Devastating fire in Durgapur, 2 shops gutted : দুর্গাপুরের ইস্পাত নগরীতে শুক্রবার সকালে ঘটে গেল এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। সকালবেলায় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উইলিয়াম কেরি এলাকার একটি সাইকেলের দোকানে হঠাৎই আগুন লাগে এবং সেই আগুন মুহূর্তের মধ্যেই পার্শ্ববর্তী একটি মুদিখানার দোকানেও ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের দুটি ইঞ্জিন এবং দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বেআইনিভাবে গ্যাস সিলিন্ডার রিফিলিং করার কারণেই এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। সাইকেলের দোকানের আড়ালে চলছিল গোপন গ্যাস রিফিলিং-এর কাজ, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং বেআইনি। গ্যাস সিলিন্ডার থেকে হঠাৎই একটি বিস্ফোরণ ঘটে, এবং সেখান থেকেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা মুদিখানার দোকানেও পেঁছায়, আর দুটি দোকানই সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দমকলের দুটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে তা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের বেশ খানিকটা সময় লেগে যায়। দমকল কর্মীরা জানান, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং দোকানগুলিকে ভস্মীভূত করে দেয়। আগুন নেভানোর পর ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি বিস্ফোরিত গ্যাস সিলিন্ডারও উদ্ধার করা হয়েছে।অগ্নিকাণ্ডের সময় কালো ধোঁয়া এতটাই ছড়িয়ে পড়েছিল যে আশেপাশের এলাকায় ভয়ানক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলের ঠিক কাছেই ছিল একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, যেখানে অনেক রোগী চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। কিন্তু কালো ধোঁয়ার কারণে কিছুক্ষণের জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিকে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন সেখানকার কর্মীরা। রোগীরা ভয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন, এবং চারপাশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এই ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, প্রকাশ্য দিবালোকে কীভাবে সাইকেলের দোকানের মতো জায়গায় বেআইনি গ্যাস রিফিলিং-এর মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ চলছিল? কারা এর পেছনে জড়িত, এবং এতদিন ধরে কেন প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এই ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ চালানো হচ্ছিল? স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন যে, এই ধরনের বেআইনি কাজের কারণে যে কোনও দিন আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।
পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। দোকান মালিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং বেআইনি গ্যাস রিফিলিং-এর পেছনে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “এই ঘটনার পেছনে যদি কোনও বড় চক্রের হাত থাকে, তবে আমরা তা খুব শিগগিরিই উদঘাটন করব। দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতির পরিমাণ প্রচুর। সাইকেলের দোকান এবং মুদিখানার দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। দোকান মালিকরা তাঁদের ব্যবসার প্রায় সমস্ত সামগ্রী হারিয়েছেন। সাইকেলের দোকানের মালিক রাজেশ দাস জানিয়েছেন, “সব শেষ হয়ে গেল। বহু বছর ধরে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছি। এক মুহূর্তের মধ্যে সব কিছু ভস্মীভূত হয়ে গেল। কীভাবে আবার নতুন করে শুরু করব, বুঝতে পারছি না।”মুদিখানার দোকানের মালিকেরও একই অবস্থা। তিনি চোখের জল মুছে বলেন, “আমার সব কিছু শেষ। এত কষ্ট করে ব্যবসা দাঁড় করিয়েছিলাম, এখন আমার আর কিছুই নেই।” এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদাররা।