আগে আমাদের সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয়নি এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মানা হয়নি।”

untitled design 2025 03 24t114907781 2025 03 05a3a23b24daa32e2a712c2eb0862d74

এই ঘটনার পর বোম্বে হাইকোর্ট একটি স্থগিতাদেশ জারি করে, যেখানে বলা হয় যে, বাড়ি ভাঙার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য শোনা অত্যন্ত জরুরি। মালিকদের শুনানি ছাড়া এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না বলে কোর্ট জানিয়েছে।নাগপুর শহরে এই ঘটনা ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে এবং বলেছে, “দাঙ্গাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। যাঁরা শহরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ প্রয়োজন।” অন্যদিকে, মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতারা এই ঘটনাকে তাঁদের ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর আঘাত বলে বর্ণনা করেছেন। নাগপুরের স্থানীয় বাসিন্দা ইমতিয়াজ শেখ বলেন, “এটি শুধু একটি বাড়ি ভাঙার ঘটনা নয়, এটি আমাদের অস্তিত্বের উপর আঘাত।”

মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাডনভিস ঘোষণা করেছেন যে, নাগপুরে সংঘর্ষে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে দাঙ্গাবাজদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দাঙ্গাবাজদের কাছ থেকে ক্ষয়ক্ষতির টাকা আদায় করা হবে। যদি তারা জরিমানা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে।”নাগপুর শহরে এই ঘটনার পর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে এবং প্রশাসন নাগরিকদের শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট অরুণ দেশমুখ বলেন, “আমরা কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শহরে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করেছি। নাগরিকদের আমরা শান্ত থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।”

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments

Seraphinite AcceleratorOptimized by Seraphinite Accelerator
Turns on site high speed to be attractive for people and search engines.