Bus pushed behind lorry,many injured:১২ নম্বর জাতীয় সড়ক বহু মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াতের প্রধান ভরসা। কৃষ্ণনগর থেকে কলকাতা কিংবা নদিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজধানীর দিকে ছুটে আসা অসংখ্য বাস, লরি ও ছোট গাড়ির ভিড় এই রাস্তায় সর্বক্ষণই চোখে পড়ে। ব্যস্ততম এই রাস্তায় সামান্য অসাবধানতা বা অতিরিক্ত গতি প্রায়শই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ঠিক তেমনই এক দৃশ্যের সাক্ষী রইল নদিয়ার বাবলা বাইপাস এলাকা।ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার সকালে। কলকাতাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুতগতিতে ছুটে আসছিল কৃষ্ণনগর দিক থেকে। হঠাৎই রাস্তার পাশে চোখে পড়ে একটি লরি, যা খোয়া বোঝাই করে দাঁড়িয়ে ছিল যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে। বাসচালক হয়তো বুঝে ওঠার আগেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে সেই লরির পেছনে। মুহূর্তের মধ্যে শোরগোল পড়ে যায় গোটা এলাকায়।ধাক্কার তীব্রতা এতটাই ছিল যে, বাসের সামনের অংশ প্রায় দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে প্রায় কুড়িজন গুরুতরভাবে আহত হন। কেউ মাথায় চোট পান, কারও হাত-পা ভেঙে যায়, আবার অনেকেই বুকে ও কোমরে আঘাত পান। ঘটনাস্থলেই কান্না, চিৎকার, আর্তনাদে ভরে ওঠে বাতাস।স্থানীয়রা খবর দিতেই শান্তিপুর ট্রাফিক পুলিশ ও থানার কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমেই পাঠানো হয় শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন যাত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে অতিরিক্ত গতি ও অসাবধানতাই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ। পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা লরিটির চারপাশে সতর্কীকরণ চিহ্ন না থাকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাস ও লরিকে আটক করেছে পুলিশ।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই এলাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। জাতীয় সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেই। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির পাশে প্রয়োজনীয় সাইনবোর্ড বা আলোর ব্যবস্থা না থাকায় বিপদ আরও বাড়ে।একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান,“বাসটি এত দ্রুতগতিতে আসছিল যে, আমরা চোখের পলকে কিছু বুঝে ওঠার আগেই জোরে ধাক্কা মারল লরিকে। শব্দটা এত প্রবল ছিল যে চারপাশ কেঁপে উঠল।”অন্য একজন আহত যাত্রীর পরিবারের দাবি,“চালকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।

জীবনের চেয়ে গন্তব্যে পৌঁছনো কখনোই বড় নয়।”ভারতের সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান বলছে, অতিরিক্ত গতি দেশের মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৭০ শতাংশের কারণ। জাতীয় সড়কগুলিতে এই ঝুঁকি বহুগুণ বেশি। নদিয়ার এই ঘটনাও সেই প্রবণতারই স্পষ্ট ছবি তুলে ধরল।একই সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা লরির যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকাও এই দুর্ঘটনার বড় কারণ হতে পারে। সাধারণত আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী, রাস্তার ধারে গাড়ি দাঁড় করালে বিপদ এড়াতে লাল পতাকা, রিফ্লেক্টর বা আলোকসজ্জা ব্যবহার করা জরুরি। কিন্তু বাস্তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই নিয়ম মানা হয় না। ফলত বাস বা ট্রাকের মতো দ্রুতগতির যানবাহন সহজেই বিপদের মুখে পড়ে।এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের দাবি, জাতীয় সড়কে নিয়মিত নজরদারি ও স্পিড মনিটরিং ক্যামেরা বসানো হোক। পাশাপাশি রাস্তার ধারে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দাঁড়ানো গাড়ির জন্য বিশেষ লেন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ট্রাফিক বিশেষজ্ঞদের মতে, চালকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং যাত্রীদের সচেতনতা—দুটিই একসঙ্গে বাড়াতে হবে।পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার সম্পূর্ণ তদন্ত শেষ হওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ততদিনে আহতরা সুস্থ হবেন কিনা, বা তাঁদের জীবনে এই দুর্ঘটনা কতটা গভীর দাগ কাটবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।