If you make this mistake, you could get breast cancer!: গত কয়েক দশকে ভারতের স্বাস্থ্যচিত্রে স্তন ক্যানসার একটি আশঙ্কাজনক রোগে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে ক্যানসারের পরিসংখ্যানে স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যানসার ক্রমাগত শীর্ষে উঠে আসছে। বিগত ২৬ বছর ধরে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে, যা চিকিৎসাব্যবস্থার অগ্রগতির মধ্যেও এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রবণতা বোঝায় যে শুধু চিকিৎসা নয়, সচেতনতা ও প্রাথমিক স্তরে রোগ শনাক্তকরণও আজকের দিনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।এই রোগের অন্যতম বিপদ হলো, প্রাথমিক অবস্থায় ধরা না পড়লে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রাণনাশের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। অথচ, সময়মতো চিকিৎসা শুরু হলে স্তন ক্যানসার থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়াও সম্ভব। কিন্তু আমাদের অজ্ঞতা, অসচেতনতা এবং কখনও অবহেলা এই রোগকে মৃত্যুদূত করে তোলে।
ভারতে আজ যে হারে স্তন ক্যানসারের সংক্রমণ বেড়ে চলেছে, তাতে প্রতিটি নারীরই উচিত সাবধানতা অবলম্বন করা এবং সময় থাকতে সতর্ক হওয়া। চিকিৎসকদের মতে, স্তন ক্যানসারের স্টেজ ৩ মানেই মৃত্যুর রায় নয়। এই পর্যায়ে ক্যানসার স্তনের কাছাকাছি লিম্ফ নোড, ত্বক বা বুকের দেওয়াল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে চিকিৎসা ঠিকভাবে হলে এবং শরীর সাড়া দিলে রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা এখন অনেক বেশি।এই ক্যানসার মূলত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেশি দেখা যায়। মেনোপজের সময় বা তার পরে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যায়। তবে বয়স কম হলেও ঝুঁকি একেবারে নেই, এমন নয়। সব বয়সের নারীকেই সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে যাঁরা সদ্য মা হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে স্তনদুগ্ধ পান না করালে ঝুঁকি বেড়ে যায়।এছাড়াও শরীরের ওজন বা স্থূলতা স্তন ক্যানসারের অন্যতম কারণ। ওবেসিটি থাকলে দেহে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যার ফলে ক্যানসার কোষ তৈরির সম্ভাবনা বাড়ে।

প্রায় ৫ থেকে ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে এই রোগের পেছনে থাকে জিনগত কারণ। অর্থাৎ, পরিবারে কেউ স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে থাকলে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে সেই ঝুঁকি থেকে যায়।স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় স্তন ক্যানসার বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচার করা হলেও, সেটা এখনও শহরের বাইরের বা গ্রামীণ স্তরে যথাযথভাবে পৌঁছচ্ছে না। বেশ কিছু রাজ্যে সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে, কিন্তু তথ্য ও ব্যবস্থাপনার অভাবে অনেক মহিলা সময়মতো সেই পরিষেবা নিতে পারেন না। বিশেষজ্ঞরা বারবার বলেছেন—নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যানসার প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে জীবন বাঁচানো সম্ভব।

নর্থ ২৪ পরগণার বাসিন্দা শিউলি দাস, যিনি গত বছর স্টেজ ২ স্তন ক্যানসার থেকে সেরে উঠেছেন, জানালেন— “প্রথমে ভয় পেয়েছিলাম। ভাবতাম, ক্যানসার মানেই মৃত্যু। কিন্তু ডাক্তারদের পরামর্শ মেনে চিকিৎসা শুরু করায় এখন আমি সুস্থ। শুধু সময়মতো ধরা পড়াটা খুব জরুরি।”ভারতে স্তন ক্যানসারের সংক্রমণের হার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি বছর প্রায় ১.৫ লক্ষ নতুন রোগী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং তাঁদের মধ্যে প্রায় ৫০% কেসেই রোগ স্টেজ ৩ বা তার পরে ধরা পড়ে। এর প্রধান কারণ হলো—অসচেতনতা, আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং লজ্জা।চিকিৎসাবিজ্ঞানে যদিও আজ স্তন ক্যানসার চিকিৎসার অনেক আধুনিক পদ্ধতি এসেছে। ব্রেস্ট সার্জারি, লম্পেক্টমি, রেডিয়েশন, হরমোন থেরাপি ও কেমোথেরাপির মাধ্যমে স্তন ক্যানসার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। কিন্তু রোগীর মানসিক প্রস্তুতি ও প্রাথমিক সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা চিকিৎসাকে সফল করে তোলে।ব্রেস্ট সার্জারি বা লম্পেক্টমির মাধ্যমে টিউমারের অংশ বাদ দেওয়া হয় এবং পরে হরমোন থেরাপি বা রেডিয়েশনের মাধ্যমে ক্যানসার কোষ ধ্বংস করা হয়। প্রত্যেক চিকিৎসা রোগীর শারীরিক সক্ষমতা, বয়স এবং রোগের স্তর অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।ভবিষ্যতের কথা ভাবলে এখনই প্রয়োজন আরও জোরালো সচেতনতা অভিযান, স্কুল স্তর থেকেই নারীদের স্বাস্থ্যশিক্ষা এবং শহর ও গ্রামে বিনামূল্যে স্ক্রিনিং ক্যাম্প।

একইসঙ্গে নারীদের মানসিকভাবে সাহস জোগানো দরকার—যাতে ক্যানসারকে লুকিয়ে না রেখে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করতে পারেন।নতুন মায়েদের স্তনদুগ্ধ পান করানো, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং বছরে অন্তত একবার স্তন পরীক্ষা করানো এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে যাঁদের পরিবারে স্তন ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের এই বিষয়ে আরও সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।স্তন ক্যানসার এখন কেবল একটি রোগ নয়, এটি নারী স্বাস্থ্য নিয়ে বৃহত্তর প্রশ্ন তোলে। সচেতনতা, সাহস, এবং সময়মতো পদক্ষেপ—এই তিনটি হাতিয়ার আমাদের বাঁচিয়ে তুলতে পারে স্তন ক্যানসারের গ্রাস থেকে।আমরা “খবর বাংলা”-র পক্ষ থেকে সকল নারীদের উদ্দেশ্যে বলছি— নিজেকে ভালোবাসুন, নিজের শরীরকে বুঝুন, সময়মতো পরীক্ষা করান। কারণ আপনি সুস্থ থাকলে, আপনিই আপনার পরিবারের ভরসা।