Wednesday, August 27, 2025
Google search engine
Homeটপ 10 নিউসলোকসভায় পাশ নতুন আয়কর বিল, কার্যকর হতে পারে ২০২৬ শে

লোকসভায় পাশ নতুন আয়কর বিল, কার্যকর হতে পারে ২০২৬ শে

Lok Sabha passes new income tax bill, may come into effect in 2026 : সরাসরি বললে, ২০২৫ সালের নতুন আয়কর বিল এক মাইলফলকপ্রাপ্ত পদক্ষেপ। লোকসভায় এই বিল পাস হয়ে গেছে—এখন শুধু রাষ্ট্রপতির সম্মতিই বাকি। আইনটি কার্যকর হবে ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে—অর্থাৎ করবর্ষ ২০২৬-২৭ থেকে। এই আইন প্রণয়ন করার মূল উদ্দেশ্য—পুরনো ১৯৬১ সালের জটিল আয়কর আইনকে একটা সহজ, পরিষ্কার এবং আধুনিক ফর্মে উপস্থাপন করা

তবে সাধারণ মানুষের জীবনেও কি কিছু বদল আসছে? আসছে। শীর্ষ কিছু উপজীব্য পরিবর্তন হলো—কন্টেন্ট সহজ করা, ভাষা সরল করা, আধুনিক প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজিটাল সিস্টেমে ট্যাক্স ফাইলিং, এবং সময়মতো ফেরত না মিলে সাজা ছাড়াই ফেরত দাবির সুযোগ রাখা। আসুন, এক টুকরো গল্পের মতো সহজ ভাষায় সেটাই জানি।

সারা দেশ জুড়ে একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য, আর্শি, যারা আয় ১২ লাখ টাকা। এখনো তার করের নিয়মগুলো বোঝা কঠিন হয়ে আছে। কিন্তু নতুন আইন আসলে পরিষ্কার—প্রায়ে রেট, ছাড়, ফাইলিং সময় একই থাকলেও ভাষা সহজ, ধারাবাহিকতা স্পষ্ট, এবং ডিজিটাল ফাইলিং ব্যবস্থা এতটাই টেকসই যে ‘ফেসলেস অ্যাসেসমেন্ট’ শুরু হচ্ছে—অফিসার কানে হলিউডি নয়, লোকাল একটা ই-ফর্মের মাধ্যমে নিরপেক্ষ নির্ণয় হব।

এছাড়া, যাঁরা আয়কর রিটার্ন দিতে দেরি করছেন, কিন্তু ফেরত চাইতে চান—এখন সেই সুযোগ পাবেন, কারণ দেরিতে দিলেও ই–টিআর-এর পরে রিফান্ড পাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। আর আয়কর কর্তৃপক্ষকে কোনো کارروয়ার আগে নোটিশ দিতে হবে—এটা করদাতাদের জন্য সুরক্ষা। একই সঙ্গে, এককালীন পেনশন বা আস্থানের আয়—সেগুলোকেও করছাড় দেওয়া হয়েছে, বাড়তি স্বস্তি এনে।

বই ব্যবসায়ী দিলীপ বাবুও এই খবর শুনে খুশি হয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “ট্যাক্স নিয়ম যখন খোলসা হয়, ভাষা সাধারণ হয়—আমরা যেমন ব্যবসা বেড়ে যায়, সময় ঠিক করে রিটার্ন করতে পারি, আর প্রশাসনিক ঝামেলা কমে যায়।” তাঁর কথার গভীরতা আসলে এই—একটু আধুনিক, সোজা আইন ভাগ্যসাথীদের জীবন সহজ করে।

নির্দিষ্ট পরিবর্তন হিসেবে—‘Assessment Year’ আর ‘Previous Year’ শব্দগুলো বাদ গেছে; বদলে এসেছে ‘Tax Year’। ট্যাক্সের ধারাবাহিকতা বুঝতে বেশি সুবিধা হবে বলে অভিজ্ঞদের মতামত। এ ছাড়া আউটডেটেড নিয়ম ও অতিরিক্ত ক্লজ শত শত কমিয়ে প্রস্তাবিত আইনকে বিভিন্ন পর্যায়ে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে—চ্যাপ্টার হয়েছে ২৩, সেকশন মাত্র ৫৩৬, শব্দসংখ্যা কমে প্রায় অর্ধেক। ডিজিটাল সম্পদ, ক্রিপ্টোসহ নতুনভাবে আয় নির্ধারণের ধারাও আইনে ঢুকছে

তবে এর চলা পথ যেন বাধাহীন না হয়। বিরোধীরা বলছেন, “বিল তো পাস হলো ফাঁকা সংসদে, বিতর্ক ছাড়াই।” তথাকথিত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা গলানিও হয়নি—তাই অনেকেই মনে করছেন, করনীতিতে এত বড় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একটু বেশিজনের প্রতিক্রিয়া নেওয়া উচিত ছিল।

এবার বাস্তব জীবনের কথা। পশ্চিমবঙ্গের এক ছোট্ট হকার, রতন, বললেন, “আমার আয়, আয়কর—সব জিনিসগুলো আমার কাছে কঠিন ছিল। এখন যদি সরকারি ফর্ম সহজ হয়, দ্বিধাহীনভাবে কর দিতে পারি, আমার দোকান থেকে আয় সাদা হয়ে বাড়ে।” এমন প্রত্যাশা অনেকের মধ্যে তৈরি হচ্ছে, বিশেষ করে যারা ক্যাশ-ভিত্তির ছোট ব্যবসা করে।

আর্থ-সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এটা বড়—যখন নিয়ম সহজ, ভাষা পরিষ্কার, ডিজিটাল ব্যবস্থা গ্রামীণ-নাগরিক দুইভাগে প্রবেশযোগ্য হবে—আয়কর পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা বাড়বে, করদানও স্বতস্ফূর্ত হবে। ফলে সরকারের রাজস্বও বাড়তে পারে, আর فساد কমে যেতে পারে।

তবে চ্যালেঞ্জ আছে—সার্বজনীনভাবে প্রযুক্তিগত দক্ষতা না থাকলে ‘ফেসলেস অ্যাসেসমেন্ট’ কার্যকর হবে কীভাবে? অথবা ডিজিটাল বিভাজন কোথায় মুহূর্তে বাধা দিচ্ছে? আইনের সাদাসিধে ভাষা বুঝেও বাস্তবে কাজে লাগাতে কমিউনিটি সাপোর্ট সিস্টেম (যেমন গ্রাম-নিবাসী আয়কর সহায়তা কেন্দ্র) দরকার। তা না হলে সহজ আইনও অনেকের কাছে কঠিনই থাকবে।

সংক্ষেপে, ২০২৬ সাল থেকে চালু হতে চলা এই নতুন আয়কর আইন—একদিকে আধুনিক, অন্যদিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক। সাধারণ মানুষের চোখে এটা হয়তো একটা বড় আশার আলো, যাতে নিজে আয়কর বুঝে ওঠে, শঙ্কাধরায় না ঢুকে, আইনমতে কর মেনে চলে। আর দেশের কর ভবন একটু শক্তিশালী হয়, স্বচ্ছ হয়—এই সম্ভাবনা জাগিয়ে দিচ্ছে একটি সহজ, পরিষ্কার এবং প্রযুক্তিপরিচালিত নয়া নিয়ম।

আপনার কাছেও যদি এই নতুন আইন নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকে—নির্দিষ্ট দিক যেমন ফাইলিং প্রক্রিয়া, ব্যবসায় প্রভাব, ডিজিটাল ফরম—তাহলে জানাতে পারেন। বিস্তারিত সহজ ভাষায় তুলে ধরতে পারি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments