BJP leader from Raniganj arrested in connection with Nabanna drive: গত বছরের আগস্ট মাসে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গন কেঁপে উঠেছিল এক মর্মান্তিক ঘটনার প্রতিবাদে। আরজিকর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক মহিলা চিকিৎসকের উপর নৃশংস ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা রাজ্যকে। অভয়া নামের সেই তরুণ চিকিৎসক আজও ন্যায় পাননি—ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও আদালতের রায় আসেনি, তদন্ত শেষ হয়নি।অভয়ার মা-বাবা এখনও প্রতিদিন আশা করেন, একদিন সত্যের জয় হবে, অপরাধীরা শাস্তি পাবে। কিন্তু বিচার ব্যবস্থার ধীরগতিতে হতাশ হয়ে পড়েছেন তাঁরা। এই হতাশা ও ক্ষোভই অনেক রাজনৈতিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিস্তৃত হয়, যার ফলেই ৯ আগস্ট ডাকা হয় নবান্ন অভিযান।নবান্ন অভিযানের দিন সকাল থেকেই কলকাতা ও হাওড়া শহরের প্রবেশপথে ছিল চূড়ান্ত সতর্কতা। পুলিশ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে, ব্রিজে, এবং নবান্নের কাছাকাছি জায়গায় ব্যারিকেড বসায়।উদ্দেশ্য ছিল মিছিলকারীদের নবান্নে পৌঁছানো আটকানো।
কিন্তু হাজারো মানুষ, ব্যানার ও স্লোগানে সজ্জিত হয়ে রাস্তায় নেমে আসে। তাঁদের দাবি—অভয়ার জন্য ন্যায়, দ্রুত বিচার, এবং অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি। এই আবেগময় দাবির সঙ্গে যুক্ত হয় রাজনৈতিক উত্তেজনা।বিক্ষোভকারীরা বেশ কয়েকটি স্থানে ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন। পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এই সময়ই পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে।এই মামলার ভিত্তিতেই রানীগঞ্জের যুব বিজেপি নেতা অভিক কুমার মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে হাওড়া পুলিশ। সোমবার হাওড়া পুলিশের একটি টিম রানীগঞ্জে এসে স্থানীয় থানার সহযোগিতায় তাঁকে আটক করে। গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, নবান্ন অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা তাঁদের দায়িত্ব ছিল। যারা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেছেন এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
হাওড়া পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, “আমরা আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এবং প্রমাণের ভিত্তিতে কাজ করছি। কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাত নেই, শুধু আইন মান্য করাই আমাদের লক্ষ্য।”

অভিক মণ্ডলের গ্রেপ্তারের পর রানীগঞ্জে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পাঞ্জাবি মোড় ফাঁড়ির সামনে বিজেপি কর্মী ও সমর্থকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁদের দাবি—এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, বিরোধী কণ্ঠরোধের চেষ্টা।এক স্থানীয় বিজেপি নেতা বলেন, “অভিক মণ্ডল শুধু আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, কোনো অপরাধ করেননি। তবু তাঁকে টার্গেট করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”অন্যদিকে, স্থানীয় কিছু বাসিন্দা মনে করেন, আন্দোলন হোক বা রাজনৈতিক প্রতিবাদ—তা আইন ভেঙে করা উচিত নয়। একজন দোকানদার বলেন, “আমরা সবাই অভয়ার জন্য ন্যায় চাই। কিন্তু রাস্তা আটকে, পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না।”এই ঘটনা শুধু একটি গ্রেপ্তারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—এটি রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের প্রতিচ্ছবি। বিচার ব্যবস্থার বিলম্ব, জনগণের ক্ষোভ, এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল।বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভয়া কাণ্ডে ন্যায়বিচারের বিলম্ব মানুষের মনে হতাশা সৃষ্টি করছে। এই হতাশা রাজনৈতিক আন্দোলনের জ্বালানী হয়ে উঠছে। কিন্তু এই আন্দোলন যখন রাস্তায় সংঘর্ষে রূপ নেয়, তখন প্রশাসন শক্ত হাতে তা দমন করার পথ বেছে নেয়।

ফলে একদিকে ন্যায়বিচারের দাবি, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলার প্রয়োগ—দুটি বিষয় মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যাচ্ছে।অভিক মণ্ডলের গ্রেপ্তারের পর আদালতে কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। যদি প্রমাণ মজবুত হয়, তবে তাঁর জামিন পাওয়া কঠিন হবে। আর যদি অভিযোগ দুর্বল হয়, তাহলে প্রশাসনের উপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ আরও জোরালো হবে।অন্যদিকে, অভয়া কাণ্ডে ন্যায়বিচার পেতে কত সময় লাগবে, তা নিয়েও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিচার প্রক্রিয়া যত দীর্ঘ হবে, ততই জনমনে ক্ষোভ বাড়বে এবং ভবিষ্যতে আরও আন্দোলনের আশঙ্কা তৈরি হবে।রানীগঞ্জের যুব বিজেপি নেতা অভিক মণ্ডলের গ্রেপ্তার কেবল একটি আইনি পদক্ষেপ নয়—এটি রাজ্যের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রতিফলন। অভয়া কাণ্ডের বর্ষপূর্তিতে ন্যায়বিচারের অভাব মানুষকে পথে নামিয়েছে। এখন দেখা যাক, আদালত ও প্রশাসন এই দুই দিক—ন্যায়বিচার ও আইনশৃঙ্খলা—কীভাবে সামঞ্জস্য রাখে।