GDP growth rate increased amid Trump’s tariff bomb: বিশ্ব অর্থনীতির অঙ্গনে এখন নানা অস্থিরতা। বিশেষত আমেরিকার নীতি, যা একদিকে বাণিজ্য সহযোগী দেশগুলির জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসন একাধিক আমদানিপণ্যের উপর প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপিয়েছে। এর ফলে ভারতের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল—বাণিজ্য বাধা হয়তো রপ্তানি কমিয়ে দেবে, কর্মসংস্থানের উপর চাপ ফেলবে, এমনকি সামগ্রিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়ে পড়তে পারে। কিন্তু বাস্তব চিত্র একেবারেই ভিন্ন। প্রত্যাশার বাইরে ভারতীয় অর্থনীতি আশ্চর্যজনকভাবে এক ইতিবাচক সাফল্যের দিশা দেখিয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের পরিসংখ্যান এবং পরিকল্পনা দপ্তরের সর্বশেষ রিপোর্টে উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭.৮ শতাংশে। এই পরিসংখ্যান শুধু পূর্বাভাসকেই ছাপিয়ে যায়নি, বরং বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া অর্থনীতির কাতারে ভারতের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমেরিকার শুল্ক চাপানো সত্ত্বেও ভারতীয় অর্থনীতি এক অভূতপূর্ব স্থিতিস্থাপকতা প্রদর্শন করেছে।
বিশেষত পরিষেবা ক্ষেত্রেই দেখা গেছে রেকর্ড বৃদ্ধি—এই সেক্টরের বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৯.৩ শতাংশে, যা সামগ্রিক জিডিপি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক এবং পরিকল্পনা কমিশনের তরফে এই সাফল্যকে “ভারতের অর্থনৈতিক আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন” বলে অভিহিত করা হয়েছে। এক উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক বলেন, “বৈশ্বিক চাপে আমরা ভেঙে পড়িনি। বরং অভ্যন্তরীণ চাহিদা, পরিষেবা খাতের উল্লম্ফন এবং সরকারের ধারাবাহিক নীতি সংস্কার ভারতের বৃদ্ধিকে টেকসই করেছে।”

সরকারি মহলের ধারণা, এই ইতিবাচক ফলাফল বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে এবং বিদেশি পুঁজির প্রবাহকেও আরও ত্বরান্বিত করবে। পাশাপাশি রপ্তানি এবং উৎপাদন খাতে ভবিষ্যতে কিছুটা চ্যালেঞ্জ থাকলেও, ভারতীয় অর্থনীতি আপাতত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগোচ্ছে।সাধারণ ব্যবসায়ী মহল থেকে শুরু করে ছোট উদ্যোক্তারা এই বৃদ্ধিকে আশাবাদের চোখে দেখছেন। কলকাতার এক ক্ষুদ্র রপ্তানিকারক বলেন, “আমেরিকার শুল্কে রপ্তানিতে চাপ বাড়লেও দেশীয় বাজার এখন অনেক বড় সহায়। অভ্যন্তরীণ চাহিদা থাকায় ব্যবসা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে।”অন্যদিকে তথ্যপ্রযুক্তি এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের কর্মীরা মনে করছেন, এই খাতের বৃদ্ধি সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াচ্ছে। বেঙ্গালুরুর এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার জানালেন, “বিদেশে চাপ থাকলেও আমাদের খাত এত দ্রুত এগোচ্ছে যে কর্মসংস্থান নিয়ে এখন আর ততটা উদ্বেগ নেই।”

অর্থনীতিবিদদের মতে, আমেরিকার শুল্কনীতি ভারতীয় রপ্তানির জন্য অবশ্যই এক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিশেষত ম্যানুফ্যাকচারিং ও কিছু কাঁচামাল নির্ভর শিল্প এর ফলে কিছুটা সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে। তবে একই সময়ে পরিষেবা খাতের প্রবল বৃদ্ধি, দেশীয় বাজারে ভোগের চাহিদা, এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারি বিনিয়োগ ভারতের বৃদ্ধিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধির হার শুধু পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি এক প্রতীক—যে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ভারত এগিয়ে যেতে পারে। অনেক সংস্থা যেখানে ৬.৫ শতাংশ বা তার কম বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল, বাস্তবের এই সংখ্যা ভারতীয় অর্থনীতির শক্তিশালী ভিতকেই প্রমাণ করে।ভবিষ্যতে অবশ্য কিছু ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। মার্কিন শুল্ক নীতি দীর্ঘমেয়াদে রপ্তানি খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও তেলের দামের ওঠাপড়াও ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। তবে পরিষেবা, কৃষি, এবং ডিজিটাল অর্থনীতির সমন্বিত অগ্রগতি দেশের অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ৮ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি ধরে রাখা। যদি নীতি সংস্কার, শিল্পোন্নয়ন, এবং প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের ধারা অব্যাহত থাকে, তবে ভারত বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অর্থনীতির আসনে পৌঁছনো আর সময়ের অপেক্ষা।ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক বোমা ভারতের অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিতে পারেনি। বরং এই পরিস্থিতিই প্রমাণ করল, প্রতিকূলতার মাঝেও ভারতীয় অর্থনীতি জোরালোভাবে এগোতে জানে। পরিষেবা খাতের বিস্ফোরক বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ বাজারের শক্তি, এবং সরকারি নীতির ধারাবাহিকতায় ভারত আজ বিশ্ব অর্থনীতির মানচিত্রে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।