Sunday, August 24, 2025
Google search engine
Homeঅন্যান্যনিম্নচাপের জের, এখনই রাজ্যে বৃষ্টি কমার সম্ভাবনা কম!

নিম্নচাপের জের, এখনই রাজ্যে বৃষ্টি কমার সম্ভাবনা কম!

 Due to low pressure, there is little chance of rain in the state right now!:গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই দক্ষিণবঙ্গের আকাশ যেন রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরি খেলায় মেতেছে। সকালে কিছুটা রোদ উঠলেও দুপুর গড়াতেই নেমে আসছে ঘন কালো মেঘ, তারপর শুরু হচ্ছে ঝমঝম বৃষ্টি। সাধারণ মানুষ থেকে কৃষক—সবার দৈনন্দিন জীবনে তার যথেষ্ট প্রভাব পড়ছে।আসলে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর সক্রিয় ঘূর্ণাবর্তের জেরেই এই অস্থির আবহাওয়া। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় একটানা কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি চলছে। এর ফলে কোথাও জল জমেছে, কোথাও আবার ফসলের মাঠ ডুবে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে মানুষ আশা করছিলেন, এবার হয়তো বৃষ্টি থেমে রোদ্দুর ফিরবে। কিন্তু আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বার্তা সেই আশায় কার্যত জল ঢেলেছে।শনিবার হাওয়া অফিস জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা সীমান্ত লাগোয়া উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে নতুন করে একটি নিম্নচাপ তৈরি হতে চলেছে। সোমবার থেকেই সাগরের বুকে ওই নিম্নচাপ গঠন শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।এই নতুন নিম্নচাপের জেরে দক্ষিণবঙ্গে দুর্যোগ আরও কয়েক দিন দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ইতিমধ্যেই রবিবার অর্থাৎ আজকের জন্য দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী ও পশ্চিমের বেশ কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমান—এই সাত জেলায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।এর ফলে উপকূলবর্তী এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

মৎস্যজীবীদের সাগরে নামতে নিষেধ করা হয়েছে।আবহাওয়া দফতরের তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, এখনও দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি কমার সম্ভাবনা নেই। বরং এই নিম্নচাপ সক্রিয় থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দফতর ইতিমধ্যেই উপকূলবর্তী জেলাগুলির প্রশাসনকে সতর্ক করেছে। নবান্ন থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেকোনও জরুরি পরিস্থিতি সামলাতে এনডিআরএফ ও সিভিল ডিফেন্স বাহিনী প্রস্তুত রাখতে হবে। বিশেষ করে নদী ও সাগর লাগোয়া অঞ্চলে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। মৎস্যজীবী সমাজের একাংশ জানিয়েছেন, গত কয়েক দিন ধরেই তারা সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না। এতে সংসার চালানোই দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।ঝাড়গ্রামের গ্রামীণ এলাকায় কৃষকরা বলছেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে মাঠের ধানজমি তলিয়ে যাচ্ছে। এক কৃষকের বক্তব্য, “ধানের শীষ আসতে শুরু করেছে। এখন যদি জল নেমে না যায়, পুরো ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।”অন্যদিকে কলকাতা ও সংলগ্ন শহরাঞ্চলের বাসিন্দারা বলছেন, রোজকার যাতায়াত ভোগান্তির মধ্যে পড়ছে। এক অফিসগামী যুবকের কথায়, “প্রতিদিন ভিজে যেতে হচ্ছে। রাস্তার জল জমে গাড়ি চলছে ধীরে। অফিসে পৌঁছনোই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

2Q==

মৌসুমবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগর বরাবর নিম্নচাপের প্রবণতা বর্ষাকালের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। তবে এবারের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। একের পর এক নিম্নচাপ তৈরি হওয়ায় বৃষ্টিপাত দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষি ও পরিবহণ ব্যবস্থায়।কৃষিক্ষেত্রে এই অতিবৃষ্টি ধানচাষের ক্ষতি ডেকে আনছে। শহরাঞ্চলে জল জমে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে কাঁচা রাস্তা ভেঙে পড়ছে। স্বাস্থ্যখাতেও এর প্রভাব পড়ছে—জলবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।পরিসংখ্যান বলছে, এই আগস্ট মাসেই দক্ষিণবঙ্গে গড়পড়তা বৃষ্টির তুলনায় প্রায় ৩০% বেশি বৃষ্টি হয়েছে।হাওয়া অফিসের অনুমান, সোমবার থেকে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ অন্তত কয়েক দিন সক্রিয় থাকবে। এর জেরে আগামী সপ্তাহ জুড়েই দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল। যদিও সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে আবহাওয়া কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।তবে আপাতত সাধারণ মানুষকে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সতর্কতা অবলম্বন অব্যাহত থাকবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কৃষক ও মৎস্যজীবীরা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments