Low pressure expected in Bay of Bengal:-দিঘার উপর দিয়ে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত সক্রিয় মৌসুমী অক্ষরেখা, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে, আর আবহাওয়া দপ্তরের মতে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে, যার প্রভাবে রাজ্যজুড়ে নামতে পারে বৃষ্টি, সমুদ্র হয়ে উঠতে পারে উত্তাল, আর ইতিমধ্যেই মৎস্যজীবীদের জন্য জারি হয়েছে সতর্কতা, মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত বাংলার ও উড়িষ্যার উপকূলবর্তী এলাকার মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন, দক্ষিণবঙ্গের জন্য যদিও আপাতত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, তবে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে, আবার বৃহস্পতি ও শুক্রবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর, সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়াও বইতে পারে, অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং, দার্জিলিং ও উত্তর দিনাজপুরে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা জারি হয়েছে, আবহাওয়ার এই পরিবর্তন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় কী প্রভাব ফেলতে পারে তা নিয়েই এখন আলোচনা চলছে, কারণ কলকাতায় মঙ্গলবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ রয়েছে ৭০ থেকে ৯৬ শতাংশের মধ্যে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় শহরের তাপমাত্রা ২৭ থেকে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করবে বলে মনে করা হচ্ছে,

অর্থাৎ গরমের সঙ্গে স্যাঁতস্যাঁতে ভ্যাপসা পরিবেশ আরও কিছুটা অসহনীয় হয়ে উঠতে পারে, বিশেষজ্ঞদের মতে এই নিম্নচাপ গঠনের ফলে একদিকে যেমন প্রয়োজনীয় বৃষ্টি নামবে, তেমনই অন্যদিকে গ্রামীণ জনজীবনে তৈরি হতে পারে ভোগান্তি, কারণ অনেক এলাকায় জল জমে স্বাভাবিক যাতায়াতে সমস্যা দেখা দিতে পারে, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতাও ঘটতে পারে, কলকাতার মানুষ বরাবরই বর্ষার দিনে জল জমার সমস্যায় পড়েন, এবারও সেই ছবি নতুন হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে, কলকাতার বেহালা, টালিগঞ্জ, রাজাবাজার, খিদিরপুর কিংবা মধ্য কলকাতার কলেজ স্ট্রিট এলাকা বরাবরই বর্ষায় হাঁটু জল সমস্যার মুখোমুখি হয়, ফলে সাধারণ মানুষকে বাড়তি ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হবে, আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন বঙ্গোপসাগরের এই নিম্নচাপ মূলত মৌসুমি বায়ুকে আরও চাঙ্গা করে তুলবে, যার ফলে আগামী কয়েকদিন ধরে রাজ্যের নানা প্রান্তে সক্রিয় থাকবে বর্ষার প্রভাব, কৃষক মহলেও এই নিম্নচাপকে কেন্দ্র করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, কারণ একদিকে ধান চাষের জন্য প্রয়োজনীয় জল মিলবে, অন্যদিকে অতিবৃষ্টির ফলে মাঠ ডুবে যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুরের এক কৃষক জানিয়েছেন—
“ধানের চারা এখন ভালোভাবে দাঁড়িয়ে আছে, তবে হঠাৎ করে বেশি জল নেমে গেলে সবটাই নষ্ট হয়ে যাবে, আবার ঠিক মতো বৃষ্টি হলে অনেকটাই স্বস্তি পাব,” অন্যদিকে সুন্দরবন উপকূলের মৎস্যজীবীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন, কারণ সমুদ্র উত্তাল থাকায় তাদের জাল ফেলতে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে তাদের আয়ের উৎস আপাতত বন্ধ, তাজপুরের এক জেলে জানালেন—“আমরা তো প্রতিদিন সমুদ্রে গিয়ে মাছ ধরেই সংসার চালাই, এখন কয়েকদিন যদি বেরোতে না পারি, তাহলে সংসার কীভাবে চলবে?” সরকারের পক্ষ থেকেও এ নিয়ে কড়া নজর রাখা হচ্ছে, স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীকে সতর্ক রেখেছে, নদীবিধৌত এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে, তবে ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা আপাতত নেই, কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টির ফলে নদী বা খালের জলস্তর বেড়ে যেতে পারে, যা শহর ও গ্রামে বন্যার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, গত বছর জুন-জুলাই মাসে দক্ষিণবঙ্গের বহু গ্রামে এই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল, সেই স্মৃতি এখনও টাটকা, তাই এবারের নিম্নচাপের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অনেক মানুষ চিন্তিত হয়ে পড়েছেন, স্কুল কলেজ অফিসে যাতায়াতে সমস্যা হতে পারে, রাস্তাঘাট কাদায় পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে,

এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকেও কিছু সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে, যেমন বৃষ্টির সময় অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে না বেরোনো, নালা-নর্দমা বন্ধ না করা, বিদ্যুতের খুঁটির কাছাকাছি না দাঁড়ানো, আর প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলা, আগামী কয়েকদিনের এই নিম্নচাপের প্রভাব শুধু আবহাওয়ায় নয়, রাজ্যের সামাজিক অর্থনৈতিক অবস্থার উপরও প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা, কারণ একদিকে যেমন কৃষি ও মৎস্যজীবী মহলের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে শহরের মানুষকে ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হবে, তবুও এই নিম্নচাপকেই ভরসা করছেন চাষীরা, কারণ প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেই তাদের জীবন, আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়বে, তাই এই সপ্তাহের শেষের দিকে রাজ্যের বহু জায়গায় ঝুম বৃষ্টি নামতে পারে, ফলে যারা বহুদিন ধরে গরমে হাঁসফাঁস করছেন তারা একপ্রকার স্বস্তি পেলেও আবার ভোগান্তির ছবিও প্রকট হবে, সবমিলিয়ে বলতে গেলে বঙ্গোপসাগরের এই নিম্নচাপের প্রভাব আগামী কয়েকদিন রাজ্যের আকাশে মেঘলা আবহাওয়া, বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি, ভ্যাপসা গরম আর মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসবে, তবে একই সঙ্গে কৃষিজগতের জন্য এটি হতে পারে আশীর্বাদ এবং অভিশাপ দুই-ই, আর তাই এই নিম্নচাপের খবর এখন রাজ্যবাসীর কাছে একদিকে স্বস্তি, অন্যদিকে উদ্বেগের।