Asansol-Purulia National Highway in poor condition, traffic jams a problem:আসানসোল থেকে পুরুলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত জাতীয় সড়কের বেহাল দশা দিনের পর দিন সাধারণ মানুষের যাতায়াতকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির বর্তমান অবস্থা এতটাই খারাপ যে, যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড়সড় দুর্ঘটনা। আজ সকালেই সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। রাস্তায় জায়গায় জায়গায় তৈরি হওয়া বড় বড় গর্তে পড়ে একসঙ্গে দুটি গাড়ি বিকল হয়ে যায়, যার ফলে দীর্ঘ সময় ধরে রাজ্য সড়কের দুই দিকে গাড়ির লম্বা লাইন তৈরি হয় এবং যাত্রীদের মধ্যে দেখা যায় প্রবল ক্ষোভ ও হতাশা। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষদের অবস্থা হয় সবথেকে করুণ—সময়মতো অফিসে পৌঁছানো তো দূরের কথা, কেউ কেউ গাড়ি থেকে নেমে হেঁটেই রওনা দেন গন্তব্যের দিকে।এই রাস্তাটি শুধু আসানসোল ও পুরুলিয়ার যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যমই নয়, সঙ্গে সঙ্গে এটি শিল্পাঞ্চল, কয়লাখনি এবং রেলপথ সংলগ্ন এলাকাগুলোর জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এই বেহাল চিত্র আজ শুধু স্থানীয়দের নয়, প্রশাসনেরও ব্যর্থতার ছবি তুলে ধরছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। স্থানীয় এক বাসিন্দা তথা ব্যবসায়ী শ্রীমান রতন প্রসাদ বলেন, “প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে পণ্য নিয়ে আসা-যাওয়া করি। অনেক সময় ট্রাকে ধাক্কা লাগে, চাকা ফেটে যায়। প্রশাসনের কাছে বহুবার লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে কিন্তু কোনও কাজ হয়নি।
” অন্যদিকে হিরাপুরের বাসিন্দা কলেজ পড়ুয়া অঙ্কিতা জানিয়েছে, “আজ টিউশনেই পৌঁছতে পারিনি। মাঝপথে নেমে হেঁটে যেতে হয়েছে। প্রায়ই এমন হয়। রাস্তাটাকে মাইনফিল্ড বলে মনে হয়।”রাস্তায় গর্তগুলোর কারণ সম্পর্কে স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কোনো রকম পিচ ঢালাই বা মেরামতির কাজ হয়নি। বর্ষার জলে রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয় এবং দিনের পর দিন ভারী ট্রাক ও লরি চলাচলের ফলে এই গর্ত আরও বড় হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তগুলো জলে ভরে যায় এবং তা বোঝা যায় না, ফলে চালকেরা ঝুঁকিতে পড়েন। বিশেষ করে যারা বাইক বা ছোট গাড়ি চালান, তাঁদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক।এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিগত কয়েক মাস ধরে বহুবার আবেদন জানানো হলেও, সড়ক মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অথচ এই রাস্তাটি রাজ্যের শিল্প ও পরিবহণ ব্যবস্থার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মানুষ মনে করছেন, যদি এখনই প্রশাসন উদ্যোগ না নেয়, তাহলে আগামী দিনে এই রাস্তায় বড়সড় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যায়।

অন্যদিকে আসানসোল পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সড়কটি জাতীয় সড়ক দপ্তরের আওতায় পড়ে এবং বিষয়টি তাঁদের নজরে আনা হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা বা মেরামতির ঘোষণা করা হয়নি। এক আধিকারিক জানান, “আমরা সমস্যাটা জানি। দপ্তরে জানানো হয়েছে, বর্ষা কমলেই রাস্তাটি সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।” কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন—“ততদিনে যদি আর কেউ না থাকে বেঁচে?”এই সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে শুধু ব্যক্তিগত বা যাত্রী পরিবহণ নয়, রাজ্যের শিল্প পরিবহণ ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। কয়লাখনি, ইস্পাত কারখানা, সিমেন্ট শিল্প—সবই এই পথে নির্ভরশীল। প্রতিদিন হাজার হাজার লরি, ট্রাক, মালবাহী যানবাহন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে এবং একবার যানজট শুরু হলে তা কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ হয়ে দাঁড়ায়। এতে শুধু সময় নষ্ট হয় না, আর্থিক ক্ষতিও হয় বিপুল।