Tuesday, August 26, 2025
Google search engine
Homeঅন্যান্য "মৌসুমী অক্ষরেখা সক্রিয়, উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি, দক্ষিণে আর্দ্রতার দাপট"

 “মৌসুমী অক্ষরেখা সক্রিয়, উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি, দক্ষিণে আর্দ্রতার দাপট”

“Monsoon axis active, rain in North Bengal, humidity dominant in the south”:বাংলার আকাশে ফের সক্রিয় মৌসুমী অক্ষরেখা। প্রতিবছরের মতোই বর্ষার মাঝামাঝি সময়ে এই অক্ষরেখা অবস্থান বদল করে, কখনও উত্তর দিকে সরে এসে প্রবল বৃষ্টি ঘটায়, আবার কখনও দক্ষিণে সরে গিয়ে আর্দ্রতার জাঁকিয়ে বসা বাড়িয়ে দেয়। এবারও সেই চিত্রই ধরা পড়ল আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে। জলপাইগুড়ি থেকে শুরু করে উত্তর-পূর্ব ভারতের অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত এই অক্ষরেখা উত্তরবঙ্গের আকাশে ভারী বৃষ্টির ইঙ্গিত দিচ্ছে। অপরদিকে, দক্ষিণবঙ্গের জন্য বয়ে আনছে ঘন আর্দ্রতা ও অস্বস্তির প্রহর।আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বুধবার ১৩ আগস্ট উত্তর-পশ্চিম ও পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনা প্রবল। এই নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি তীব্র হতে পারে। বিশেষত দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও উত্তর দিনাজপুরে প্রবল বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই আকাশ ছিল মেঘলা, দুপুরের দিকে শুরু হয় ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে জানিয়েছে দফতর।দক্ষিণবঙ্গে অবশ্য বৃষ্টির চিত্র বিক্ষিপ্ত। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে মাঝে মাঝে বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও সামগ্রিকভাবে গুমোট গরমে নাজেহাল জনজীবন।

কলকাতায় মঙ্গলবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ৬১ থেকে ৯১ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করেছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় শহরের তাপমাত্রা ২৮ থেকে ৩৪ ডিগ্রির মধ্যে থাকবে বলে পূর্বাভাস।আবহাওয়া দফতর মৎস্যজীবীদের উদ্দেশে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। মঙ্গলবার ও বুধবার বাংলা ও ওড়িশা উপকূলবর্তী সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপকূল এলাকায় সমুদ্র উত্তাল থাকতে পারে, তাই নৌকো ও ছোট মাছ ধরার ট্রলারগুলিকে তীরে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরও জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গের প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, যাতে প্রবল বর্ষণে কোনো ভূমিধস বা জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।উত্তরবঙ্গের মানুষজনের কাছে এই সময়ের বৃষ্টি আশীর্বাদ এবং চ্যালেঞ্জ—দুটোই। চা বাগানের শ্রমিকদের একাংশ জানিয়েছেন, এই বৃষ্টি ফসলের জন্য ভালো হলেও অতিবৃষ্টি হলে জমি কাদায় ভরে যায়, চা পাতার মান নষ্ট হয়। জলপাইগুড়ির বাসিন্দা বিকাশ দত্ত বলেন, “বর্ষার বৃষ্টি ছাড়া আমরা বাঁচি না, কিন্তু লাগাতার বৃষ্টি হলে বাড়ি থেকে বের হওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে।” দক্ষিণবঙ্গে কলকাতার বাসিন্দারা অন্য গল্প বলছেন।

Screenshot 2025 07 28 163412

গড়িয়াহাটের দোকানদার শঙ্কর মল্লিক বলেন, “গরমে গ্রাহক দোকানে দাঁড়াতে চায় না। বরং একটু বৃষ্টি হলে ভালো লাগত।”মৌসুমী অক্ষরেখা সক্রিয় হলে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। উত্তরবঙ্গের পার্বত্য ও পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টি ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ায়। অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের উঁচু তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে—বিশেষত বয়স্ক ও শিশুদের জন্য। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগরের উপর নিম্নচাপ তৈরি হলে তা মৌসুমী বায়ুকে আরও সক্রিয় করে, যার প্রভাবে বৃষ্টির তীব্রতা ও বিস্তৃতি বাড়ে।আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ১৩ আগস্টের নিম্নচাপের প্রভাব আগামী কয়েকদিন অবধি স্থায়ী হতে পারে। উত্তরবঙ্গে বৃষ্টিপাতের ধারা বজায় থাকবে, এবং ১৫ আগস্ট পর্যন্ত কিছু জেলায় অতিবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের ক্ষেত্রে নিম্নচাপ কিছুটা সক্রিয় হলে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি বেড়ে গুমোট গরমের থেকে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে। তবে আপাতত দক্ষিণের আকাশে মেঘ জমলেও রোদ-গরম ও আর্দ্রতা থাকবে দাপটে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments