Jobs of 3 teachers cancelled in Asansol:পশ্চিমবঙ্গে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) নিয়োগ দুর্নীতির কারণে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্যের প্রায় ২৬,০০০ শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়েছে। এই তালিকায় আসানসোলের চিলডাঙ্গা হাই স্কুলের দুজন শিক্ষক এবং একজন গ্রুপ ডি কর্মীও রয়েছেন। ফলে আসানসোলের শিক্ষাঙ্গনেও ছড়িয়ে পড়েছে অনিশ্চয়তার ছায়া।
এই ঘটনায় শুধুমাত্র তিনজন কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন তা নয়, এটি আসানসোলের সাধারণ মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করে আসা ব্যক্তিরা যখন হঠাৎ চাকরি হারাচ্ছেন, তখন তাদের জীবনযাত্রা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিবারে একমাত্র উপার্জনকারী হওয়ার কারণে অনেকের সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তাঁরা অবৈধভাবে SSC নিয়োগ পরীক্ষায় পাশ করে চাকরি পেয়েছিলেন। তদন্তে দেখা যায়, কিছু অনিয়মের কারণে তাঁদের নাম বাতিল করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর শিক্ষা দফতর একের পর এক শিক্ষক ও কর্মচারীর নামের তালিকা প্রকাশ করছে, যারা অবৈধভাবে নিয়োগ পেয়েছিলেন।
এই ঘটনার পর আসানসোলের সাধারণ মানুষ এবং স্থানীয় শিক্ষক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। চিলডাঙ্গা হাই স্কুলের এক প্রবীণ শিক্ষক বলেন,
“এই ঘটনার ফলে শুধু তিনজন কর্মী চাকরি হারালেন না, গোটা শিক্ষাব্যবস্থা প্রশ্নের মুখে পড়ল। আমরা চাইবো সরকার অন্তত যোগ্য ও অযোগ্যদের তালিকা তৈরি করে দায়িত্ব নিক, যাতে যোগ্যদের চাকরি বজায় থাকে।”
একজন প্রাক্তন ছাত্রীর অভিভাবক বলেন,
“যদি কোনো শিক্ষক সত্যিই অবৈধভাবে চাকরি পেয়ে থাকেন, তাহলে তাঁরা শাস্তি পাবেন। কিন্তু এত বছর ধরে যাঁরা স্কুলে পড়াচ্ছেন, তাঁদের জন্য একটা বিকল্প পথ থাকা উচিত।”
স্থানীয় এক গ্রামবাসী জানান,
“এই ঘটনার পর আমরা স্কুলের শিক্ষকদের নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করছি। যাঁরা আমাদের ছেলেমেয়েদের পড়াচ্ছেন, তাঁরা কি সত্যিই যোগ্য?”
চাকরি চলে যাওয়া শুধু অর্থনৈতিক নয়, মানসিক দিক থেকেও বড় ধাক্কা। এই তিনজন শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাদানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন শিক্ষিকা বলেন,
“এত বছর ধরে স্কুলে পড়িয়ে এসেছি। হঠাৎ শুনতে হলো, চাকরি চলে গেছে! এখন কী করবো? কোথায় যাবো? এই বয়সে নতুন চাকরি পাওয়া সম্ভব?”
অন্য একজন বলেন,
“আমি পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। চাকরি চলে যাওয়ার পর কীভাবে সংসার চালাবো? আমাদের যদি অন্য কোথাও সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে অন্তত জীবনের শেষ আশাটুকু বাঁচে।”
চাকরি বাতিলের প্রভাব
১. পরিবারের অনিশ্চয়তা: চাকরি হারানো শিক্ষকদের পরিবারের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। অনেকেই ব্যাঙ্ক লোন, সন্তানদের পড়াশোনা এবং দৈনন্দিন খরচ কীভাবে চালাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।
২. শিক্ষার্থীদের ওপর প্রভাব: দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ শিক্ষকরা চলে গেলে শিক্ষার্থীদের উপর প্রভাব পড়বে। নতুন শিক্ষক এলে শিক্ষার মান একই থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
৩. স্থানীয় রাজনীতির উত্তেজনা: ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলগুলি অভিযোগ করছে, তৃণমূল সরকারের সময় SSC নিয়োগ দুর্নীতি ঘটেছিল, যার ফল এখন ভুগতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা
এই পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারকে একটি বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
- যাঁরা অনৈতিকভাবে চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, কিন্তু দীর্ঘদিনের চাকরিজীবীদের জন্য পুনরায় পরীক্ষা বা পুনর্বাসনের সুযোগ দিতে হবে।
- নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর এই ধরনের ঘটনা না ঘটে।
শিক্ষামন্ত্রী ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, সরকার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তবে চাকরি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা এখনো অন্ধকারে।