History once again on the banks of the Sarayu, Yogi’s city will be illuminated by the light of :অযোধ্যা – এক নাম, যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কোটি কোটি মানুষের ভক্তি, বিশ্বাস এবং আবেগ। প্রাচীনকাল থেকেই শ্রীরামের জন্মভূমি হিসেবে অযোধ্যা বিশ্বজুড়ে ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে পবিত্র তীর্থক্ষেত্র। বছরভর ভক্তদের আনাগোনা থাকলেও দীপাবলির সময় অযোধ্যা যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। সরযূ নদীর তীরে দীপ উৎসব এখন শুধুই আঞ্চলিক উৎসব নয়, বরং হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক পরিচয়ের এক অংশ। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ প্রদীপে সেজে ওঠে এই শহর, ভেসে ওঠে এক অনন্য আলোয়। গত বছর সরযূ নদীর আরতির মাধ্যমে গড়া হয়েছিল এক বিশ্ব রেকর্ড। আর এবার মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সেই রেকর্ডকেও ছাপিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।এবার দীপাবলির আগেই অযোধ্যায় শুরু হতে চলেছে এক বিশাল দীপ উৎসব। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে আয়োজিত এই মহাযজ্ঞে জ্বালানো হবে ২৬.১১ লক্ষ প্রদীপ। ইতিমধ্যেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে মোট ২৮ লক্ষ প্রদীপ, যাতে একটিও ঘাটতি না থাকে। সরযূ নদীর তীরে ‘রাম কি পৌড়ি’-তে এই বিশাল প্রদীপ প্রজ্বলনের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে ১৯শে অক্টোবর সন্ধ্যায়।এই বিশাল আয়োজন সফল করতে মাঠে নেমেছে প্রায় ৩২ হাজার স্বেচ্ছাসেবক। শহরের বিভিন্ন কোণে চলছে প্রস্তুতি—প্রদীপ সাজানো, তেল ও সলতে প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে লেজার লাইট শো, পরিবেশবান্ধব আতশবাজির ঝলকানি এবং রামলীলার মঞ্চায়ন। শোভাযাত্রাটি সকেত মহাবিদ্যালয় থেকে শুরু হয়ে রাম কথা পার্ক পর্যন্ত যাবে, যা ভক্ত ও পর্যটকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবঅযোধ্যার এডিএম যোগেন্দ্র পাণ্ডে এই উৎসবের প্রধান নোডাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দফতরের আরও ২০ জন নোডাল অফিসার পরিস্থিতি নজরে রাখছেন। তাদের মূল লক্ষ্য হলো—নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলার সঙ্গে সমগ্র আয়োজনকে সফল করে তোলা। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানিয়েছেন, “অযোধ্যা শুধুই একটি শহর নয়, এটি আমাদের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের প্রতীক। দীপ উৎসব আমাদের সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেবে।”অযোধ্যার সাধারণ মানুষ এই উৎসবকে নিয়ে প্রবল উচ্ছ্বসিত। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, দেশ-বিদেশ থেকে আগত পর্যটক ও ভক্তদের কারণে অর্থনীতিতে গতি আসবে। শহরের হোটেল, দোকান ও রেস্তোরাঁগুলো ইতিমধ্যেই ভরে উঠতে শুরু করেছে।অযোধ্যার এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “প্রদীপের আলোয় সরযূ নদীর সৌন্দর্য বর্ণনা করার মতো নয়। আমরা গর্বিত যে আমাদের শহর আবারও বিশ্ব রেকর্ড গড়তে চলেছে।”অযোধ্যার দীপ উৎসব এখন কেবল আধ্যাত্মিকতা বা ধর্মীয় ভক্তির প্রকাশ নয়, বরং হয়ে উঠছে পর্যটন ও অর্থনৈতিক বৃদ্ধির এক বড় মাধ্যম। ২৬ লক্ষের বেশি প্রদীপ জ্বালানো মানে বিশ্বের নজর ঘুরে আসবে অযোধ্যার দিকে।
প্রতি বছর এই উৎসবে হাজার হাজার বিদেশি পর্যটকও অংশগ্রহণ করছেন, যা ভারতের সাংস্কৃতিক কূটনীতিতেও বড় ভূমিকা রাখছে।একই সঙ্গে সরকারের নজরদারি ও পরিবেশবান্ধব আতশবাজির ব্যবহার এই উৎসবকে দিয়েছে এক নতুন মাত্রা। যেখানে ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রযুক্তি হাত ধরাধরি করে চলছে, সেখানেই তৈরি হচ্ছে ইতিহাস।বিশেষজ্ঞদের মতে, অযোধ্যার দীপ উৎসব আগামী দিনে আরও বড় আকার নেবে। রামমন্দিরের নির্মাণ শেষ হলে অযোধ্যার ধর্মীয় গুরুত্ব আরও বেড়ে যাবে, ফলে এই শহর হয়ে উঠবে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় পর্যটনের অন্যতম কেন্দ্র। এই ধরনের উৎসব ভবিষ্যতে শুধু আধ্যাত্মিক বন্ধনই নয়, বরং সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে।অযোধ্যার দীপ উৎসব আজ আর কেবল স্থানীয় উৎসব নয়, এটি ভারতের আধ্যাত্মিক শক্তি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক। সরযূ নদীর তীরে কোটি কোটি প্রদীপের আলোয় যখন ভেসে উঠবে শ্রীরামের শহর, তখন ইতিহাস লিখবে এক নতুন অধ্যায়। ভক্তি, ঐতিহ্য, প্রযুক্তি আর পরিবেশ সচেতনতার অনন্য মেলবন্ধন ঘটবে এই উৎসবে। পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে মানুষ যখন অযোধ্যায় এসে এই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করবেন, তখন নিঃসন্দেহে গর্বে উজ্জ্বল হবে গোটা দেশ।