Mithun Chakraborty in spring at Barrackpore : নিউ ব্যারাকপুরের কৃষ্টি প্রেক্ষাগৃহে সম্প্রতি বসন্ত উৎসবের আয়োজন করে কলকাতা উত্তর শহরতলীর বিজেপি সংগঠন। সাধারণত বসন্ত উৎসব মানেই রঙের উৎসব, গান-বাজনা, এবং মজাদার পরিবেশ, কিন্তু এবারের বসন্ত উৎসব যেন অন্য মাত্রা পেল। কারণ উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিলেন অভিনেতা, প্রাক্তন সাংসদ, এবং বর্তমানে বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা এবং বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষ। অনুষ্ঠানটি রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভারত মাতা, দীনদয়াল উপাধ্যায়, এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতিকৃতিতে মাল্যদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সূচনা হয়। মঞ্চে প্রদীপ প্রজ্বলন করে শুভ সূচনা করেন মিঠুন চক্রবর্তী। বিজেপি নেতা চণ্ডীচরণ রায় এবং অসংখ্য বিজেপি কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতিতে গোটা প্রেক্ষাগৃহ মুখরিত হয়ে ওঠে। মিঠুন চক্রবর্তী মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে একটি বিশাল ফুলের মালা দিয়ে বরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের মূল বিষয়বস্তু ছিল বাংলায় বিজেপির শক্তি বৃদ্ধি এবং আগাম বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
মিঠুন চক্রবর্তী তাঁর ভাষণে সরাসরি বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি স্পষ্ট জানান, “আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় না এলে বাঙালি হিন্দু জাতি ইতিহাস থেকে মুছে যাবে।” তাঁর এই মন্তব্য একদিকে যেমন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে, অন্যদিকে বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে উদ্দীপনা বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় এলে শান্তি, শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং সোনার বাংলার স্বপ্ন সফল হবে।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মিঠুন চক্রবর্তী সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিয়েও বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “সংখ্যালঘুরাও আমাদের সনাতনী সংস্কৃতির অংশ। সনাতনী সংস্কৃতি রক্ষা করতে গেলে বাংলায় বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতেই হবে।” তাঁর এই মন্তব্য বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।
রুদ্রনীল ঘোষের প্রতিক্রিয়া:
অভিনেতা ও বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষ মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসন ব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার ঐতিহ্যকে অস্বীকার করছেন এবং বাঙালি জাতিকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন।” তাঁর এই মন্তব্য শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি সরাসরি আক্রমণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি উৎসবে ছিল সাংস্কৃতিক আবহও। বসন্তের গান, কবিতা পাঠ এবং নাচের মধ্যে দিয়ে উৎসবের পরিবেশ আনন্দময় হয়ে ওঠে। প্রায় কয়েক হাজার মানুষ এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। নিউ ব্যারাকপুরের স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এত বড় মাপের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান তাঁদের এলাকায় খুব কমই দেখা যায়।
স্থানীয় মানুষের প্রতিক্রিয়া:
স্থানীয় এক বাসিন্দা শিবানী দত্ত বলেন, “মিঠুনদাকে সামনে থেকে দেখতে পেরে খুব ভালো লাগল। বসন্ত উৎসব যে এমন এক সামাজিক এবং রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হবে, তা ভাবিনি।” আরেকজন, রাকেশ দত্ত, বলেন, “মিঠুন চক্রবর্তী যেভাবে সোজাসাপটা কথা বললেন, তা মানুষকে ভাবাবে।”
রাজনৈতিক প্রভাব এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা:
বসন্ত উৎসবের মাধ্যমে বিজেপি স্পষ্টতই এক পাথর দিয়ে দুই পাখি মারার চেষ্টা করেছে। একদিকে বসন্ত উৎসবের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হয়েছে, অন্যদিকে বাংলার ভবিষ্যৎ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য প্রচারের কাজও এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। মিঠুন চক্রবর্তীর বক্তব্য বিজেপি কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। এই ধরনের উৎসব বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে যে ভূমিকা নেবে, তা বলাই বাহুল্য।
অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, মিঠুন চক্রবর্তী ও রুদ্রনীল ঘোষের মতো তারকা নেতাদের উপস্থিতি ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে। বিজেপি যে এখন শুধু হিন্দুত্বের রাজনীতি নয়, বাংলার সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহ্যবাহী দিককেও সামনে এনে প্রচারে ঝাঁপিয়েছে, তার স্পষ্ট প্রমাণ এই বসন্ত উৎসব।
ব্যারাকপুরের বসন্ত উৎসব শুধুমাত্র একটি উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, এটি রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টে পরিণত হয়েছে। মিঠুন চক্রবর্তীর সরাসরি ও সোজাসাপটা মন্তব্য এবং রুদ্রনীল ঘোষের শাসকদলের সমালোচনা আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময় বলবে। তবে এই উৎসব যে বিজেপির জন্য শক্তি সঞ্চয়ের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে, তা স্পষ্ট।