...
Thursday, April 3, 2025
Google search engine
Homeঅন্যান্যচিনে তেল গ্যাসের বিপুল মজুদ,নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত

চিনে তেল গ্যাসের বিপুল মজুদ,নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত

China’s huge oil and gas reserves open up new possibilities : বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট যখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, তখন চিনের বিজ্ঞানীরা এমন এক আবিষ্কার করেছেন, যা বিশ্ববাজারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি চিনের জন্য “লটারি লাগার” মতো ঘটনা, কারণ এই আবিষ্কার তাদের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে এবং বিশ্বের জ্বালানি বাজারের চিত্র বদলে দিতে পারে।সম্প্রতি চায়না ন্যাশনাল অফশোর অয়েল কর্পোরেশন (CNOOC) জানিয়েছে, তারা বেবু উপসাগর অববাহিকার গভীরে, প্যালিওজোয়িক পাহাড়ের নিচে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ১৫,৮৭৯ ফুট (৪,৮৩৩ মিটার) গভীর পর্যন্ত ড্রিলিং করে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাসের মজুদ খুঁজে পাওয়া গেছে, যা আগামী কয়েক দশক ধরে চিনের চাহিদা মেটাতে পারে। চিন এতদিন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল ও গ্যাস আমদানিকারক দেশ ছিল, কিন্তু এখন নিজেদের দেশে জ্বালানির মজুদ খুঁজে পাওয়ায় তারা বিদেশি আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে পারবে। এই আবিষ্কার চিনের জন্য শুধু অর্থনৈতিক শক্তি বাড়াবে না, বরং বিশ্বের জ্বালানি খাতেও এক বড় পরিবর্তন আনতে পারে

বিশ্বজুড়ে তেলের চাহিদা বাড়ছে, বিশেষ করে ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলোতে। বর্তমানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যার ফলে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এখন যদি চিন নিজেদের প্রয়োজনীয় তেল ও গ্যাস নিজেরাই উৎপাদন করতে শুরু করে, তাহলে তারা বিদেশ থেকে আমদানি কমিয়ে আনবে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দামও নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। এই আবিষ্কার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে, কারণ এতদিন তারা তেল রপ্তানি করে বিশ্ব অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ রাখত। এখন চিন নিজের তেল উৎপাদন করলে, সৌদি আরব, ইরান, কাতার, এবং রাশিয়ার মতো দেশগুলোর রপ্তানি কমে যেতে পারে

1ea75533 2cbd 4138 be09 334066224d64

একজন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ জানান, “এই আবিষ্কার বিশ্ববাজারে একটি নতুন সমীকরণ তৈরি করবে। চীন যদি বড় আকারে উৎপাদন শুরু করে, তাহলে তেলের বাজারে নতুন শক্তি হিসেবে উঠে আসবে।”চীন ইতিমধ্যেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। তাদের প্রধান শক্তি হল তৈরি পোশাক, ইলেকট্রনিক্স, মোবাইল ফোন, গাড়ি, এবং প্রযুক্তিপণ্য। এতদিন চিন তেলের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল ছিল, কিন্তু এখন তাদের নিজস্ব জ্বালানির মজুদ থাকায় উৎপাদন খরচ অনেকটাই কমে যাবে

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আবিষ্কার চিনের শিল্প ও উৎপাদন খাতে নতুন গতি আনবে। সস্তায় জ্বালানি পেলে চিনের ইন্ডাস্ট্রিগুলো আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে, যা ভারত, আমেরিকা ও ইউরোপের বাজারের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে

যদিও এই আবিষ্কার অর্থনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন এর কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছেবড় আকারে তেল ও গ্যাস উত্তোলনের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরে প্রভাব পড়তে পারেবায়ুদূষণ বাড়তে পারে, যা বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি আরও বাড়াবেউপকূলীয় অঞ্চলে পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটতে পারে, যা সামুদ্রিক প্রাণীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।একজন পরিবেশবিদ বলেন, “চীনের এই আবিষ্কার অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তারা যদি পরিবেশগত দিকটি সঠিকভাবে না দেখে, তাহলে এটি জলবায়ুর জন্য ভয়ঙ্কর পরিণতি বয়ে আনতে পারে।”

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments

Seraphinite AcceleratorOptimized by Seraphinite Accelerator
Turns on site high speed to be attractive for people and search engines.