BSF’s Tricolor Yatra:ভারতের স্বাধীনতার ৭৮তম বর্ষপূর্তি উদযাপনকে ঘিরে গোটা দেশ জুড়ে চলছে প্রস্তুতি। স্বাধীনতা দিবসের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি ইতিমধ্যেই এক দেশব্যাপী আবেগের উৎসবে পরিণত হয়েছে। দেশের প্রতিটি ঘরে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর এই আহ্বানকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দফতর, সংস্থা এবং সাধারণ মানুষ নানা আয়োজন করছেন। সেই ধারাবাহিকতায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)ও যুক্ত হয়েছে দেশপ্রেমের এই মহোৎসবে। গুজরাটের ভূজে অনুষ্ঠিত হলো এক অনন্য তিরঙ্গা যাত্রা, যা স্বাধীনতার গৌরব ও ঐক্যের বার্তা বহন করল।মঙ্গলবার, স্বাধীনতা দিবসের কয়েকদিন আগে, বিএসএফ ভূজের আঞ্চলিক সদর দপ্তর থেকে এক বিশেষ সাইকেল যাত্রার আয়োজন করে। এই যাত্রায় অংশ নেন বহু বিএসএফ জওয়ান, যাদের হাতে উড়ছিল তিরঙ্গা—তিন রঙের সেই পতাকা, যা দেশের গর্ব, ঐক্য এবং ত্যাগের প্রতীক। শহরের বিভিন্ন পথ ধরে এগিয়ে চলা এই সাইকেল যাত্রা শুধুমাত্র একটি ক্রীড়া অনুষ্ঠান ছিল না, বরং ছিল দেশপ্রেমের এক চলমান প্রতিচ্ছবি।বিএসএফ জওয়ানরা সাইকেলের হ্যান্ডেলে, গায়ে এবং পিঠে জাতীয় পতাকা বেঁধে এগিয়ে যান। পথের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজন হাততালি দিয়ে এবং “ভারত মাতা কি জয়” ধ্বনি তুলে তাঁদের স্বাগত জানান। এই দৃশ্য কেবল ভূজের রাস্তায় উপস্থিত মানুষদের নয়, বরং সমগ্র দেশের দেশপ্রেমিক হৃদয়কে স্পর্শ করেছে।
বিএসএফ কমান্ডার অনন্ত সিং জানিয়েছেন, “স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশজুড়ে হর ঘর তিরঙ্গা উদযাপন হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ২ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন। এটি তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত। এর তৃতীয় পর্যায় ৯ আগস্ট থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত চলবে, যেখানে তিরঙ্গা যাত্রা, পথ পরিক্রমা ও সাইকেল যাত্রার মতো কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আমরা আমাদের আঞ্চলিক সদর দপ্তর থেকে তিরঙ্গা যাত্রার অংশ হিসেবে সাইক্লোথনের আয়োজন করেছি, যাতে তিরঙ্গার সম্মান রক্ষা ও দেশপ্রেমের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া যায়।”অনন্ত সিং আরও বলেন, “আমরা চাই এই উদ্যোগ অন্যদের অনুপ্রাণিত করুক।
বিএসএফের তিরঙ্গা যাত্রাতিরঙ্গার মর্যাদা এবং আমাদের দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস যেন আগামী প্রজন্মের মনে চিরকাল অমলিন থাকে।”ভূজ শহরের সাধারণ মানুষ এই তিরঙ্গা যাত্রাকে অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন। স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দা বললেন, “এমন দৃশ্য আমি বহু বছর পর দেখলাম। মনে পড়ে গেল স্বাধীনতার প্রথম দিকের দিনগুলো, যখন শহরজুড়ে দেশপ্রেমের ঢেউ বইত।” অন্যদিকে এক কিশোরের মন্তব্য, “বিএসএফ জওয়ানদের এই সাইকেল যাত্রা দেখে আমার মনে হচ্ছে আমিও বড় হয়ে দেশের সেবা করব।”ব্যবসায়ী মহল থেকেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এসেছে। দোকানপাটের সামনে দাঁড়িয়ে অনেকে যাত্রাপথে পতাকা নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। অনেকেই বলছেন, এই ধরণের উদ্যোগ শুধু উৎসবের আবহ বাড়ায় না, বরং নাগরিকদের মধ্যে দেশপ্রেমের অনুভূতি গভীর করে।