Modi meets Subhanshu after returning from space : ২৬ জুন, ২০২৫—এই দিনটি ভারতের মহাকাশ ইতিহাসে সোনার অক্ষরে লেখা হয়ে থাকবে। লখনউয়ের ছেলে শুভাংশু শুক্লা আন্তর্জাতিক মহাকাশ অভিযানের অংশ হয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে (আইএসএস)। অ্যাক্সিয়ম-৪ মিশনের চার সদস্যের একজন হিসেবে তিনি শুধু ভারতকেই নয়, গোটা বিশ্বকে দেখিয়েছেন নতুন প্রজন্মের ভারতীয় নভশ্চরদের মেধা ও সক্ষমতা।
এক বছর ধরে নাসা, অ্যাক্সিয়ম এবং স্পেসএক্সের বিভিন্ন কেন্দ্রে কঠোর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন শুভাংশু। দিনরাতের অনুশীলন, শারীরিক ফিটনেস পরীক্ষা থেকে শুরু করে মানসিক দৃঢ়তা—সব দিকেই তিনি উত্তীর্ণ হয়েছেন সাফল্যের সঙ্গে। এই অভিজ্ঞতা তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সর্বোচ্চ সাফল্যের পাশাপাশি ভারতের গর্বও হয়ে উঠেছে।
অ্যাক্সিয়ম-৪ মিশনের অংশ হিসেবে কমান্ডার পেগি হুইটসনের নেতৃত্বে শুভাংশু শুক্লা এবং অন্য দুই নভশ্চর আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছান। সেখানে থেকে দীর্ঘ কয়েকদিন মহাকাশ গবেষণায় সক্রিয় ভূমিকা নেন তিনি। বৈজ্ঞানিক নানা পরীক্ষা, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, এবং প্রযুক্তিগত অভিযোজনের মাধ্যমে তিনি শুধু তাঁর দক্ষতাই নয়, ভারতীয় গবেষণার সম্ভাবনাকেও তুলে ধরেছেন।
রবিবার সকালে দেশে ফেরেন শুভাংশু। দিল্লি বিমানবন্দরে তাঁকে দেওয়া হয় রাজকীয় অভ্যর্থনা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত এবং ইসরোর শীর্ষ কর্মকর্তারা স্বাগত জানান তাঁকে। সাধারণ মানুষের ভিড়ও চোখে পড়ার মতো ছিল, যাঁরা হাত নেড়ে, ফুল ছড়িয়ে এক মহাজাগতিক যাত্রার নায়কের প্রত্যাবর্তনকে অভিনন্দিত করেছেন।

সোমবার সকালেই শুভাংশুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাষ্ট্রনায়কের চোখে-ঠোঁটে ফুটে উঠেছিল গর্ব ও আবেগ। তিনি শুভাংশুকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন—এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি ১৪০ কোটির ভারতের স্বপ্নপূরণ। মহাকাশ অভিযানে ভারতের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হলো শুভাংশুর হাত ধরে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানান, শুভাংশুর এই যাত্রা প্রমাণ করে ভারতীয় যুব সমাজ সঠিক সুযোগ পেলে কীভাবে আন্তর্জাতিক মানচিত্রে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারে। ইসরোর কর্মকর্তারাও মন্তব্য করেন, এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের ভারতীয় মহাকাশ অভিযানে বিশেষ সহায়ক হবে।

লখনউ শহরে উৎসবের আমেজ। শুভাংশুর প্রতিবেশীরা মিষ্টি বিলিয়ে তাঁর সাফল্যে আনন্দ ভাগ করে নিয়েছেন। অনেকেই বলেছেন, শুভাংশু শুধু লখনউ নয়, পুরো দেশকেই গর্বিত করেছেন। তাঁর স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা স্মৃতিচারণ করেছেন, কীভাবে ছোটবেলা থেকেই মহাকাশ নিয়ে কৌতূহল ছিল শুভাংশুর। স্থানীয় তরুণরা বলছেন, তাঁর এই সাফল্য তাঁদের নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে।

অ্যাক্সিয়ম-৪ মিশন ভারতের কাছে বৈজ্ঞানিক এবং কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণায় ভারতীয় উপস্থিতি আরও দৃঢ় হলো। দ্বিতীয়ত, ভারতীয় তরুণদের কাছে শুভাংশু শুক্লা এক নতুন রোল মডেল হয়ে উঠলেন।
পরিসংখ্যান বলছে, আগামী দশকে মহাকাশ গবেষণায় ট্রিলিয়ন ডলারের বাজার তৈরি হবে। এই বাজারে ভারতের অংশগ্রহণ বাড়াতে এমন আন্তর্জাতিক মিশনে অংশ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। শুভাংশুর অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে ইসরোর গগনযান প্রকল্প কিংবা অন্যান্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় এক বিশেষ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।শুভাংশুর এই অভিজ্ঞতা ভারতীয় বিজ্ঞানীদের আরও একধাপ এগিয়ে নেবে। ভবিষ্যতে মহাকাশ গবেষণায় ভারতের নিজস্ব অবদান যেমন বাড়বে, তেমনই তরুণ প্রজন্মও প্রেরণা পাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনগুলোয় ভারত শুধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণেই নয়, বরং মহাকাশে দীর্ঘস্থায়ী গবেষণাতেও অগ্রণী ভূমিকা নেবে।
শুভাংশুর পরবর্তী লক্ষ্য কী হবে—তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তিনি ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, মহাকাশ গবেষণাকে কেন্দ্র করে ভারতের তরুণদের অনুপ্রাণিত করাই তাঁর সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।
শুভাংশু শুক্লার এই মহাকাশযাত্রা ভারতের জন্য এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। তাঁর প্রত্যাবর্তন কেবল একজন নভশ্চরের দেশে ফেরা নয়, বরং কোটি কোটি ভারতীয়র স্বপ্নের প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ সেই প্রতীকী মুহূর্ত, যা ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানে ভারতকে আরও সাহসী করে তুলবে।
আজ লখনউয়ের এক ছেলের মহাকাশ থেকে ফিরে আসা পুরো দেশকে দেখিয়ে দিল—স্বপ্ন আকাশ ছোঁয়া, আর ভারতীয়রা তা স্পর্শ করতেও জানে।