BJP protests in Raniganj in protest against the Mothabari incident:মালদার মোথাবাড়ি এলাকায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার প্রতিবাদে গোটা রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে বিজেপি। বিভিন্ন জায়গায় পথ অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল এবং সভার আয়োজন করা হচ্ছে। সেই মতো ২৯ শে মার্চ রানীগঞ্জেও বিজেপি সমর্থকেরা বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেন। রানীগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন চত্বর থেকে অরুন টকি তেল মিল পর্যন্ত এই মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ১০০ জন বিজেপি সমর্থক ও কর্মী এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেন। হাতে ছিল পতাকা, মুখে ছিল প্রতিবাদী স্লোগান। তাঁদের দাবি – মালদার মোথাবাড়ি ঘটনায় দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং নির্যাতিতদের সুবিচার দিতে হবে।
মোথাবাড়ি ঘটনার পটভূমি এবং কেন প্রতিবাদ?
মালদা জেলার মোথাবাড়ি এলাকায় সম্প্রতি ঘটে যায় একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা, যা নিয়ে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন শাসক দলের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করার কারণে সাধারণ মানুষ এবং বিরোধী দলের কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বিরোধী দলের কর্মীদের ভয় দেখাতে এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাস চালাতেই এই আক্রমণ করেছে।
এই ঘটনার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে বিজেপি ক্ষোভে ফুঁসছে। বিজেপি নেতৃত্ব বলছে, রাজ্যে গণতন্ত্র এখন প্রায় ধ্বংসের পথে। সাধারণ মানুষ তাঁদের মতামত প্রকাশ করতে পারছেন না এবং বিরোধীদের প্রতি হামলা চালানো হচ্ছে। এই অবস্থায় বিজেপি সারা রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়েছে।
রানীগঞ্জে বিজেপির বিক্ষোভ মিছিল
মোথাবাড়ির ঘটনার প্রতিবাদে রানীগঞ্জে আয়োজিত হয় একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল। রানীগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন থেকে অরুন টকি তেল মিল পর্যন্ত এই মিছিল চলে। মিছিলকারীরা হাতে বিজেপির পতাকা এবং প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন। “তৃণমূল হটাও, গণতন্ত্র বাঁচাও” – এমন স্লোগান মুখরিত করে তোলে রানীগঞ্জের পথঘাট।
মিছিলে অংশগ্রহণকারী স্থানীয় বিজেপি নেতা সুশান্ত বিশ্বাস বলেন, “মালদার মোথাবাড়ি এলাকায় যা ঘটেছে, তা শুধু ওই অঞ্চলের ঘটনা নয়। গোটা রাজ্যের গণতন্ত্র আজ তৃণমূল কংগ্রেসের অত্যাচারে ধ্বংস হতে বসেছে। বিরোধী দল করলে হামলা হবে, এটা কেমন রাজনীতি? আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি করছি।”
জনগণের প্রতিক্রিয়া
এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রানীগঞ্জের সাধারণ মানুষের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে বিজেপির এই প্রতিবাদকে সমর্থন করেছেন। তাঁদের মতে, রাজ্যে বিরোধীদের কণ্ঠ রুদ্ধ করার প্রবণতা বাড়ছে এবং গণতন্ত্র বাঁচাতে এই ধরনের প্রতিবাদ প্রয়োজন। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকেরা এই বিক্ষোভকে “রাজনৈতিক স্ট্যান্ট” বলে আখ্যা দিয়েছেন।
রানীগঞ্জের এক ব্যবসায়ী বলেন, “বিরোধীরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছে, এটা তাঁদের অধিকার। তবে রাজনৈতিক সংঘর্ষের কারণে সাধারণ মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই ধরনের হিংসার রাজনীতি বন্ধ হওয়া উচিত।”
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া
বিজেপির এই বিক্ষোভকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের স্থানীয় নেতা রমেশ পাল বলেন, “মোথাবাড়ির ঘটনাকে বিজেপি বিকৃত করছে। তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করতে চাইছে। মানুষ বিজেপির এই ধরনের রাজনীতি ভালোভাবে নিচ্ছেন না, আর ভবিষ্যতেও নেবেন না।”
রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবং ভবিষ্যতের প্রভাব
মোথাবাড়ির ঘটনা এবং বিজেপির রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ধরনের রাজনৈতিক বিক্ষোভ এবং পাল্টা-প্রতিবাদ আরও বাড়বে। বিজেপি রাজ্যে নিজেদের শক্তি বাড়ানোর জন্য এই ঘটনাকে হাতিয়ার করতে চাইছে, আর তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে চাইছে।
রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবং প্রতিবাদ-মিছিলের প্রভাব রাজ্যের সাধারণ মানুষের উপরও পড়ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম – সবই অনেক সময় ব্যাহত হচ্ছে।
উপসংহার
মালদার মোথাবাড়ি ঘটনা এবং রানীগঞ্জের বিজেপি বিক্ষোভ রাজ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি বড় উদাহরণ। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং গণতন্ত্র রক্ষা করা যে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, তা এই ঘটনাগুলি থেকে স্পষ্ট। তবে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলি সংঘর্ষের বদলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজবে, এই আশা করাই যায়।