Baloch rebels threaten, “If attacked, Islamabad will be targeted” : পাকিস্তানে বালোচ বিদ্রোহীদের কার্যকলাপ দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক সময়ে ‘বালোচ লিবারেশন আর্মি’ (BLA) নামে এক বিদ্রোহী গোষ্ঠী সরাসরি ইসলামাবাদে হামলার হুমকি দিয়েছে, যা গোটা পাকিস্তানে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে, একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে হামলার পর তারা এই হুমকি দেয়, যেখানে ১২০ জনেরও বেশি যাত্রী পণবন্দি হয়ে পড়েছিলেন। এ ঘটনায় পাকিস্তানের ৬ জন সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে বালোচিস্তানের কোয়েটা থেকে খাইবার পাখতুন প্রদেশের পেশোয়ারের উদ্দেশে রওনা দেওয়া জাফর এক্সপ্রেস ট্রেনটিতে সশস্ত্র হামলা চালায় BLA। তারা চালকসহ ১২০ জনেরও বেশি যাত্রীকে জিম্মি করে। বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, তাদের নিশানায় ছিল পাকিস্তানের সেনা সদস্য ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। যদিও মহিলা, শিশু ও বালোচিস্তানের যাত্রীদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
BLA-এর মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছে, “এই হামলা কেবল শুরু, যদি আমাদের দাবি মানা না হয়, তবে ইসলামাবাদই হবে পরবর্তী নিশানা!”BLA দীর্ঘদিন ধরে বালোচিস্তানকে পাকিস্তান থেকে আলাদা করার দাবিতে লড়াই করছে। বিদ্রোহীদের অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার বালোচিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদ শোষণ করছে, কিন্তু বালোচ জনগণ সেই সুবিধা পাচ্ছে না। ইসলামাবাদকে তারা পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখে এবং মনে করে, এই শহরে হামলা চালাতে পারলে তাদের বার্তা আরও শক্তিশালী হবে।বালোচিস্তানের মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ বলেছেন, “বিদ্রোহীদের নির্মূল করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে, এবং অভিযানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।”পাকিস্তানের রেল বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, “আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল ছিল, তাই বিদ্রোহীরা সহজেই ট্রেনে হামলা চালাতে পেরেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ইতিমধ্যেই বালোচিস্তানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে এয়ারস্ট্রাইক ও গ্রাউন্ড অপারেশন চলছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু সামরিক অভিযান চালিয়ে বিদ্রোহীদের দমন করা সম্ভব নয়, বরং রাজনৈতিক আলোচনার প্রয়োজন।
এই ঘটনার পর বালোচিস্তানের সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে মনে করেন, বিদ্রোহীরা তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করছে, আবার অনেকেই এই সহিংসতাকে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছেন।একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “বালোচিস্তানের মানুষ বছরের পর বছর অবহেলিত। সরকার আমাদের জন্য কিছু করে না, তাই বিদ্রোহীরা বাড়ছে। কিন্তু নিরপরাধ মানুষদের জিম্মি করা কখনোই সমাধান হতে পারে না।”