Friday, August 29, 2025
Google search engine
Homeঅন্যান্যমৃত্যুমিছিল অব্যাহত ইউক্রেনে!

মৃত্যুমিছিল অব্যাহত ইউক্রেনে!

Death from Miscellaneous Accident in Ukraine!:২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হয়েছিল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। শুরুতে অনেকেই ভেবেছিলেন অল্প সময়ের মধ্যেই হয়তো সমাধান হবে এই সংঘাত। কিন্তু দিনের পর দিন, মাসের পর মাস গড়িয়েছে, তবুও যুদ্ধের আগুন নিভেনি। নানা আন্তর্জাতিক উদ্যোগ, একাধিক বৈঠক, যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব—সবই ভেস্তে গেছে দুই দেশের অদম্য অবস্থানের কাছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন, ইউক্রেনকে দোনেৎস্ক অঞ্চল ছাড়তে হবে। কিন্তু ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বারবার স্পষ্ট করেছেন, এই দাবি মানা সম্ভব নয়। এর ফলে আলোচনার পথ বারবার ভেঙে পড়েছে, আর ময়দানে বেড়েছে মৃত্যুর মিছিল।বৃহস্পতিবার নতুন করে রক্তাক্ত হল ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ। শান্ত শহরের বুকে হঠাৎ করেই আছড়ে পড়ল রুশ ক্ষেপণাস্ত্র। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, এই আক্রমণে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও ৪৮ জন। আহতদের মধ্যে অনেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। দীর্ঘ কয়েকদিন অপেক্ষাকৃত শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করার পর হঠাৎ এই আক্রমণে ফের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে শহরে।

বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠেছে কিয়েভের বহু আবাসিক এলাকা, আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসেন সাধারণ মানুষ।প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হঠাৎ করে আকাশ থেকে আগুনের গোলার মতো ছুটে আসে মিসাইল। মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় কয়েকটি ভবন। আগুনে পুড়ে যায় বাড়িঘর, দোকানপাট। মুহূর্তের মধ্যে স্বজন হারানো মানুষের কান্না আর আতঙ্কের চিৎকার ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র।ইউক্রেনের স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তারা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। সেনা ও দমকল বাহিনী একসঙ্গে কাজ করে ধ্বংসস্তূপ থেকে আহতদের বের করে হাসপাতালে পাঠাচ্ছে। জেলেনস্কি সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, রাশিয়ার এই আক্রমণ মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি আন্তর্জাতিক মহলের উদ্দেশ্যে বলেন, “বিশ্বের প্রতিটি দেশকে এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে। নীরবতা মানে অপরাধকে মেনে নেওয়া।”অন্যদিকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনও সদর্থক বার্তা মেলেনি। আলোচনার টেবিলে বসার বদলে রাশিয়া ব্যালিস্টিক মিসাইলের পথ বেছে নিয়েছে। আন্তর্জাতিক কূটনীতিক মহলের মতে, এ ধরনের আক্রমণ রাশিয়ার কৌশলগত চাপ বাড়ানোর অংশ।

65632689 605

কিয়েভের সাধারণ মানুষের মনে এখন আতঙ্ক আর ক্ষোভ। এক বাসিন্দা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম হয়তো শান্তি ফিরছে, অন্তত কয়েকদিন শান্তি পেয়েছিলাম। কিন্তু আবারও সব শেষ হয়ে গেল।” আরেকজনের কথায়, “আমাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে, স্বজন হারিয়েছি। কতদিন আর এই যন্ত্রণা সইব?”এই হতাশার মাঝেও অনেকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিচ্ছেন। কিয়েভের তরুণরা বলছেন, যতই হামলা হোক না কেন, তাঁরা পিছিয়ে আসবেন না। তাঁদের বিশ্বাস, এই যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে ইউক্রেনই।বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের এই সংঘাত এখন শুধু দুই দেশের যুদ্ধ নয়, বরং একটি বিশ্ব কূটনৈতিক অচলাবস্থার প্রতিচ্ছবি। পুতিনের দোনেৎস্ক সংক্রান্ত দাবি ইউক্রেনের কাছে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। অন্যদিকে রাশিয়া ছাড় দিতে নারাজ। ফলে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা কার্যত শূন্য।আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ২০২২ সাল থেকে এ পর্যন্ত এই যুদ্ধে কয়েক লক্ষ মানুষ নিহত বা আহত হয়েছেন। কোটি কোটি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়েছেন। অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে, শিক্ষা-স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। এই অবস্থায় প্রতিটি নতুন হামলা শুধু মানবিক সঙ্কটকে আরও গভীর করছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments