Major fraud comes to light before the Vice Presidential election: দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। রাষ্ট্রপতির পর দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ হল উপরাষ্ট্রপতি। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর হতে চলেছে সেই নির্বাচন। বর্তমান উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়ের পদত্যাগের পর থেকেই রাজনৈতিক মহল এই ভোটকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত। শাসক এনডিএ জোট তাদের প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছে সিপি রাধাকৃষ্ণণকে, আর বিরোধী শিবিরের তরফে প্রার্থী করা হয়েছে সুদর্শন রেড্ডিকে।মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ২১ আগস্ট। সেই সময়কালে মোট ৪৬ জন প্রার্থীর তরফে জমা পড়ে ৬৮টি মনোনয়নপত্র।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী এরপর শুরু হয় মনোনয়নের স্কুটিনি প্রক্রিয়া। আর সেখানেই উঠে আসে এমন এক চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা, যা কেবল নির্বাচনী প্রক্রিয়াকেই কলঙ্কিত করেনি, বরং সংসদীয় গণতন্ত্রের বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।২২ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই করার সময় কর্মকর্তাদের নজরে আসে এক অস্বাভাবিক বিষয়। দেখা যায়, ২২ জন সাংসদের সাক্ষর সংযুক্ত করা হয়েছে এক প্রার্থীর মনোনয়নে। কিন্তু তদন্তে বোঝা যায় এই সমস্ত সাক্ষরের অনেকগুলি আসল নয়, বরং জাল।সবচেয়ে বেশি সন্দেহ তৈরি হয় যখন ওয়াইএসআরসিপি সাংসদ মিথুন রেড্ডির নাম মনোনয়নপত্রে চোখে পড়ে। তিনি বর্তমানে জেলবন্দি, ফলে তাঁর পক্ষে মনোনয়ন সমর্থনে স্বাক্ষর দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তদন্তকারীরা এরপর খতিয়ে দেখতে গিয়ে আবিষ্কার করেন, ওই মনোনয়নপত্রে উল্লিখিত আরও একাধিক সাংসদের স্বাক্ষরও আসলে জাল।

কেরলের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠে অভিযোগ—তিনি নাকি এই ভুয়ো নথি তৈরি করে জমা দিয়েছেন। খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহল উত্তাল হয়ে ওঠে। নির্বাচন কমিশনের তরফে সঙ্গে সঙ্গেই ওই মনোনয়ন বাতিল করা হয় এবং দোষীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু হয়।রাজ্যসভার সচিবালয় দ্রুত বিষয়টি নজরে আনে এবং মনোনয়ন বাতিলের নির্দেশ দেয়। সরকারি মহল জানিয়েছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ভুয়ো নথি জমা দেওয়া অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ, এবং এতে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া। ভোটারদের একাংশ বলছেন, “এমন উচ্চপদস্থ নির্বাচনে যদি জালিয়াতি সম্ভব হয়, তবে সাধারণ নির্বাচনে কতটা সৎভাবে ভোট হয় সেটাই প্রশ্ন।” আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এই ঘটনায় প্রমাণিত হচ্ছে যে, ভারতীয় গণতন্ত্রে নির্বাচনী প্রক্রিয়া এখনও স্বচ্ছ এবং সতর্ক—কারণ সময়মতো জালিয়াতি ধরা পড়েছে।কেরলে স্থানীয়ভাবে এই ঘটনায় যথেষ্ট শোরগোল পড়েছে। অনেকেই বলছেন, “এমন ঘটনার ফলে কেবল প্রার্থী নয়, রাজ্যের নামও কলঙ্কিত হচ্ছে।”
এই ঘটনা কেবল একটি ব্যক্তির দুর্বৃত্তচক্রের ফসল নয়, বরং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার একটি বড় সতর্ক সংকেত। দেশের অন্যতম বড় সাংবিধানিক পদে নির্বাচনে এমন জালিয়াতি হওয়া উদ্বেগজনক।তথ্য অনুযায়ী, ৪৬ জন প্রার্থীর ৬৮টি মনোনয়ন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ১৯ প্রার্থীর ২৮টি মনোনয়ন খারিজ করা হয়েছে। বাকি ২৭ জন প্রার্থীর ৪০টি মনোনয়ন খতিয়ে দেখা হয়। আর সেখানেই এই প্রতারণা ধরা পড়ে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এমন কঠোর নজরদারি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, তা এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল।বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল স্বাক্ষর বা আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ালে এ ধরনের জালিয়াতি কমবে। আবার অনেকের মতে, মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নিয়ম প্রয়োগ করতে হবে।

আগামী ৯ সেপ্টেম্বর উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটাভুটি হবে। সেদিনই ঘোষণা করা হবে ফলাফলও। কিন্তু তার আগেই এই জালিয়াতির ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই সারা দেশে আলোচনার ঝড় উঠেছে। নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করছে যে, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।একইসঙ্গে রাজনৈতিক মহলও চাইছে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এমন সাহস না দেখায়।উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। সেখানে জালিয়াতি প্রবেশ করলে কেবল প্রক্রিয়াটিই কলঙ্কিত হয় না, গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থাও নষ্ট হয়। তবে এই ঘটনায় সময়মতো সত্য প্রকাশিত হওয়ায় প্রমাণিত হয়েছে যে, নির্বাচনী ব্যবস্থার সতর্ক চোখ এখনও জেগে আছে।আগামী ৯ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সমগ্র দেশের দৃষ্টি এখন সংসদ ভবনের দিকে। মানুষ আশা করছে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মর্যাদা বজায় রেখেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন হবে এবং সত্যিকার যোগ্য প্রার্থীই দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নির্বাচিত হবেন।