‘Mermaid’ skeleton found on beach! Viral photoঃ আচমকা সমুদ্রের ধারে অদ্ভুত কঙ্কাল দেখতে পেলে যে কেউ থমকে যাবেন। এমনই এক রহস্যময় ঘটনা ঘটেছে ব্রিটেনের মারগেট শহরের সমুদ্রসৈকতে। ঘটনাটি প্রথম নজরে আসে পলা রেগান এবং তাঁর স্বামী ডেভ রেগানের। একান্তে সময় কাটাতে তাঁরা সেদিন সমুদ্রের ধারে হাঁটছিলেন। শান্ত পরিবেশ, নোনা হাওয়া, আর বালির গন্ধে মাখা সেই দিনটি অন্য যেকোনো দিনের মতোই ছিল। কিন্তু হঠাৎ তাঁদের চোখে পড়ে বালির উপর অদ্ভুত কিছু একটা পড়ে রয়েছে। প্রথমে তাঁরা ভেবেছিলেন এটি হয়তো কোনও মৃত মাছ বা শৈবাল জড়ানো কোনো সামুদ্রিক প্রাণীর দেহাবশেষ। কিন্তু একটু কাছে যেতেই তাঁদের ভুল ভাঙে। যা তাঁরা দেখলেন, তা দেখে যেন শরীর শিউরে উঠল। বালির উপর শুয়ে থাকা বস্তুটি দেখতে অনেকটা মানুষের কঙ্কালের মতো, আর তার পেছনে একটি মাছের মতো লেজ!এই দৃশ্য দেখে হতভম্ব হয়ে যান পলা এবং ডেভ। ভয় ও কৌতূহলের মিশ্র অনুভূতি নিয়ে তাঁরা বস্তুটির কিছু ছবি তোলেন। তাঁদের এই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হওয়ার পর থেকেই তা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। মুহূর্তের মধ্যে ছবিগুলি ভাইরাল হয়ে যায় এবং হাজার হাজার মানুষ সেই রহস্যময় বস্তুটি সম্পর্কে নিজেদের মতামত দিতে শুরু করেন। কেউ বলছেন, এটি মৎস্যকন্যার কঙ্কাল, আবার কেউ মনে করছেন এটি হয়তো কোনও শীল মাছের দেহাবশেষ।প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কঙ্কালটির উপরের অংশটি অনেকটা মানুষের মতো দেখতে। কঙ্কালের মাথা, হাত এবং বুকের গঠন অনেকটা মানুষের কঙ্কালের সঙ্গে মিলে যায়। তবে কোমরের নিচের অংশটি ঠিক মানুষের মতো নয়, বরং সেটি মাছের লেজের মতো, যা সাধারণত মৎস্যকন্যার প্রতিকৃতি হিসেবে কল্পনা করা হয়। এই কারণেই অনেকেই দাবি করছেন, এটি প্রকৃত মৎস্যকন্যার কঙ্কাল হতে পারে।সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবিগুলি পোস্ট হওয়ার পর থেকেই হাজার হাজার লাইক এবং কমেন্ট পড়েছে। কেউ কেউ কৌতূহল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, “এটি কি সত্যিই মৎস্যকন্যা? যদি তা হয়, তবে তা প্রমাণ করবে যে মৎস্যকন্যারা শুধু কল্পকথার চরিত্র নয়, বাস্তবেও তাঁদের অস্তিত্ব থাকতে পারে।” আবার কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে ঠাট্টা করে লিখেছেন, “মৎস্যকন্যা নয়, এটি হয়তো কোনও সিনেমার সেট থেকে পড়ে যাওয়া প্রপস।”তবে বেশ কিছু মানুষ এই ঘটনা নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কিত। একজন মন্তব্য করেছেন, “এটি পৃথিবীর বাইরের কোনও প্রাণী বা ভিনগ্রহী হতে পারে। দেখুন এর গঠন কতটা অদ্ভুত।” অন্যদিকে, কেউ কেউ দাবি করেছেন, এটি হয়তো সমুদ্রগর্ভ থেকে উঠে আসা কোনও প্রাচীন দেহাবশেষ, যা অনেক বছর ধরে সমুদ্রের তলায় চাপা পড়ে ছিল।
স্থানীয় প্রশাসন অবশ্য এখনও বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে একদল সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী। তাঁদের ধারণা, এটি কোনও সামুদ্রিক প্রাণীর দেহাবশেষ হতে পারে, যা দেখতে মানুষের কঙ্কালের মতো লাগছে। তাঁরা কঙ্কালটি পরীক্ষা করে দেখছেন এবং সেটি কোনও প্রাচীন সামুদ্রিক প্রাণীর দেহাবশেষ কিনা, তা জানার চেষ্টা করছেন।তবে নেটিজেনদের একাংশ মনে করছেন, এটি হয়তো কোনও বড় জাহাজের মূর্তি, যা দুর্ঘটনাবশত সমুদ্রে পড়ে গিয়েছিল এবং এখন বালির তলা থেকে ভেসে উঠেছে। এক ব্যক্তি লিখেছেন, “সমুদ্রের নিচে প্রচুর রহস্য লুকিয়ে আছে। হয়তো এটি সেগুলোরই একটি অংশ।”মৎস্যকন্যার কঙ্কাল নিয়ে এই রহস্য নতুন কিছু নয়। এর আগেও পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে এমন ঘটনা ঘটেছে যেখানে মানুষের মতো দেখতে কঙ্কাল বা প্রাণীর দেহাবশেষ পাওয়া গিয়েছে, যা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা বরাবরই এই ধরনের ঘটনাকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁদের মতে, প্রকৃতি কখনো কখনো এমন কিছু তৈরি করে যা মানুষের চোখে অদ্ভুত লাগে। অনেক সময় দেহাবশেষ বা কঙ্কাল সমুদ্রের তলায় চাপা পড়ে বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারণে বিকৃত হয়ে যায় এবং সেগুলি দেখতে মানুষের মতো লাগতে পারে।
তবে এই ঘটনাটি যেভাবে মানুষের কৌতূহল বাড়িয়েছে, তাতে বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত তদন্ত হওয়া উচিত বলে মনে করছেন অনেকে। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, “আমরা আগে কখনও এমন কিছু দেখিনি। এটি সত্যিই ভয়ের এবং একই সঙ্গে কৌতূহল উদ্দীপক।”এই ধরনের ঘটনা আমাদের প্রকৃতির অসীম রহস্যময়তার কথা মনে করিয়ে দেয়। সমুদ্রের তলায় কত কী লুকিয়ে রয়েছে, তা আজও আমরা সম্পূর্ণরূপে জানি না। হয়তো ভবিষ্যতে বিজ্ঞান এই ধরনের রহস্যের সমাধান করতে পারবে, কিন্তু ততদিন পর্যন্ত এই ঘটনা মানুষের মনে মৎস্যকন্যা এবং সামুদ্রিক রহস্যের গল্পকথাগুলিকে আরও বেশি উস্কে দেবে।এখন প্রশ্ন একটাই—এই কঙ্কাল সত্যি কোনো মৎস্যকন্যার, নাকি প্রকৃতির খেয়ালে তৈরি একটি বিকৃত সামুদ্রিক প্রাণী? সেই উত্তর হয়তো বিজ্ঞানীরা সামনে আনবেন, কিন্তু ততক্ষণ পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় এই রহস্যময় কঙ্কালকে ঘিরে আলোচনা থামার কোনও সম্ভাবনা নেই।