Saturday, August 30, 2025
Google search engine
Homeঅন্যান্যরণথম্ভোরে বাঘের জঙ্গলে পর্যটকদের বিপদে ফেলে পালালেন গাইড

রণথম্ভোরে বাঘের জঙ্গলে পর্যটকদের বিপদে ফেলে পালালেন গাইড

Guide flees after endangering tourists in Ranthambore tiger forest:ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ কেন্দ্র রাজস্থানের রণথম্ভোর টাইগার রিজ়ার্ভ। প্রতি বছর হাজার হাজার দেশি–বিদেশি পর্যটক এখানে আসেন বাঘ দেখার আশায়। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েক মাস ধরে এই অভয়ারণ্যকে ঘিরে বিতর্ক থামছেই না। এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে টানা তিনটি মৃত্যু ঘটেছে বাঘের হামলায়। তার জেরে তিনটি বাঘটিকে রিজ়ার্ভ থেকে সরিয়ে অন্যত্র পাঠাতে হয়েছে। এই ঘটনাগুলি জাতীয় স্তরে এক বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—রণথম্ভোরে নিরাপত্তা কতটা সুনিশ্চিত? ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই শনিবার সন্ধ্যায় ঘটে গেল নতুন এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা।শনিবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টা। রণথম্ভোর টাইগার রিজ়ার্ভের জ়োন ৬–এ কোর এরিয়ার গভীরে একটি বড় সাফারি গাড়ি বা ক্যান্টার হঠাৎ করেই খারাপ হয়ে থেমে যায়। সেই গাড়িতেই ছিলেন প্রায় ২৫ জন পর্যটক—পুরুষ, মহিলা ও শিশু মিলিয়ে। ঠিক তখনই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হয়। কারণ এই এলাকা বাঘের ডেরার মধ্যেই পড়ে। হঠাৎ গাড়ি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সাফারিতে থাকা পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।পর্যটকদের অভিযোগ, সঙ্গে থাকা গাইডকে তাঁরা বারবার অনুরোধ করেন যেন দ্রুত অন্য একটি গাড়ির ব্যবস্থা করেন। কিন্তু গাইড উত্তেজিত হয়ে চেঁচামেচি শুরু করেন। অভিযোগ আরও গুরুতর—তিনি পর্যটকদের বিপদে ফেলে কার্যত সেখান থেকে পালিয়ে যান।গাইডের যুক্তি ছিল, তিনি অন্য গাড়ি আনতে যাচ্ছেন। কিন্তু পর্যটকরা কিছুক্ষণের মধ্যেই বুঝতে পারেন, গাইড তাঁদের বাঘের মুখে ফেলে রেখে নিজের প্রাণ বাঁচানোর জন্যই সরে পড়েছেন।

ফলত প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে পর্যটকরা প্রাণ হাতে করে সেই ক্যান্টারের ভিতরে বসে ছিলেন। অন্ধকারে যখন চারপাশে কেবল জঙ্গলের শব্দ, তখন সেই আতঙ্ককে ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। অবশেষে রাত সাড়ে ৭টার পর উদ্ধারকারী দল এসে তাঁদের নিরাপদে বের করে আনে।ঘটনার পরেই রণথম্ভোরের ফিল্ড ডিরেক্টর অভিযুক্ত গাইডের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, পর্যটকদের প্রাণের নিরাপত্তা যেখানে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে এভাবে তাঁদের ফেলে রেখে যাওয়া গুরুতর অপরাধ। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে।প্রশাসনের তরফে অবশ্য একটি প্রশ্নও উঠেছে—কেন পর্যটকদের উদ্ধারে এতটা সময় লাগল? দেড় ঘণ্টা ধরে কোর এরিয়ার মধ্যে আটকে রাখা কতটা সঙ্গত, সে নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জঙ্গলের দূরত্ব, অন্ধকার এবং বিকল্প গাড়ি পাঠানোর জটিলতার কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য নতুন করে গাইডদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।রণথম্ভোর টাইগার রিজ়ার্ভ প্রায় ১৪০০ বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত।

4206d7b4c26d0c651f3dc388e8c70952

এর মধ্যে রণথম্ভোর জাতীয় উদ্যানের জ়োন ১ থেকে ৫–এ জুনের শেষ থেকে টাইগার সাফারি বন্ধ রয়েছে। কিন্তু বাকি পাঁচটি জ়োনে সারা বছর সাফারি চলে। শনিবারের ঘটনাটি ঘটেছে সেই খোলা জ়োনের একটিতে।সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, রণথম্ভোরে বর্তমানে বাঘের সংখ্যা প্রায় ৮০। তাঁদের সুরক্ষা ও পর্যটকদের নিরাপত্তা—দু’টিই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বারবার ঘটে যাওয়া মৃত্যু, বাঘ সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত, এবং এখন গাইডের গাফিলতি—সব মিলিয়ে প্রশাসনের ওপর প্রশ্নচিহ্ন গাঢ় হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গাইডদের প্রশিক্ষণ ও মানসিক দৃঢ়তা ছাড়া এ ধরনের দুর্ঘটনা ঠেকানো সম্ভব নয়।ঘটনার পরে কর্তৃপক্ষ নতুন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে নজর দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। ভবিষ্যতে কোর এরিয়ায় সাফারির জন্য আরও শক্তিশালী গাড়ি ব্যবহারের কথা ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার নিশ্চিত করার জন্য নতুন নীতি নেওয়া হতে পারে। পর্যটন ব্যবসা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই লক্ষ্যেই প্রশাসন কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments