Saturday, August 30, 2025
Google search engine
Homeঅন্যান্যআমেরিকায় হিন্দু মন্দিরে ফের খলিস্তানি হামলা

আমেরিকায় হিন্দু মন্দিরে ফের খলিস্তানি হামলা

Another Khalistani attack on Hindu temple in America:বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ভারতীয় প্রবাসীরা শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, সাংস্কৃতিক দিক থেকেও তাঁদের শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখতে হিন্দু মন্দির ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন। এই মন্দিরগুলি শুধু উপাসনার স্থান নয়, প্রবাসী ভারতীয়দের মিলনস্থল ও ঐতিহ্যের প্রতীকও বটে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এই পবিত্র স্থানগুলিই একাধিকবার হামলার নিশানায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে খলিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা একাধিক দেশে হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুর ও ভারত-বিরোধী প্রচার চালিয়ে আসছে। এই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ সংযোজন হল আমেরিকার ইন্ডিয়ানার গ্রিনউড শহরের বিএপিস স্বামী নারায়ণ মন্দিরে সংঘটিত হামলা।প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ইন্ডিয়ানার ওই মন্দিরে রাতে খলিস্তানি সমর্থকরা ঢুকে ভাঙচুর চালায়। মন্দিরের দেওয়াল জুড়ে স্প্রে পেইন্ট দিয়ে লেখা হয় ভারত-বিরোধী স্লোগান এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে কটূক্তি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মন্দিরের দেওয়ালে লাল ও কালো রঙে খলিস্তানি প্রতীক এবং স্লোগান স্পষ্ট। উদ্বেগের বিষয় হল, এটি গত এক বছরের মধ্যে গ্রিনউডের ওই মন্দিরে চতুর্থ হামলা।স্থানীয় সময় ভোরে মন্দির কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি টের পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে তদন্ত শুরু করেছে এবং ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। তবে হামলাকারীদের এখনো সনাক্ত করা যায়নি।

এই ঘটনার পর মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্ত ও প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।ভারতের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে গভীর উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়াশিংটনে ভারতীয় দূতাবাস মার্কিন প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছে। মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।অন্যদিকে, ইন্ডিয়ানার স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ধর্মীয় স্থানে হামলা সহ্য করা হবে না এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। স্থানীয় পুলিশ মন্দিরের নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় টহল জোরদার করেছে।গ্রিনউডে বসবাসকারী এক প্রবাসী ভারতীয় জানালেন, “আমরা এখানে শান্তিতে থাকি, মন্দিরে এসে প্রার্থনা করি। কিন্তু এই ধরণের হামলা আমাদের মনোবল নষ্ট করছে। পরিবার ও বাচ্চাদের নিয়ে এখন মন্দিরে আসতেও ভয় লাগছে।”একজন মন্দির স্বেচ্ছাসেবক বলেন, “এটি শুধু ভাঙচুর নয়, আমাদের সংস্কৃতি, বিশ্বাস ও অস্তিত্বের উপর সরাসরি আঘাত। আমরা চাই, আমেরিকার মাটিতে যারা এই ধরনের সন্ত্রাস চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”খলিস্তানি আন্দোলনের ইতিহাস দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী। দেশভাগের সময় শিখ সম্প্রদায়ের একাংশ পৃথক রাজ্য ‘খলিস্তান’-এর দাবি তুলেছিল।

Screenshot 2025 08 14 165735

পরবর্তীতে ১৯৮০-এর দশকে এই আন্দোলন চরমপন্থী রূপ নেয়। ১৯৮৪ সালের জুন মাসে স্বর্ণমন্দিরে ‘অপারেশন ব্লু স্টার’ চালিয়ে ভারতীয় সেনা জারনেল সিং ভিন্দ্রানওয়ালে এবং তাঁর সঙ্গীদের নির্মূল করে। সেই থেকে এই গোষ্ঠীর একাংশের মধ্যে ভারতের প্রতি গভীর বিদ্বেষ রয়ে গেছে, যা বিদেশের মাটিতেও ছড়িয়ে পড়েছে।লন্ডন, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার মতো দেশেও অতীতে হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার উদ্দেশ্য কেবল ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি নয়, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতবিরোধী প্রচার বাড়ানো। এই ধরনের কর্মকাণ্ড প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে এবং ভারতীয় সংস্কৃতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে।এই ঘটনার পর প্রবাসী ভারতীয় সমাজে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি তীব্র হয়েছে। শুধু মন্দিরেই নয়, ভারতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও কূটনৈতিক ভবনগুলির ক্ষেত্রেও বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মার্কিন প্রশাসনের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ—ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা ও ঘৃণাত্মক অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
ভারতের পক্ষ থেকেও প্রবাসী নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানো হতে পারে। একইসঙ্গে, প্রবাসী ভারতীয় সংগঠনগুলির মধ্যে ঐক্য বাড়িয়ে এই ধরনের হামলার বিরুদ্ধে যৌথভাবে আওয়াজ তোলার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments