DYFI AGITATION IN SILIGURI: শুক্রবার শিলিগুড়ি কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। ডিওয়াইএফআই (DYFI), অর্থাৎ ডেমোক্র্যাটিক ইয়ুথ ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া, বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের দাবিতে উত্তরকন্যা অভিযানের ডাক দিয়েছিল। কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক ভবন উত্তরকন্যায় স্মারকলিপি জমা দেওয়া। কিন্তু শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচি কিছুক্ষণের মধ্যেই রূপ নেয় তীব্র সংঘর্ষে। ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের তিনবাত্তি মোড় থেকে উত্তরকন্যা পর্যন্ত গোটা এলাকাটি অশান্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের প্রবল সংঘর্ষে কার্যত ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। এদিন সকাল থেকেই শিলিগুড়ি-জলপাইমোড়ে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে ডিওয়াইএফআই কর্মী-সমর্থকরা জড়ো হতে থাকেন। ডিওয়াইএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে প্রথম সারির নেতৃত্বরা উপস্থিত ছিলেন এই অভিযানে। পথসভা এবং প্রতিবাদ মিছিলের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। মিছিলটি জলপাই মোড় থেকে বর্ধমান রোড ধরে নৌকাঘাট হয়ে তিনবাত্তি মোড়ে পৌঁছায়। সেই সময়ই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকানোর চেষ্টা করে এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয় যে এই কর্মসূচি বেআইনি, কারণ অনুমতি নেওয়া হয়নি। কিন্তু আন্দোলনকারীরা পুলিশের নির্দেশ অগ্রাহ্য করে মিছিল চালিয়ে যেতে থাকেন।
ব্যারিকেডের সামনে রাস্তায় বসে প্রতিবাদ শুরু হয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের দাবি, মিছিলের ভেতর থেকে তাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। এরপরেও আন্দোলনকারীরা পিছু না হটলে শেষ পর্যন্ত লাঠিচার্জ করা হয়। এই সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী এবং পুলিশকর্মী আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল এবং শেষে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর মধ্যে ছিলেন ডিওয়াইএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। পুলিশের আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমরা বেশ কয়েকদিন আগেই পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েছিলাম। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে অনুমতি দেওয়া হয়নি। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করার পরও আমাদের কর্মসূচিকে বেআইনি ঘোষণা করে পুলিশ অশান্তি তৈরি করেছে।” ডিওয়াইএফআইয়ের আরও নেতৃত্বরা অভিযোগ করেন, সরকারের এই দমননীতি আসলে যুবসমাজের ন্যায্য দাবিকে দমিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা। অন্যদিকে, শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার বিশ্বচাঁদ ঠাকুর বলেন, “প্রথমে সব ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু আচমকাই আন্দোলনকারীদের মধ্যে থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আমাদের লাঠিচার্জ করতে হয়েছে। আমাদের বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে।” সংঘর্ষের জেরে বেশ কিছুক্ষণ ধরে তিনবাত্তি মোড় এবং ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই ঘটনায় চরম অসন্তোষ দেখা দেয়। অনেকেই অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর এই ধরনের কর্মসূচি সাধারণ মানুষের জীবনে সমস্যা তৈরি করছে। কিন্তু ডিওয়াইএফআই কর্মীরা বলছেন, তাদের আন্দোলন মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য, আর সরকারের অবহেলা এবং পুলিশের দমননীতিই এই অশান্তির মূল কারণ।
ডিওয়াইএফআই, বা ডেমোক্র্যাটিক ইয়ুথ ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া, ভারতের সিপিআই (এম)-এর যুব সংগঠন। তারা দীর্ঘদিন ধরে বেকারত্ব, কর্মসংস্থানের অভাব এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে। DYFI-এর দাবি, বর্তমান সরকারের আমলে যুবসমাজ অবহেলিত, আর এই কর্মসূচি সেই অবহেলার বিরুদ্ধেই ছিল। তাদের আরও অভিযোগ, সরকার শুধুমাত্র সরকারি পরিসংখ্যান দিয়ে উন্নয়নের কথা বলছে, কিন্তু বাস্তবের চিত্র তার থেকে অনেকটাই আলাদা। এই ধরণের সংঘর্ষের ঘটনা ভবিষ্যতে রাজ্য রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডিওয়াইএফআই তাদের দাবিকে আরও জোরদার করতে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে পারে। DYFI নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই পরবর্তী কর্মসূচির ইঙ্গিত দিয়েছে। এই সংঘর্ষ শুধু রাজনৈতিক মহলে নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও আলোড়ন ফেলেছে। অনেকেই বলছেন, বেকারত্বের সমস্যা সমাধানে সরকারকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে, নইলে এই ধরনের প্রতিবাদ আরও বাড়বে। বেকারত্ব এবং কর্মসংস্থানের ইস্যুটি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত, এবং DYFI সেই দাবিকে সামনে রেখেই আন্দোলন চালিয়ে আসছে। এখন দেখার, সরকার এবং প্রশাসন কীভাবে এই সমস্যার সমাধান করে এবং যুবসমাজের ক্ষোভ কমাতে কী পদক্ষেপ নেয়।