Do not see the winter, bored tourists come to visit Digha!: নভেম্বর মাস পড়ে গেলেও দক্ষিণবঙ্গে শীতের দেখা নেই, আর এই নিয়ে মন খারাপ দীঘায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের। প্রতিবারের মতো শীতের শুরুতে সমুদ্রের ঢেউ আর ঠাণ্ডা হাওয়ার মিশ্রণে দীঘায় যে মনোরম পরিবেশের সৃষ্টি হয়, তা উপভোগ করতে দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটকরা ছুটে আসেন। কিন্তু এবার নভেম্বরের প্রথম ভাগ শেষ হয়ে গেলেও শীত এখনও দেখা দেয়নি, বরং উল্টে গরম আর মাঝে মাঝে বৃষ্টির কারণে সবাই যেন একটু বিক্ষিপ্ত। সাধারণত এই সময়ে দীঘা সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে প্রচুর মানুষ ভিড় করেন, শীতের আবেশ অনুভব করতে। কিন্তু চলতি বছরে প্রাকৃতিক এই পরিবর্তনের জন্য পর্যটকেরা একটু হতাশ।
পর্যটকদের অনেকেই জানিয়েছেন, তাঁরা মূলত শীত উপভোগ করার জন্যই দীঘায় এসেছেন। কলকাতা থেকে আসা এক পর্যটক সঞ্জীব ঘোষ জানান, “প্রতিবার এই সময়ে দীঘার ঠাণ্ডা হাওয়া আর রোদ মাখা দিনে বেড়ানোর মজাই আলাদা। কিন্তু এবার আসার পর মনে হচ্ছে, যেন আমরা গরমের সময়েই চলে এসেছি। শীতের বদলে গরমের তাপেই ভুগছি।” এমনই অনুভূতি আরেক পর্যটক মীরা সেনেরও, তিনি বলেন, “শীতের জন্য এতদিন অপেক্ষা করেছি, ভেবেছিলাম দীঘায় এসে শীতের আমেজ পাবো, কিন্তু সেটা আর পেলাম না। তবে দীঘা সবসময়ই সুন্দর, তাই ঘুরতে এসে ঠিকই আনন্দ পাচ্ছি, তবে শীতের অভাবটা বোধ হচ্ছে।”
হাওয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে যে, শীতের জন্য এখনও অপেক্ষা করতে হবে। বিশেষ করে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের কিছু কিছু জেলায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা দেখা গেলেও শীতের আগমন আপাতত অনিশ্চিত। আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, আগামী পাঁচ দিন তাপমাত্রায় তেমন কোনো পরিবর্তন হবে না। বরং নভেম্বরের শেষ বা ডিসেম্বরের শুরু থেকেই শীত আসতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামী ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি থাকবে। তাই শীতের অনুভূতি পাওয়ার জন্য আপামর বাঙালিকে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে।
এই শীতের অনুপস্থিতি পর্যটন ব্যবসায়ের ওপরেও প্রভাব ফেলছে। দীঘার এক হোটেল মালিক সৌমেন চক্রবর্তী বলেন, “আমরা এই সময়ে ভরপুর বুকিং আশা করি, কারণ এই মৌসুমে প্রচুর মানুষ দীঘায় আসেন। তবে শীত না পড়ায় অনেকে বুকিং বাতিল করেছেন। মানুষ শীতের আনন্দ উপভোগ করতে চান, কিন্তু শীত না থাকায় তাঁদের আকর্ষণ কমে যাচ্ছে।” স্থানীয় দোকানদারদেরও একই কথা। তাঁরা জানান, শীতের আবহে চা-পাকোড়া বা সামুদ্রিক খাবারের বিক্রি বাড়ে, কিন্তু এই গরম আবহাওয়ায় সেসব খাবারের প্রতি মানুষের আকর্ষণ কম। এমনকি অনেকেই গরম থেকে বাঁচতে বিকেলের দিকে বাইরে না বের হয়ে হোটেলে বিশ্রাম নিচ্ছেন।
তবে স্থানীয় পর্যটন কর্মীরা আশাবাদী যে, শীত এসে গেলে আবার পর্যটকদের ঢল নামবে। দীঘার একটি স্থানীয় ট্র্যাভেল এজেন্সির মালিক রবি সেনগুপ্ত বলেন, “শীত এখনও আসেনি বলে পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কম থাকলেও শীত আসার পর বুকিং বেড়ে যাবে। শীতের জন্য মানুষ অপেক্ষা করছেন, এবং ডিসেম্বরের মধ্যে দীঘায় ভিড় দেখা যাবে।” স্থানীয় প্রশাসনও পর্যটকদের সুবিধার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্ত করছে এবং সমুদ্রের তীরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করছে, যাতে পর্যটকেরা নিরাপদে বেড়াতে পারেন।
শীতের এই অনুপস্থিতি প্রকৃতির উপরেও প্রভাব ফেলছে। অনেকেই বলছেন, জলবায়ুর পরিবর্তন এই শীতের দেরির অন্যতম কারণ হতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের মানুষ, বিশেষত কৃষকেরা, শীত না পড়ায় বিভিন্ন ফসলের জন্য উদ্বিগ্ন। তাঁরা জানিয়েছেন, শীতের শুরুতে সঠিক তাপমাত্রা না পেলে কিছু শীতকালীন ফসলের ফলনে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ নিয়ে পরিবেশবিদদেরও উদ্বেগ রয়েছে। আবহাওয়া দফতর থেকে জানানো হয়েছে যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রার এই অস্বাভাবিক উঠানামা ভবিষ্যতে আরও বড় সমস্যার দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সবমিলিয়ে, এই শীতের অনুপস্থিতি দক্ষিণবঙ্গে এক প্রকার অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। শীতের আমেজ ছাড়া দীঘায় আসা পর্যটকদের জন্য যেমন মনের খিদে মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে, তেমনই স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং কৃষকেরাও সমস্যায় পড়ছেন। স্থানীয়রা আশা করছেন, শীত দ্রুত আসবে এবং এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে। শীতের জন্য সবার অপেক্ষা, আর প্রকৃতি তার নিজস্ব সময়ে সেই শীতকে নিয়ে আসবে, এমনই আশাবাদ সকলের।