Saturday, August 30, 2025
Google search engine
HomeUncategorisedইসরো এবং নাসা পৃথিবীর কক্ষপথে বৃহত্তম রাডার স্থাপন করেছে!

ইসরো এবং নাসা পৃথিবীর কক্ষপথে বৃহত্তম রাডার স্থাপন করেছে!

ISRO and NASA have placed the largest radar in Earth’s orbit!: বিশ্ব আজ প্রযুক্তি নির্ভর যুগে প্রবেশ করেছে। জলবায়ু পরিবর্তন, হিমবাহের গলন, জঙ্গলের সংকোচন কিংবা ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়—এই সব কিছুর মোকাবিলায় প্রয়োজন আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা। বহুদিন ধরেই উন্নত দেশগুলির গবেষকরা এমন একটি প্রযুক্তির সন্ধান করছিলেন, যা মহাকাশ থেকে পৃথিবীর প্রতিটি ক্ষুদ্র পরিবর্তনের খোঁজ রাখতে পারবে। সেই প্রচেষ্টারই বড় ফলাফল এবার মিলল। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ইসরো (ISRO) এবং মার্কিন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসা (NASA) যৌথ উদ্যোগে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাডার অ্যান্টেনা কক্ষপথে স্থাপন করেছে।

“সিন্থেটিক অ্যাপারচার রাডার মিশন” বা নিসার (NISAR) প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই রাডার অ্যান্টেনা মহাকাশে পাঠানো হয়েছে। অ্যান্টেনাটি দৈর্ঘ্যে ৩৩ ফুট এবং পৃথিবী থেকে প্রায় ৪৬০ মাইল দূরে স্থাপন করা হয়েছে। পৃথিবীর কক্ষপথে ভেসে থাকা এই রাডার ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করবে।এর মূল উদ্দেশ্য হলো—

  • হিমবাহের পরিবর্তন নজরে রাখা
  • ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ
  • ঘূর্ণিঝড়, বন্যা কিংবা ঝড়-বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় আগেভাগে চিহ্নিত করা
  • জঙ্গলের ক্ষয়ক্ষতি এবং জলবায়ুর পরিবর্তন পরিমাপ করা
  • এই শক্তিশালী অ্যান্টেনার সাহায্যে পৃথিবীতে ঘটতে চলা নানা পরিবর্তনের আগাম বার্তা পাওয়া সম্ভব হবে। ফলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহণ করা যাবে।
81440722

ইসরো এবং নাসার যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই বিশেষ উদ্যোগ মূলত বৈশ্বিক স্বার্থে গৃহীত হয়েছে। ভারতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, “নিসার আমাদের গ্রহকে রক্ষা করার এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি কমানো থেকে শুরু করে পরিবেশ রক্ষায় এটি হবে গেমচেঞ্জার।”নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, নিসার রাডার শুধু বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নয়, কৃষি থেকে শুরু করে নগর পরিকল্পনার মতো ক্ষেত্রেও দারুণভাবে কাজে আসবে।ভারতের সাধারণ মানুষও এই উদ্যোগে গর্বিত। কলকাতার এক কলেজছাত্রীর কথায়, “আমাদের দেশের বিজ্ঞানীরা যখন নাসার মতো বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন, তখন গর্ব তো হবেই।” অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের এক চা বাগানকর্মীর মন্তব্য, “প্রতিবার বর্ষায় বন্যায় আমাদের ভোগান্তি হয়। যদি আগে থেকে খবর মেলে, তবে হয়তো ক্ষতি অনেকটা কমানো যাবে।”বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রাডার স্থাপন পৃথিবীর পরিবেশ পর্যবেক্ষণে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগামী দশকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে মহাকাশ থেকে নির্ভুল নজরদারি অত্যন্ত জরুরি।

750px

ভারতও একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ—ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, ভূমিকম্প প্রায়ই আঘাত হানে। নিসার অ্যান্টেনা থেকে প্রাপ্ত তথ্য যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়, তবে হাজার হাজার মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে।আগামী দিনে নিসার শুধু প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়, কৃষিক্ষেত্রেও সাহায্য করবে। ফসলের অবস্থান, জলের স্তর, বনভূমির পরিবর্তন—সবকিছু নিয়েই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেবে এই রাডার। এছাড়া শহর পরিকল্পনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, এমনকি সামরিক ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা অপরিসীম হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।ইসরো ও নাসার এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ প্রমাণ করে দিল, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া মহাকাশ গবেষণার অগ্রগতি সম্ভব নয়। নিসার রাডার শুধু একটি প্রযুক্তিগত আবিষ্কার নয়, বরং পৃথিবীর ভবিষ্যৎ সুরক্ষার এক আশার আলো। মানুষের জীবন বাঁচাতে, পরিবেশ রক্ষায় এবং টেকসই উন্নয়নের পথে এটি নিঃসন্দেহে ইতিহাস গড়বে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments