Heavy rain and storm warning issued across the country:-উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়েছে, যা সোমবারের মধ্যে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে, এবং এর প্রভাব ইতিমধ্যে দেশের একাধিক প্রান্তে দেখা দিচ্ছে—ভূবনেশ্বর থেকে কলকাতা, দক্ষিণ বঙ্গ থেকে উত্তর পূর্ব ভারতের পার্বত্য এলাকা পর্যন্ত। প্রতিটি কোণে, পরিবার, কৃষক, জেলে, শহুরে বাসিন্দা—সবার জীবনযাত্রা এখন অনিশ্চয়তা ও সতর্কতায় মোড়ানো।

ইমডি জানাচ্ছে, অরুণাচল প্রদেশ, অসম, মেঘালয়, মণিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা—এই উত্তরে-প্রাচ্য সীমান্ত জুড়ে ৭০–১১০ মিমি পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, পাঞ্জাব, দিল্লি, গুজরাট, কর্ণাটক থেকে শুরু করে দক্ষিণ এবং উত্তর ভারতীয় উপকূলবর্তী রাজ্য—এক্ষেত্রে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সঙ্গে ৩০–৪০ কিমি/ঘণ্টা ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কা, আর আরব সাগরে বাতাসের গতি পৌঁছাবে ৬০ কিমি/ঘণ্টার কাছাকাছি। সমুদ্রও স্বভাবের বাইরে উত্তাল—গুজরাট ও মহারাষ্ট্র উপকূলে, পশ্চিম দিয়েং বঙ্গোপসাগরে তা স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে।
এ সবের মধ্যে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত নিম্নচাপটি জীবন্ত শক্তি বাড়াচ্ছে—এটা দ্রুতই একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে এবং পশ্চিমবঙ্গ ও উড়িষ্যার একাংশে **বর্ষা আরও প্রবলভাবে নেমে আসতে পারে।
ঢাকঢোল বেজেছে অগত্যা—উত্তর-পূর্বের পাহাড়ি রাজ্যগুলোর চর্তুদিকে চলছে প্রবল বৃষ্টিপাত; রাস্তা মৌসুমি নদীতে রূপান্তরিত হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে বাধা দিচ্ছে, পাড়ার চা দোকানের ব্যবসা থমকে যাচ্ছে। একজন গ্রামবাসী কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “আমাদের একমাত্র ধানক্ষেতই ভিজে আজ ভেঙে যাচ্ছে, কী আর করব।”
দক্ষিণ বঙ্গেও বৃষ্টির আগাম সূত্রপাত: কলকাতার অনেক রাস্তায় জল জমে, যানজট, বিদ্যুৎ খণ্ডন ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্বিতীয়ত কৃষকদের উদ্বেগ, কারণ ফসলের সঠিক সময়ে বৃষ্টি না হলে ক্ষতি, আর অনেক হলে প্লাবন—এক ধরনের ‘দু’তরফা বিপদ’।
মৎস্যজীবীরা সব থেকে বেশি চিন্তায়— সমুদ্র উত্তাল, ছোট নৌকা জাল ফেলতে নিরাপদ নয়। উপকূলবর্তী রাজ্যগুলিতে প্রশাসন মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করেছে। যেমন, ওড়িশ্যার দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি রয়েছে।

প্রশাসনের প্রস্তুতিও ইতিমধ্যেই চোখে পড়ছে—দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী, উদ্ধারকারীরা প্রস্তুত, বাঁধস্থল মাঠ পর্যায়ে রক্ষার প্রস্তুতি চলছে। মোহনগঞ্জ ও করাপুটেIMD থেকে ‘অরেঞ্জ থেকে রেড’ সতর্কতা জারি—প্রতিটি স্তরে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
কিন্তু মুর্শিদাবাদের এক গ্রামপ্রধান বলছেন, “প্রকৃতির সামনে আমাদের শক্তির সীমা, তাই আমাদের প্রস্তুত ও পাশে দাঁড়াতে হবে।”